ইফতারিতে ভাজা-পোড়ায় কী বলছেন ডাক্তার ও পুষ্টিবিদ

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ইফতারিতে ভাজা-পোড়া আইটেমের প্রতি ঝোঁক রয়েছে প্রায় পতিটি পরিবারেই

স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, সুস্থ মানুষ নিজস্বভাবে বা ঘরোয়াভাবে যদি ভাজা-পোড়া খায় অর্থাৎ ভেজাল ও ফরমালিন মুক্ত হয় তাহলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না।

বাজারের খোলা, ধুলা-বালি পড়া খাবার এড়িয়ে যাওয়া ভালো। সুস্থ পেটে ঘরে তৈরি পেঁয়াজু, বিরিয়ানি, চপ বা এ জাতীয় খাবারে তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

তবে যারা বিভিন্ন পেটের পীড়ায় ভুগছেন, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছ, পুরনো আমাশয় রোগ আছে তাদের একটু সতর্ক হয়ে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। তারা তেলে ভাজা খাবার, দুধ জাতীয় খাবার, শসা, টমেটো এগুলো খাবেন না।

যারা ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য ডাক্তাররা খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট মেনু দিয়ে থাকেন। তাদের জন্য রমজানের ইফতারে ও সেহরিতে ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী খাওয়াটা জরুরি।

শরবত, গ্লুকোজ, ইসবগুলের ভুসি, ওরস্যালাইন, ডাবসহ পানি জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করতে হবে। ইফতারে কলা, আপেল, খেজুর, কমলাসহ যে কোনো ফলমূল রাখতে পারেন।

দই চিড়া, ঘরে রান্না করা খিচুড়ি বা পোলাও খেতে পারেন। তবে পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে, অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। কারণ তাতে হজমে সমস্যা হতে পারে।

বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেড’র পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান যুগান্তরকে বলেন, ইফতারে সাধারণত বেশিরভাগ মানুষ ডুবো তেলে ভাজা পোড়া জিনিস খায়। আর না হলে বিরিয়ানি, তেহারি বা হালিমের মতো খাবার খায়।

কিন্তু বাজারে বাণিজ্যিকভাবে রান্না করা এ খাবারগুলোর স্বাস্থ্যমান ও পুষ্টিমান নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেউ যদি এ ধরনের খাবার ক্ষেতে খুবই পছন্দ করেন তবে বাসায় তৈরি করে খাওয়াটাই উত্তম।

বাসায় অলিভ ওয়েল তেল দিয়ে বা অন্য তেল কম পরিমাণে দিয়ে রান্না করলে তা অধিক পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর হয়। বাসায় পেঁয়াজু বা ভাজা পোড়া করলে টিস্যু দিয়ে অতিরিক্ত তেল শুষে পরিবেশন করলে ভালো হয়। ছোলা বুট সিদ্ধ করে বা হালকা তেল দিয়ে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। তবে খুব বেশি মসলা দেয়া ঠিক নয়। সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ সালাদ বা সবজি থাকলে ভালো হয়।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : সাইফুল ইসলাম খান