দেশ এগুলেও সুখ নেই মানুষের মনে

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ০৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশ এগুলেও সুখ নেই মানুষের মনে

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে চলেছে বাংলাদেশ। জিডিপি বেড়েছে তারপরও দেশের মানুষের মনে সুখ নেই, সুখ পাখিটা যেন উড়ে গেছে দূরে।

অনেকদিন আগে শোনা একটি গানের প্রথম কলিটা এ রকম : ‘আমি তো ফুল ভেবে কেবলই ভুলের বোঝা বাড়িয়েছিলাম। সুখের পায়রাটাকে রাখবো খাঁচায় পুরে দুঃখগুলো আজ উড়িয়ে দিলাম।’

সবাই সুখী হতে চায়, অথচ সবার জীবনে কোন না কোন অপূর্ণতা থেকেই যায়। সুখের জন্য সবারই নিরন্তর হাহাকার। সুখ দুঃখের পরিমাপ হয় একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

সাধারণ মানুষের বক্তব্যে, সুখের পাখিটা যেন দেশ থেকে উড়তে উড়তে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। এ বছর এক আন্তর্জাতিক জরিপে সুখী দেশের তালিকায় পাঁচ ধাপ পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৫৬ টি দেশের মধ্যে মাত্র দু’বছরের মাথায় ১১০ থেকে ১১৫ তে নেমে গেছে বাংলাদেশের অবস্থান।

বিভিন্ন কারণে সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে, বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। প্রতিদিনের খবরের কাগজ উল্টালেই চোখে পড়ছে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ, ইভটিজিং, খুন, সন্ত্রাসবাদ, ছিনতাই, রাহাজানিসহ আর বিবিধ অপরাধের খবর।

পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে বাড়ছে হতাশা, পারিবারিক বন্ধনগুলো ক্রমেই ঢিলে হয়ে আসছে। সমাজ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সামাজিক অস্থিরতা।

জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশনস নেটওয়ার্কে এসডিএসএন ১৫৬টি দেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২০১৮ সালে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

মাথাপিছু আয়, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও গড় আয়ু এবং দুর্নীতির মাত্রার মতো কয়েকটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রতি বছর এই তালিকা তৈরি করে এসডিএসএন।

সূচকে সবচেয়ে অসুখী দেশ হিসেবে সবার শেষে স্থান পেয়েছে আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি। ২০১৭ সালে সুখী দেশের তালিকায় ১৪ নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এ বছর চার ধাপ পিছিয়ে রয়েছে ১৮তম অবস্থানে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ৭৫তম অবস্থানে থেকে সবচেয়ে সুখী দেশ হচ্ছে পাকিস্তান। বিপরীতে ১৩৩তম অবস্থানে থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অসুখী দেশ হচ্ছে ভারত।

বাংলাদেশের এই অধঃপতন সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক শাহ এহসান হাবিব বলেন, বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে যে এক ধরনের ফারাক তৈরি হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

আর প্রযুক্তি বিকাশের কারণেই এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। প্রযুক্তি বিকাশের কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে শিখেছে। ফলে অনেক সময় তাদের মনে এক ধরনের হতাশারও তৈরি হচ্ছে।

তারা জানতে পারছে অন্যরা কী পাচ্ছে আর আমরা কী পাচ্ছি? দেশের মানুষের কাছে আর্থিক মানদণ্ডের চেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা, চিকিৎসার সুযোগ- এগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

১০ বছর আগে যে বিষয়গুলো বাংলাদেশের মানুষকে সুখী করতে পারত, এখন হয়তো সেগুলো আর পারছে না। এখন সুখের জন্য আরও নতুন উপকরণ যুক্ত হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

পেঁয়াজ ও চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেই। সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসেছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বোঝা। জীবন ধারণের উপযোগী প্রতিটি জিনিসের অগ্নিমূল্য। চাল, ডাল, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস, তেল, তরিতরকারি, ফলমূল, চিনি আর লবণসহ সবকিছুই আগের তুলনায় দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে চাকরিজীবী আর খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সামনেই রমজান মাস। সম্ভবত মে মাসের শেষ দিকেই শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান।

যেহেতু রমজান এলে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ লাগাম ছাড়া হয়ে যায় সেহেতু দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক প্রকাশিত ১৮ মার্চে দ্রব্যমূল্যের তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, বিগত এক বছরে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। প্রকারভেদে চালের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৪ টাকা থেকে ২৭ টাকা পর্যন্ত।

দাম বেড়েছে আটা-ময়দারও। বিগত এক বছরের হিসাবে আটা-ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে দুই থেকে আট টাকা। সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে লিটারে সর্বোচ্চ দুই টাকা। মসলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দাম বেড়েছে পিঁয়াজের। তালিকায় দেখা যায়, দুই/একটি পণ্য ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়ছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম মনে করেন, বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের বাজারে নৈরাজ্য চলছে। বাজার কারও নিয়ন্ত্রণে নেই।

অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের হাতে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। আখের গোচাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। প্রান্তিক কৃষকরা সঠিক মূল্য পান না আবার ভোক্তাদের পকেট কাটা দর রাখা হচ্ছে।

সরকারি-বেসরকারি সংস্থার জরিপে দেখা যায়, গত এক বছরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ। বিপরীতে আয় বেড়েছে ৬ থেকে ৮ শতাংশ।

যেসব খাতে খরচ বেড়েছে এর মধ্যে রয়েছে- বাড়িভাড়া, নিত্যপণ্য, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, যানবাহনের ভাড়া এবং চিকিৎসা ব্যয়। ওই হিসাবে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে ১০ শতাংশ বেশি।

আর এই বাড়তি ব্যয় মেটাতে মানুষকে সীমাহীন কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। নিুআয়ের মানুষ বড় কোনো রোগ না হলে চিকিৎসা নিচ্ছে না। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচক প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘নাম্বিও’।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১২১ দেশের সূচক প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান ৯৬তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সবচেয়ে বেশি।

অর্থাৎ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০১তম এবং ২০১৫ সালে ছিল ১০৯তম। পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি বছরই বাংলাদেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।

পারিবারিক কলহের কারণে অশান্তি

পরিবার আমাদের সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম মূল ভিত্তি। এ সময়টায় বিভিন্ন কারণে পারিবারিক কলহের ঘটনা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে পরিবারের এক সদস্যের হাতে আরেক সদস্যের খুন হওয়ার ঘটনা।

স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুদের। পারিবারিক কলহের কারণে পরিবারের সবাই একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। মানুষ এখন শুধু ঘরের বাইরেই নয়, তার আপনজনদের কাছেও নিরাপদ নন।

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ বিভাগের তথ্যানুযায়ী বছরে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ সংঘটিত হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে। সবকিছু মিলিয়ে অশান্তির মূলে রয়েছে পারিবারিক কলহ।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অনটন, অর্থের প্রতি প্রবল দুর্বলতা, চাওয়া-পাওয়ার অসঙ্গতির কারণে দাম্পত্য কলহ ও স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতা, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্থিরতা, অন্য দেশের সংস্কৃতির আগ্রাসন, স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা, বিষণ্ণতা ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন কারণে খুনের ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ জন। আর এর অধিকাংশই পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৩ জন খুন হচ্ছে। প্রতিদিন আত্মহত্যা করছে ২৯ জন। আর গড়ে প্রতিদিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রায় ৫৭ নারী।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার (বিএমবিএস) তথ্য অনুযায়ী গত ছয় বছরে পারিবারিক কলহে সারা দেশে নিহত হয়েছেন ১৮৪৮ নারী-পুরুষ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, পারিবারিক বা সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখাটা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।

এজন্য পরিবার বা সমাজের যারা অভিভাবক তাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। পুলিশ তার সাধ্যানুযায়ী নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে এ ধরনের অপরাধের লাগাম টানার চেষ্টা করছে।

বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে উঠান বৈঠকে এ ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। তবে সন্তান ঘরের বাইরে বের হয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এ ব্যাপারে অভিভাবককে খোঁজখবর রাখতে হবে।

মনোবিজ্ঞানী মোহিত কামাল জানান, সমাজে কেউ অপরাধী হয়ে জন্মায় না। মানুষ অপরাধী হয়ে ওঠে পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ সময় সে পরিবেশ তার কাছের মানুষই তৈরি করে দেয়।

কখনও কখনও সমাজে মানুষদের আচরণ, অসহযোগিতার কারণে পরিবারে, সমাজে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মাত্রা বেড়ে যায়। সামগ্রিক সামাজিক অস্থিরতা, সন্তানকে নিয়ে অতিমাত্রার উৎকণ্ঠা, পারিবারিক কলহ, সবকিছু নিয়ে মানুষ যেন অধৈর্য হয়ে পড়েছে।

এগুলো প্রাকৃতিক কিছু নয়, এগুলো মানুষ দ্বারাই সৃষ্ট। এজন্য স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক সচেতনতা ও সম্প্রীতি বাড়াতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

বিষণ্ণতায় ডোবা বৃহৎ জনগোষ্ঠী

বিভিন্ন কারণে মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা-বিষণ্ণতাসহ বিভিন্ন মানসিক রোগ। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছেন।

আর বাংলাদেশে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থাৎ ৭৪ লাখেরও বেশি। বিগত দশ বছরে বিশ্বব্যাপী এ রোগের ব্যাপকতা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। শুধু বিষণ্ণতার কারণে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন।

নানা কারণে একজন মানুষের মধ্যে বিষণ্ণতা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিষণ্ণতার বিভিন্ন কারণের মধ্যে অন্যতম হল পারিবারিক সমস্যা বা কলহ।

এছাড়া ব্যক্তিগত এবং সামাজিক কারণেও একজন মানুষের মধ্যে বিষণ্ণতাবোধ চলে আসতে পারে। অনেক সময় মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপদান কমে গেলে একজন মানুষ বিষণ্ণ হয়ে পড়েন।

পেশাগত ঝামেলা, অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা মানসিক চাপ থেকে এ সমস্যাটির শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক কলহের কারণেই সবচেয়ে বেশি মানুষ বিষণ্ণতা, একাকিত্ব কিংবা মানসিক রোগে আক্রান্ত হন।

যেমন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হলে, বিশ্বাস না থাকলে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেউ অন্য কোনো নারী-পুরুষে আসক্ত হলে মানসিক অশান্তি থেকে রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পরিবারের ছেলেমেয়েরাও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জাতীয় মানসিক ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ফারুক আলম যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নানা কারণে বিষণ্ণতায় ভুগছেন।

আমাদের মোট জনসংখ্যার হিসাবে বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন লোকের সংখ্যা ৭২ লাখ। কাজেই এ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতেই হবে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা বা সমাজে সুখ আনতে হলে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ, দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চা, নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।

আর এসব বিষয়ে সার্বিকভাবে সকলের সচেতনতা প্রয়োজন। সমাজের এ অস্থিরতা দূর করতে এখনই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে অদূর ভবিষ্যতে মারামারি-হানাহানি, মূল্যবোধের অবক্ষয় আরও বাড়বে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল থেকে বঞ্চিত হবে দেশের মানুষ।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.