পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রশাসনে স্থবিরতা : শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

  আখতারুজ্জামান আখতার, পাবনা ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষা

২০০৯ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি)। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে শুরুটা তেজদীপ্ত হলেও মাত্র দু’বছর যেতে না যেতেই নানা আন্দোলন সংগ্রামে ছন্দপতন দেখা দেয় পাবনাবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের এ বিদ্যাপিঠটিতে।

কখনও কর্মকর্তা-কর্মচারী, কখনও শিক্ষার্থী বা ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে এসব আন্দোলন পরিচালিত হয়। এরপর থেকে নানা আদলে এখন পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর থেকে পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী প্রথমে ৪ দফা, তারপর ১২ দফা এবং পরে উপাচার্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এসব আন্দোলনের কারণে পাবিপ্রবিতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতাসহ শিক্ষা কার্যক্রম অলিখিতভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

এবারের আন্দোলন যেভাবে শুরু : পাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ জানান, গত ২৪ অক্টোবর পাবিপ্রবির ইতিহাস ও বাংলাদেশ স্টাডি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ক্যাম্পাসে তুলকালাম কাণ্ড ঘটান মনিরুল ইসলাম নামক এক প্রার্থী। মনিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জনসংযোগ দফতরের উপ-পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী ঘটনার দিন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিকালে মনিরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে এসে পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ সদস্যসহ উপাচার্য, উপ-উপাচার্যকে আকস্মিকভাবে গালিগালাজ করেন। পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ওই পরীক্ষার্থী পুরো নিয়োগ পরীক্ষাকে বিতর্কিত করার জন্য উপাচার্যকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি গোপনে মোবাইলে ধারণ করেন। পরবর্তীতে পূর্ব-পরিকল্পিত ধারণকৃত অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাবনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

এদিকে উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে মনিরুল ইসলামের ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার ওই অডিও ফেসবুকে ভাইরাল করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ২৮ অক্টোবর তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিসহ চার দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন পাবিপ্রবি ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে তারা ১২ দফা দাবি নিয়ে একইভাবে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এর দু’দিন পর থেকে উপাচার্য এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের এক দফা দাবির আন্দোলনের ঘোষণা দেন। আন্দোলনকারীরা জানান, ১২ দফা দাবি পূরণে বেঁধে দেয়া সময়সীমা পার হলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তারা। প্রক্টর প্রীতম কুমার দাস বলেন, আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকে তালা মেরে ক্যাম্পসে বিক্ষোভ এবং উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসতে পারেনি। এজন্য শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার কারণে আপাতত তারা আন্দোলন স্তিমিত করেছেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেভাবে আন্দোলন : ১০ বছর বয়সী পাবিপ্রবিতে এখন ৪র্থতম উপাচার্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠাকালীন উপাচার্য প্রফেসর আমিন উদ্দিন মৃধাকে চুক্তির ৩ বছর বাঁকি থাকতেই বিদায় দেয়া হয়। ২০১১ সালে যোগ দেন প্রফেসর ড. মোজাফ্ফর হোসেন। ২০১৪ সালে প্রকাশ্যে দিবালোকে ওই সময়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মুশফিকুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর ৩য়তম উপাচার্য প্রফেসর ড. আল নকীব চৌধুরীর সময়ে ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালানো হয়। সে সময় পাবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের দরজা জানালা ভাংচুর, নতুন আনা বাস ও অ্যাম্বুলেন্স আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এভাবে এখন পর্যন্ত কখনও কর্মকর্তা-কর্মচারী, কখনও শিক্ষার্থী বা ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আন্দোলন সংগ্রামে অস্থিরতা জিইয়ে রয়েছে। উপাচার্যের বক্তব্য : পাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. এম রোস্তম আলী ঘটনার বর্ণনায় বলেন, ইতিহাস ও বাংলাদেশ স্টাডি বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য মনিরুল ইসলাম পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সঙ্গে যোগসাজশে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে মনিরুল ইসলাম মোবাইল ফোনের রেকর্ড অপশন অন করে প্রকাশ্যে তাকে অশোভনীয় চার্জ করেন। পরে ওই অডিও ইন্টারনেটে আপলোড করেন। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য মনিরুল ইসলাম বেশ ক’জন প্রভাবশালীকে দিয়ে তাকে চাপ দেন। কিন্তু তিনি কোনো অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিক পাবনা সদর এমপি, কয়েকজন রিজেন্ট বোর্ড সদস্যসহ শিক্ষামন্ত্রীকে জানান।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×