ঈদ বকশিশের নামে হিজড়াদের দৌরাত্ম্য

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাইফুল ইসলাম খান

রাজধানীতে হিজড়াদের চাঁদাবাজি

পুরুষালি দেহে শাড়ি, বিশেষ ভঙ্গিতে হাততালি, কাছে এসেই ঈদ বকশিশের দাবি। এ দৃশ্য এখন শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশের প্রায় প্রতিটি ব্যস্ততম এলাকার।

কেউ দিতে না চাইলে মোটা গলায় জানিয়ে দেয়, ‘ট্যাকা দে, নইলে অপমান করব’! এরপরেও কথা হলে তা হয়ে পুড়ে শ্রবণঅযোগ্য। পরিস্থিতি হয়ে যায় লজ্জাজনক। কখনও কখনও পকেট খালি করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হয় ভুক্তভোগীদের। বলছিলাম ঈদ উপলক্ষে হিজড়া সম্প্রদায়ের উৎপাত নিয়ে।

অন্যদিকে রাজধানীতে নতুন বিড়ম্বনার কারণ বেদে। না, সাপ ধরা কিংবা ওষুধ বিক্রির জন্যও না, বেদেরা এখন জল থেকে ওঠে এসে ডাঙায় পথরোধ করছে পথচারির। সাহায্য কিংবা বকশিশ যে নামেই হোক তাদের টাকা না দিয়ে পথ আগানো মুশকিল।

একদিকে বাসা, বাড়ি, অফিস কিংবা চলন্ত বাসে হিজড়াদের উৎপাত অন্যদিকে ফুটপাতে বেদেদের উপদ্রব। সব মিলিয়ে এদের হাত থেকে সসম্মানে বাঁচা এখন ভাগ্যের ব্যাপারই না সৃষ্টিকর্তাকে অশেষ ধন্যবাদ দেয়ারও উপলক্ষে হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীতে চলমান বাসেও জোরজবরদস্তি করে চলে হিজড়াদের চাঁদা সংগ্রহ। কাটাবন এলাকায় ব্যবসা করেন এমন একজন বলেন, আমার বাসা তেজকুনি পাড়া। শাহবাগ থেকে ফার্মগেট যাওয়া-আসার রাস্তায় মাঝে মধ্যেই হিজড়ারা বাসে উঠে টাকা দাবি করে।

রমজান মাসে তাদের উৎপাত খুব পরিমাণে বেড়ে গেছে। প্রতিদিন তারা বাসে ওঠে চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে খারাপ অঙ্গভঙ্গি করে, বিশ্রি ভাষায় গালাগালি করে। রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করা যাত্রীরা জানান, হিজড়ারা বাসের প্রতি সিটে সিটে গিয়ে দশ থেকে বিশ টাকা করে চাঁদা তোলেন।

আরমান শাহরিয়ার নামে এক যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, পাবলিক বাসে করে আগারগাঁও যাওয়ার পথে হুট করে বাসে ওঠে পড়ে একদল হিজড়া। তারা বাসের প্রতি আসনে গিয়ে গিয়ে টাকা তুলছিল। যে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তাকেই তারা বাসভর্তি যাত্রীর সামনে অপদস্ত করেছে। একযাত্রী তাদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করে টাকা দেবে না বলে জানালে তাকে প্রকাশ্যে চুম্বন করে বসে। পড়ে নিরুপায় হয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন ওই যাত্রী।

হিজড়াদের দৌরাত্ম্যে ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে হাঁটতেও সমস্যায় পড়েন পথচারিরা। তাদের টাকা না দিলে সামনে যেতে দেয় না। নিরুপায় হয়ে যদি কোনো পথচারি বলেন, ভাংতি টাকা নেই। তবে ভাংতি দেয়ার নাম করে ১০০, ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট হাতিয়ে নেয় তারা।

শুধু ফুটপাত, গণপরিবহন বা অফিসে নয় দল বেঁধে বাসায় বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবি করে হিজড়ারা। কোনো বাড়িতে বাচ্চা সন্তান থাকার খবর পেলে বাচ্চা নাচানোর নাম করে তারা দাবি করে বসে বড় অঙ্কের চাঁদা।

কামরাঙ্গীরচরের বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানান, ওই এলাকায় কারও সন্তান হলে কিংবা বিয়ে হলে হিজড়াদের পোশাক দিতে হয়, খাবার খাওয়াতে হয়। সঙ্গে বখশিশও গুনতে হয় চরবাসীর! এর ব্যতিক্রম ঘটলেই পোশাক খুলে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে হিজড়ারা।

জোর করে টাকা আদায়ের বিষয়ে হিজড়াদের অভিমত, কেউ তাদের চাকরি দেয় না, কাজে নেয় না। তাই তাদের বাধ্য হয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। তারা হাততালি দিয়ে হাসি মুখে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেন, বন্দুক ঠেকিয়ে নয়। তাই এভাবে অর্থ উত্তোলনকে চাঁদাবাজি মানতে নারাজ তারা।