বেশিরভাগ চালকই মাদকাসক্ত

  প্রতিমঞ্চ প্রতিবেদক ১৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেশিরভাগ চালকই মাদকাসক্ত
বাসের ভেতরেই চলছে মাদক সেবন

রাজধানীর অধিকাংশ বাসচালকই মাদকাসক্ত। বেসরকারি সংস্থার একটি জরিপে বলা হচ্ছে, রাজধানীর ৮৯ শতাংশ বাসচালকই মাদকের সঙ্গে জড়িত।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে বাসচালকদের মাদক গ্রহণের ভয়াবহ চিত্র।

পাশাপাশি চালকরাও স্বীকার করেছেন, নিয়মিত গাঁজা-ইয়াবা সেবনের কথা। জানিয়েছেন, কেন তারা মাদক সেবন করেন, কীভাবে এসব আসে তাদের নাগালে। বাসচালকদের মাদকাসক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন, মালিক সমিতির নেতারাও।

বিশেজ্ঞরা বলছেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

অনুসন্ধানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, চলন্ত বাসের পেছনের সিটে শুয়ে আছেন একজন মাদকসেবী। পরিচয় গোপন করে আলাপচারিতায় জানা গেল, তিনি পেশাদার চালক। তার দাবি, গাড়ি চালনায় মনোযোগ ও যাত্রীদের সঙ্গে বিতর্কের সময় নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই সেবন করেন মাদক।

তিনি বলেন, যাত্রীরা যেভাবে গালাগাল করে সেগুলো কানে না লাগানোর জন্য আমাদের নেশা করতে হয়। কেউ কেউ বলছেন, গাঁজা না খেলে অসুস্থ হয়ে যান।

বাসস্ট্যান্ডের কিছু বাসের ভেতর প্রকাশ্যেই চলছে ইয়াবা সেবন। ইয়াবাসেবীরা জানান, মাদক ছাড়া জীবন অচল তাদের। ইয়াবা সেবনে নাকি, শক্তি ফিরে পান শরীরে। একজন ইয়াবাসেবী বলেন, ইয়াবা খেলে শরীরে শক্তি বেড়ে যায়।

এই গরমে শক্তি পেতেই ইয়াবা খাই। এটা খেলেই সব ওকে। আরেকজন বলেন, গাড়ির গরম, মানুষের গরম, রাস্তার গরম সবকিছু মোকাবিলা করতে ইয়াবার বিকল্প নেই। তাছাড়া সারাদিন শত শত মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এটা সবকিছু সহ্য করতে সহায়তা করে। এদিকে পরিবহন শ্রমিকদের টার্গেট করে রমরমা বাণিজ্য চলে মাদকের।

ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহও চালকদের মাদক গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা হাজারবার বলার পরও এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আসছে না।

অন্যদিকে পরিবহনের তুলনায় দক্ষ চালকের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা এই সুযোগটা নিচ্ছেন। হিসাব করলে দেখা যায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক চালকের অভাব রয়েছে আমাদের। আর শুধু রাজধানীতেই সেই সংখ্যাটা দুই লক্ষাধিক।

আমরা বারবার মালিকদের বলেছি, লাইসেন্সবিহীন এবং মাদকাগ্রস্তকে গাড়ি না দিতে। হয়তো নিরুপায় হয়েই তাদের এটা করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, মাদকাসক্ত কোনো চালকই সুস্থ স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে পারেন না। জাতীয় মানসিক রোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মাদক গ্রহণের ফলে শরীরে এক ধরনের সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে সে হয়তো কিছুটা ভালো বোধ করে। কিন্তু এটি তার জন্য মারাÍক ক্ষতিকর। শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়। একজন মাদকাসক্তের পক্ষে কখনোই স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।

মটরযান আইনে মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে শাস্তির বিধান আছে। এটি দেখভালের দায়িত্ব বিআরটিএ’র। কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় তা হয়ে উঠছে না। যদিও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ জানালেন, আগামী অর্থবছরেই কেনা হবে শনাক্তকরণ সরঞ্জাম।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter