থেমে থেমে চলছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

  রাব্বী হাসান সবুজ, বেরোবি ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

চলতি বছরের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন দাবি পূরণের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলনের কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) অনেকটা থেমে থেমেই চলছে। চলতি বছরের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা শেষে ফের বিশ্ববিদ্যালয় উত্তপ্ত হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গত বছরে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ভর্তি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখাসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে ভিসি তাদের দাবি মেনে নিলেও ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের এবারও ভর্তি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকায় ক্যাম্পাসে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল চ্যান্সেলর কর্তৃক শর্তানুযায়ী ভিসিকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতি স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের নির্বাচন আয়োজন, শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে সেশনজট নিরসনসহ ১৭ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে ভিসিকে স্মারকলিপি দেয় ‘সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ’। তবে সংবাদ সম্মেলনের পরদিন সংগঠনটির সভাপতি রোকনুজ্জামান রবিউল ও সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদকে মধ্যরাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যায় এবং নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে মিল রেখেই এর আগে ১৬ এপ্রিল ১৮ দফা দাবিতে ভিসিকে স্মারকলিপি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এছাড়াও ভিসির অনুসারী না হওয়ার বেশ কয়েকজন শিক্ষকের এনওসি ও অভিজ্ঞতা সনদ, শিক্ষাছুটি না পাওয়ায় অভিযোগ রয়েছে। চলতি সালের ১০ মার্চ থেকে টানা ২৮ দিন ধরে ভিসির ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আমিনুর রহমানকে পদ থেকে অব্যাহতিসহ ১১ দাবিতে আন্দোলন করে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। কর্মকর্তাদের দাবির বিষয়ে ভিসি আশ্বাস দিলেও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এরপর গত ২৩ জুন থেকে টানা ৫০ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীবান্ধব পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন, বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে উত্তপ্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও ভিসির বিরুদ্ধে কর্মচারিতের ওপর হামলা ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া কয়েকজন কর্মচারীর বকেয়া বেতন অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ওপর চরম ক্ষিপ্ত শাখা ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের একাংশকে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর মামলা দিয়ে ক্যম্পাসের বাইরে রাখা ও বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকার চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেন। এতে শাখা ছাত্রলীগের দু-পক্ষই ভিসির ওপর ক্ষিপ্ত। সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের চাপা ক্ষোভের কারণে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×