ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ১০ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে

দেশব্যাপী হঠাৎ বেড়ে গেছে ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধারাও। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। অপসংস্কৃতি, আকাশ সংস্কৃতি, অশ্লীলতা, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা কারণে দিনে দিনে সামাজিক অবক্ষয় আর অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে।

পাশাপাশি অশ্লীলতার আগ্রাসনে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চরম নৈতিক অবক্ষয়, আকাশ সংস্কৃতি, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা।

গত বছর প্রতিদিন গড়ে ১৪ জনের বেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনজনের বেশি নারী। চলতি বছরেও পরিসংখ্যানটা সেদিকেই যাচ্ছে।

এক সপ্তাহের পর্যালোচনা

খবরের কাগজ ওল্টালেই ধর্ষণের খবর। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ৮ এপ্রিল দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মোবাইলফোনে পরিচয়ের পর বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে এক কিশোরীকে ডেকে এনে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

একইদিনে নরসিংদীতে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশের প্রাথমিক সুরতহালে ওই নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়াও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক নববধূকে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দু’জনকে আটক করেছে।

৬ এপ্রিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় স্বামীকে ঘরে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার পর দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ৫ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরে ১৩ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধর্ষণের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেন না প্রতিবন্ধীরাও। ৫ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বপন নামের এক যুবককে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

২ এপ্রিল সাভারের ভাকুর্তার চাইরা গুদারাঘাট এলাকায় এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ এক যুবককে আটক করেছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ডাঙ্গাপড়া এলাকার এক কিশোরীকে ৬ মাস ধরে নাটকীয়ভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় ৩ এপ্রিল কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধর্ষকসহ চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন।

১ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী ইকোপার্কে এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষিতার চিৎকারে উপস্থিত পর্যটক ও বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পুলিশ তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে।

একইদিনে লক্ষ্মীপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। যতটুকু তুলে ধরা হল ধর্ষণের চিত্র এর চেয়ে ভয়াবহ। তবে গণমাধ্যমের আড়ালে এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে।

গত তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১৮৭

সারা দেশে ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮৭ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৯ জনকে আর আত্মহত্যা করেছেন দুজন।

এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ২১ নারীর ওপর। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আসকের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মারা গেছে ৪৬। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ২৭ নারী। এর ফলে আত্মহত্যা করেছেন একজন, প্রতিবাদ করায় নিহত হয়েছেন দুজন পুরুষ। এছাড়া হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ৩২ নারী ও পুরুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন মাসে ৪২২ শিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জনকে হত্যা, ২৬ শিশু আত্মহত্যা। নিখোঁজের পর দুজন ও বিভিন্ন সময়ে ২০ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গর্ভপাতের সময় মৃত্যু হয়েছে একজনের। এছাড়া রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে ৭ শিশুর। এসময় পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১০৭ নারী। এর মধ্যে ৭৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ১৪ জন।

এছাড়া শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৮ নারী। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫৫ নারী। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২১। নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন চারজন। এছাড়া স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে ৯ নারীকে।

এসময়ে ১১ গৃহকর্মী বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এসিডদগ্ধ হয়েছেন তিনজন। সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনজন।

বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ- এ তিন মাসে ১৭৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৫৫ এবং মার্চে ৬৬ শিশু ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৫৫ জনের বেশি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে; যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৮৬ জন, ২০১৩ সালে ১৭৯, ২০১৪ সালে ১৯৯, ২০১৫ সালে ৫২১, ২০১৬ সালে ৪৪৬ এবং ২০১৭ তে ৫৯৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ২৮ শিশুকে হত্যা এবং ৪৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুস শহীদ মাহমুদ তাদের বার্ষিক শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৭ পর্যালোচনা করে ‘স্টেট অফ চাইল্ড রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেন, ২০১৭ সালে ৫৯৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে যার মধ্যে ৭০ শিশু গণধর্ষিত হয়েছে, ৪৪ প্রতিবন্ধী বা বিশেষ শিশু ধর্ষিত হয়েছে, ২২ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং সাত শিশু ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়াও ৭২ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

২০১৭ সালে ৫১ শিশু ইভটিজিং এবং ৯০ শিশু যৌন নিপীড়ন-হয়রানির শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেইসঙ্গে অব্যাহতভাবে বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকালে বখাটেদের উৎপাত এবং পর্নোগ্রাফির শিকারের ঘটনা। ২০১৭ সালে বখাটেদের হাতে লাঞ্ছনা, মারধর এমনকি হামলায় জখম হয়েছে ৬২ শিশু এবং প্রতিবাদ বা প্রতিহত করতে গিয়ে বখাটেদের হামলায় আহত হয়েছে ৫০-এর বেশি অভিভাবক।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে শিশু হত্যা এবং ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৭ সালে ৩৩৯ শিশু হত্যা এবং ৫৯৩ শিশু ধর্ষণে শিকার হয়েছে, যা ২০১৬ সালের চেয়ে ২৮ শতাংশ এবং ৩৩ শতাংশ বেশি। সেইসঙ্গে বেড়েছে গণধর্ষণ, প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, বখাটেদের মারধর-কুপিয়ে জখম করা এবং গোপনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা।

২০১৬ সালে ৩৫৮৯ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪৪১ শিশু অপমৃত্যুর এবং ৬৮৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। অর্থাৎ ২০১৭ সালে সামগ্রিকভাবে শিশু নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যার মধ্যে শিশু অপমৃত্যু এবং যৌন নির্যাতন বেড়েছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ধর্ষণের মামলা চলাকালীন বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা আইনের আশ্রয় নিতে অনীহা তৈরি করে বলে মনে করেন শিশু অধিকার কর্মীরা। মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, জামিন অযোগ্য অপরাধ হওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে জামিন পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরাধ করে সহজে জামিন পাওয়া গেলে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যায়। শিশু ধর্ষণের ব্যাপারে যদি আলাদা সেল করা হয়, মামলার গতি তদারকি করা হয়, তাহলে এ ধরনের অপরাধ অনেকটা কমতে পারে।

ধর্ষণ মামলায় সাজা পায় না ধর্ষকরা

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সচেতনা বেড়েছে। তারপরও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারীরা। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় প্রায় প্রতিদিনই আদালত চত্বরে যেতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। কিন্তু অপরাধীরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের সাজাও হচ্ছে না। নীরবে-নিভৃতে কাঁদছে বিচারের বাণী।

একটি গণমাধ্যমে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা জেলার পাঁচটি ট্রাইব্যুনালে ২০০২ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৭ হাজার ৮৬৪টি। এসময় মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল ৪ হাজার ২৭৭টি। সাজা হয়েছিল ১১০টি মামলায়। অর্থাৎ বিচার হয়েছিল ৩ শতাংশের কম। বাকি ৯৭ শতাংশ মামলার আসামি হয় বিচার শুরুর আগেই অব্যাহতি পেয়েছে, নয়তো পরে খালাস পেয়ে গেছে।

নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর ৪১ শতাংশের ক্ষেত্রে আসামিরা বিচার শুরুর আগেই অব্যাহতি পেয়েছে। আর ৫৫ শতাংশ মামলায় সাক্ষ্য শুনানির শেষে আসামিরা বেকসুর খালাস পেয়েছে। কিছু মামলা নিষ্পত্তির কারণ নিবন্ধন খাতায় লেখা নেই, কয়েকটির নিষ্পত্তি হয়েছে আসামির মৃত্যুতে। এভাবে ৯৭ শতাংশ মামলার আসামির বিরুদ্ধেই এসব গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

আরেক হিসাব অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পুলিশের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঁচ হাজার তিনটি ধর্ষণের মামলা হয়। এর মধ্যে রায় ঘোষণার হার ৩ দশমিক ৬৬ ভাগ এবং সাজার হার শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ। সর্বশেষ প্রাপ্ত হিসাবে ২০১৭ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৪৩ হাজার ৭০৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার মামলায় এক লাখ আসামি খালাস পেয়েছে। আর ধর্ষণ মামলায় খালাস পেয়েছে ৮৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ আসামি। নারী নির্যাতনের মামলায় আসামি খালাসের পরিমাণ ৯৫ শতাংশ।

নারীপক্ষের এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দেশের ছয়টি জেলায় ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা তিন হাজার ৬৭১টি মামলায় মাত্র চারজনের সাজা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তে অবহেলা, গাফিলতি আর অদক্ষতার কারণে পার পেয়ে যায় অপরাধীরা। অনেক সময় আদালতে সাক্ষী আনা আর সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে পুলিশ আর পিপিদের অযতœ ও গাফিলতি থাকে। অনেক সময় টাকা খেয়ে মামলা ঘুরিয়ে দেয়ার অনেক ঘটনাও রয়েছে।

মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আয়শা খানম বলেন, দেশের ধর্ষণ আইন অনুযায়ী সাক্ষী থাকতে হয়। কিন্তু ধর্ষণ করার সময় কেউ নিশ্চয়ই সাক্ষী রেখে ধর্ষণ করবে না। ধর্ষণের মতো অপরাধ বন্ধ করতে হলে সামগ্রিকভাবে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

নারী নির্যাতন সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অহরহ। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেটাও যথার্থ নয়।

তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের মোট নারীর ৭ শতাংশই জীবনের যে কোনো সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের নানা দিক নিয়ে গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন।

তিনি বলেন, মূলত দরিদ্র শ্রেণীর শিশুরা শ্রমজীবী বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে দুর্ঘটনার শিকার হয়। অনেকে আবার এমন নির্যাতনের শিকার হয়েও অজ্ঞতা আর সামাজিক মর্যাদা হানির আশঙ্কায় আদালত বা পুলিশের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছেন না। ফলে এসব অপরাধ দিন দিন বাড়ছেই।

নির্যাতিত নারী ও শিশুদের অনেকে জানেন না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। প্রতিনিয়তই নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে; কিন্তু ঠিকমতো বিচার হচ্ছে না। অনেক সময় বাইরে মিটমাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে অপরাধীরা আশকারা পেয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে না হলে সামনে এমন অপরাধের ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter