চার পয়েন্টে যানজট

  প্রতিমঞ্চ প্রতিবেদক ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চার পয়েন্টে যানজট

প্রতি ঈদে সাধারণত রাজধানী ঢাকার প্রবেশপথগুলোতেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাজধানী থেকে বাইরের জেলাগুলোতে যাওয়ার চারটি প্রধান পয়েন্টে যানজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান টার্মিনাল থেকে বাস বের হয়ে মহাসড়কে উঠতে এবং ঢাকায় প্রবেশের সময় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ফলে ঈদযাত্রার দীর্ঘ একটা সময় জ্যামে থাকতে হতে পারে ঢাকার ভেতরেই।

সরেজমিন চারটি পয়েন্টে দেখা গেছে, কোথাও অবৈধ দখল বা পার্কিং, রাস্তা খারাপ বা অপেক্ষাকৃত সরু এবং উন্নয়ন কাজের কারণে যানবাহনে ধীরগতি।

এসব পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন ঢাকা ত্যাগ করে। স্থানগুলো সংকুচিত হওয়ায় যানবাহনের চাপ সামলাতে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দূরপাল্লার বাস ঢাকায় প্রবেশে অনেক সময় লাগছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আট লেনের প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ীতে। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে কাঁচপুর ডাচবাংলা ব্যাংকের মোড় পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আট লেন হলেও দুই পাশের দুই লেন চলে গেছে পার্কিংয়ে।

ডাচবাংলা ব্যাংকের মোড় থেকে কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত মহাসড়কটি আবার চার লেনের। কিন্তু কাঁচপুর সেতুতে গিয়ে গাড়ি ওঠে দুই লেনে। কাঁচপুর ব্রিজ এবং মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু দুই লেনের হওয়ায় প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

একজন চালক বলেন, ঈদের মৌসুমে আমাদের পুরো পথের মধ্যে ভোগান্তির পথ কাঁচপুর ব্রিজ। ব্রিজটি পার হলেই আমরা ধরে নেই গন্তব্যে পৌঁছে গেছি। কারণ পুরো গন্তব্যে যে সময় লেগে ঈদ মৌসুমে তার সমান সময় চলে যায় কাঁচপুর ব্রিজে।

আট লেন সড়কের যানবহনগুলো এ ব্রিজের এক লেন দিয়েই যাতায়াত করে। এছাড়াও গাবতলী, মাজাররোড, আশুলিয়া, ইপিজেড, চন্দ্রা, হেমায়েতপুর চৌরাস্তা, বলিয়াপুর, আমিনবাজার, নবীনগর ও ধামরাই এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র যানজট লেগে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট চক্র যানজট সৃষ্টি করে গাড়ি সংকট দেখিয়ে দুই-তিন গুণ ভাড়া আদায় করেন।

গাবতলী এলাকাতেও একই অবস্থা। প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে এ পথ দিয়ে যাতায়াত করে। টার্মিনালের সামনের সড়কটিতে গত বছর প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করলেও বর্তমানে সেটি আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। টার্মিনালের সামনের রাস্তায় যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা হয়।

গাবতলীর পর্বত সিনেমা হল থেকে কল্যাণপুর পর্যন্ত রাস্তার অর্ধেক অংশজুড়ে যাত্রীবাহী বাস পার্কিং করে রাখা হয়। অন্যদিকে আমিনবাজার ব্রিজের পর তুরাগ নদী পর্যন্ত দুই পাশের রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

গাবতলী বাস টার্মিনালের মূল কাউন্টার থেকে পর্বত সিনেমা পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহনের অপ্রয়োজনীয় ৩ থেকে ৪টি টিকিট কাউন্টার রয়েছে। ফলে দূরপাল্লার বাস ঢাকা ছাড়তেই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে।

রশিদ নামের এক যাত্রী জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পদ্মা পরিবহনের সিন্ডিকেটের কাছে যাত্রীরা একেবারে অসহায়। বাড়তি ভাড়া, টিকিট আর সিটিং যেন প্রতারণার শেষ নেই। পদ্মা পরিবহনকে ভুক্তভোগী যাত্রীরা ‘মুড়িরটিন’ সার্ভিস নাম দিয়েছেন। অন্যদিকে শুভযাত্রা বাস সার্ভিসের সার্ভিসও যাচ্ছেতাই।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চারলেনের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, রসুলপুর, পাকুল্লা, মির্জাপুর, হাটুভাঙ্গা, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, বাইপাল-আব্দুল্লাপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাণকাজ চলার সময় বর্ষণের ফলে মহাসড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি।

এদিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাপুর পয়েন্টে যেতেই লেগে যায় প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। টঙ্গী স্টেশন রোড, গাজীপুর চৌরাস্তা, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু, মীরের বাজার, উলুখোলা, কাঞ্চনব্রিজ, ভুলতা, মাধবদী, ভৈরব, দুর্জয়মোড়, পাঁচদোনার বিভিন্ন স্থানে যানজট দেখা গেছে। আর গুলিস্তান থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহনের চাপে বাবুবাজার ব্রিজ পার হতেই সময় লেগে যায় কয়েক ঘণ্টা।

এ সড়কটির দুটি লেনের মধ্যে একটি লেন অবৈধ পার্কিং ও আশপাশের দোকানিদের রাখা বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর কারণে অচল থাকে। বাকি একটি লেন দিয়েই অত্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করে। সব মিলিয়ে এ চার পয়েন্টেই যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter