আবার সেই সড়ক দুর্ঘটনা : বেড়েছে প্রাণহানি

  যাকারিয়া ইবনে ইউসুফ ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবার সেই সড়ক দুর্ঘটনা : বেড়েছে প্রাণহানি

রাজধানীসহ সারা দেশে সড়কপথে দুর্ঘটনা আবার বেড়ে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ নিহত, আহত ও পঙ্গু হচ্ছেন, অন্য কোনো ক্ষেত্রে এমনটি হচ্ছে না।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায় বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনা, ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল, লাইসেন্সবিহীন হেলপারদের গাড়ি চালনা, একই রাস্তায় দ্রুত ও ধীরগতির যানবাহনের একত্রে চলাচল, সড়কের দুরবস্থা, আইন অমান্য ও বিচারহীনতার কারণে সড়কপথ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

চার মাসে নিহত ২ হাজার ১২৩

প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়কপথে দুর্ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১২৩ জন নিহত ও ৫৫৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

সংস্থাটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এতে দেশের ৬টি বিভাগীয় হাসপাতালের তথ্য অনুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ মাসে মারা গেছেন ২০৬ জন। বিদায়ী বছরের একই সময়ে ছোট-বড় ১৭৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৭৯ জন নিহত ও ৪৭২৭ জন আহত হয়েছিল।

ফলে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মোট দুর্ঘটনা ১ দশমিক ৬ শতাংশ, নিহত ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আহত ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যাত্রী কল্যান সমিতি বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে মালিক-শ্রমিক-যাত্রী-সরকার মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, ফিটনেসবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন উচ্ছেদ করে মানসম্মত যানবাহনের ব্যবস্থা, চালকদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, চালকদের হাতে দৈনিক চুক্তিভিক্তিক বাস, ট্রাক, হিউম্যান হলারসহ অন্যান্য যানবাহন ইজারা দেয়া বন্ধ করা, দেশের সব বেহাল সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ, বিআরটিএকে শক্তিশালীকরণ, পরিবহন খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং ফুটপাত নির্মাণ ও সংস্কারসহ ফুটপাত দখলমুক্ত করে হাঁটার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দুর্ঘটনার হার কমে যাবে।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ নিয়ন্ত্রণহীন গতি

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছেই। যাত্রীকল্যাণ সমিতির হিসাব বলছে, ২০১৭ সালে আগের বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ২২ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বলছে, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হল চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও গতি।

বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউট (এআরআই) বলছে, ১৯৯৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৭ বছরের ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে ৫৩ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো।

বলা হচ্ছে, চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে ৩৭ শতাংশ। পাশাপাশি পরিবেশ-পরিস্থিতিসহ অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটে ১০ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ঘটছে বলে তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে।

এআরআইর পরিচালক অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমাদের দেশে চালকের লাইসেন্স পাওয়াটা খুবই সহজ। চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। লেখাপড়া না জানলেও চলে। হেলপার থেকেই হচ্ছেন চালক। ক্ষতিপূরণ দেয়া বা পাওয়ার সুযোগ খুবই কম। ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো টাকা নিলেও ক্ষতিগ্রস্তরা কিছুই পাচ্ছেন না। সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ দৃশ্যমান নয়। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন চালকরা। অদক্ষ চালকের কারণে সড়কপথে ঝরছে তাজা প্রাণ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, সড়কপথে শৃঙ্খলা আনতে বিআরটিএ প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সেটি অনেক কম। সরকারের সবগুলো সংস্থা একযোগে কাজ করলে হয়তো সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। বিআরটিএ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চালকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এসব বাস্তবায়নের বেলায় যথেষ্ট আন্তরিক বলে তিনি দাবি করেন।

রাজপথে লাইসেন্সবিহীন চালক ১৫ লাখ

প্রতিদিন হাজারো পরিবহন যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের সড়ক পথে। কিন্তু দেশের কতজন চালক পেশাদার আর কতজন চালক দক্ষ তার কোনো সরকারি হিসাব নেই। চালকের কাছে দুই/একদিন ট্রেনিং নিয়েই গাড়ি নিয়ে নামছেন হেলপাররা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অদক্ষ আর লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে সড়কপথে ঝুঁকি বাড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারি যানবাহনের ৯৬ দশমিক ৪ শতাংশ চালক ‘ওস্তাদ’র (মূল চালকের) সহকারী থেকে চালক হয়েছেন। তারা গাড়ি চালানোর কোনো নিয়মকানুন জানেন না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশে মোট যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। এর মধ্যে চালকের লাইসেন্স আছে ১৮ লাখ। অর্থাৎ বাকি ১৫ লাখ যানবাহন চলছে লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে। এছাড়া পেশাদার চালকদের মধ্যে অন্তত ২ লাখ চালক লাইসেন্স পেয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের তদবিরের জোরে, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই।

গত বছরের (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) এক হিসাব অনুযায়ী মাত্র ৬ লাখ ৩২ হাজার গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করা হয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা দেশে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ির সংখ্যা ৮-১০ লাখ। কিন্তু এর কোনো পরিসংখ্যান ও নিয়ন্ত্রণ নেই। এদিকে বিআরটিএ’র ওয়েবসাইটে ৫০ হাজারের বেশি ফিটনেসবিহীন গাড়ির উল্লেখ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বিআরটিএ মিলে লাইসেন্সবিহীন চালক এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচলরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে, বাস চালককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং জরিমানা করছে।

গত ৩ মে ট্রাফিক আইন অমান্য এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানোর দায়ে রাজধানীর শাহবাগে সাত বাস চালককে শাস্তি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের সাজা দেন। একই সঙ্গে ফিটনেস না থাকায় আটটি বাস ডাম্পিং করা হয়।

তারপরও কথা থেকে যায়। ভ্রাম্যমান আদালতের খবর নানাভাবে বাস চালকরা আগেই জেনে যান। তখন তারা সার্ভিস বন্ধ করে দেন। রাস্তায় বাস না নামায় যাত্রীরা দুর্ভোগের মুখে পড়েন।

তাতেই বোঝা যায়, মোবাইল কোর্ট বসলে যে বাসগুলো রাস্তায় নামে না সেগুলো অবশ্যই কোন না কোনভাবে বৈধভাবে চলাচলের অযোগ্য। কপাল মন্দ হলে মাসে দু’চারটে বাস ধরা পড়ে যায়। পরে অবশ্য রফা করে মালিকপক্ষ সেগুলো ছাড়িয়ে আনে।

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মশিউর রহমান বলেন, ফিটনেস ও রুট পারমিট না থাকায় গত ৩ তারিখ আটটি বাস ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব গাড়ির সাত চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

এ কারণে ছয় চালককে এক মাস এবং এক চালককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রুট পারমিট না থাকা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর দায়ে এক চালককে জরিমানা করা হয়েছে। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চালকের অধৈর্য ও ক্লান্তি

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমছে না। অদক্ষ, প্রশিক্ষণহীন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকের অধৈর্য, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও ক্লান্তি দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একজন চালকের দিনে ৮ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর নিয়ম থাকলেও তারা ১২-১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি চালান।

অনেক সময় গন্তব্যে তাড়াতাড়ি যেতেও চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানোর শক্তি ধরে রাখতে অনেক চালক মাদক নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা ও এর আশপাশের জেলায় দিনভিত্তিক গাড়ি ভাড়ায় চালান চালকরা। কম সময়ে বেশি যাত্রী পরিবহনে তারা অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। রাজপথে একই পরিবহনের গাড়িগুলোর এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতার ভুক্তভোগী আমরা সবাই। এতে যেমন দুর্ঘটনা ঘটনা আশঙ্কা থাকে তেমনি সৃষ্টি হয় অনাকাক্সিক্ষত যানজট।

সড়ক পরিবহন নেতারা বলছেন, সড়ক-মহাসড়কে গাড়ি চালানোর মতো পরিস্থিতি নেই। মহাসড়কে অবৈধ নসিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল করে। রাস্তার দুই পাশে বাজার বসানো হয়েছে। ঢাকার রাস্তায় রিকশা, মোটরসাইকেল, ছোট গাড়ির কারণে বড় গাড়ি চলতে পারে না। এতে চালকরা ক্লান্ত ও অধৈর্য হয়ে পড়ে। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকাতে আইন পরিবর্তন প্রয়োজন

সড়ক দুর্ঘটনা ঠেকাতে আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি তা কঠোরভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

‘আইন কঠোর করলেই সড়ক দুর্ঘটনা কমবে না’ নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের এমন বক্তব্যের একদিন পরেই গত ৩০ এপ্রিল আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক বলেন, ট্রাফিক ল’র চেঞ্জ প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যদি কেউ গাড়ি চালায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা (জরিমানা)। কার্যক্ষেত্রে অনেক সময় দেখছি তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৪০০ টাকা জরিমানা। লাইসেন্স ছাড়া চালিয়ে যদি এটুকু পেনাল্টি হয়, তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেয়ার গরজ তেমন কেউ বোধ করবে না। তাই আইনের পরিবর্তন বড় প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।

খায়রুল হক বলেন, ইদানীং তো আর একটা নতুন বিষয় দেখছি এক গাড়ি আরেক গাড়ির উপর উঠিয়ে দিচ্ছে! সড়ক দুর্ঘটনা কীভাবে বাড়ছে! মানুষের পা চলে যাচ্ছে, হাত চলে যাচ্ছে! মাথা চলে যাচ্ছে! এভাবে তো কোনো সভ্য দেশ চলতে পারে না। শাস্তি বাড়িয়েই কেবল হবে না, এটার এনফোর্সমেন্টও প্রয়োজন।

আইনের প্রয়োগ নেই উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়রম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একের পর এক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও যখন আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয় না, তখন মানুষ শৃঙ্খলা হারায়।

প্রতিটি দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় যদি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হতো, তাহলে কিছুটা সতর্কতা অবশ্যই আসত। সেটি না হওয়াতেই আমাদের সড়কে অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্যর চাকায় রোজ মানবাধিকার পিষ্ট হচ্ছে।

সচেতন হতে হবে জনসাধারণকেও

সড়ক দুর্ঘটনার দিক থেকে গোটা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সপ্তম। আবার আন্তর্জাতিক কোনো কোনো সংস্থার মতে দুর্ঘটনার দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। তবে দুর্ঘটনার জন্য কেবলমাত্র চালক বা পরিবহন শ্রমিকরাই দায়ী নয়। আমরা যারা রাস্তায় চলাচল করি তাদেরও সচেতন হতে হবে।

সম্প্রতি গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ঘটনার জন্য শুধু গাড়িচালকদের দোষ না দিয়ে পথচারীদেরও সড়কের নিয়মগুলো মানতে হবে। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িচালককে না পিটিয়ে আইনের হাতে সোপর্দ করতেও বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় চলার নিয়ম আছে, সেটা আমরা কতটা মানি? একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে, আমরা হাত একটা তুলে রাস্তায় নেমে গেলাম। যারা পথচারী, তাদেরও কিছু রুলস জানা দরকার, মানা দরকার। আপনি বাসে চড়ে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বের করে যাবেন? আপনারা (সাংবাদিক) যার হাত গেল, তার জন্য কান্নাকাটি করছেন; কিন্তু সে যে নিয়ম মানছে না, সে কথা তো বলছেন না। পথচারীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালানো এবং গাড়িতে বসার সময়ও অনেকের অসচেতন থাকার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে এবং সিটবেল্ট না বেঁধে গাড়িতে চড়াও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাজেই রাস্তা পারাপারে সতর্ক থাকতে হবে নিজেকেই। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter