ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খান

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস্ট্রিক বলতে আমরা সম্মিলিত পেটের সমস্যাকেই বুঝে থাকি। প্রচুর মানুষের এ সমস্যা আছে এবং এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মহিলা-পুরুষ এমনকি আজকাল কম বয়সী বাচ্চাদেরও অ্যাসিডিটির সমস্যা হচ্ছে। এর মূল কারণ হল খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম। স্বাভাবিক মানুষের যে খাদ্যাভ্যাস, সেটা এখন নেই। এখনকার বাচ্চারা বা প্রাপ্ত বয়স্করাও কাজের চাপের জন্য বাইরের খাবার ও ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন। এছাড়াও ঠিকমতো পানি পান না করা, নাস্তা না করা, দুপুরের খাবার দেরিতে খাওয়া, রাতের খাবার মধ্যরাতে খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। এসব অনিয়ম এবং বাইরের খাবার খাওয়ার কারণেই গ্যাস্ট্রিকের রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়ছে।

আজকাল মানুষ প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকে, দুশ্চিন্তায় ভোগে, কাজের চাপ বেশি। ব্যস্ততার জন্য মানুষ অস্থিরতায় ভোগে, এংজাইটিতে ভোগে। এ কারণটিও অ্যাসিডির পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখে; যা থেকে আলসার হতে পারে। যারা ঝাল, টক, পুরনো পোড়া তেলে ভাজা খায়, বাইরের খাবার, ফুটপাতের খাবার খায় তাদের পেটের সমস্যা বাড়তেই থাকে। আর ভেজাল খাবার গোটা দেশের জাতীয় সমস্যা। ফলমূলে কেমিক্যাল, ফরমালিন দেয়া হয়, মানুষ সেগুলোই খায়। আবার মাছ-মাংস তাজা রাখার জন্যও অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রিজারবেটিভ দেয়। এগুলো পেটের মধ্যে যাচ্ছে। যা পেটের সমস্যা বাড়ায়, বদহজম সৃষ্টি এবং লিভারের সমস্যা করে।

বয়স্ক মানুষ বাতের ব্যথা বা বিভিন্ন ব্যথা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন ধরনের পেইন কিলার (ব্যথানাশক) ওষুধ খান। এছাড়া সামান্য সমস্যা দেখা দিলেই দোকান থেকে কিনে নিজের ইচ্ছেমতো গ্যাসের ওষুধ সেবন করেন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যখন-তখন এভাবে ওষুধ গ্রহণ করায় সেবনের কোনো মাত্রা ঠিক থাকে না, খাবারের আগে নাকি পর তা-ও ঠিক থাকে না। ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়, ওষুধের মাত্রা ও তীব্রতা আরও বাড়ে।

গ্যাসের রোগীর মধ্যে যাদের আর্থিক অবস্থা একটু ভালো তারা ডাক্তার দেখান। তবে বেশিরভাগই দেখায় না। মানুষ মনে করে, গ্যাসই তো। এটি আর তেমন কী! দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে মাসের পর মাস খাচ্ছে। এখন সব ওষুধেরই তো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তাই ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধের মাত্রা ও সেবনের সময়সীমা অনুযায়ী খাওয়া উচিত। ডাক্তার রোগীকে তার অবস্থা বুঝে কত দিন খাবেন তা নির্ধারণ করে দেন। ওষুধ মাত্রার চেয়ে বেশি খেয়ে ফেললে অ্যাসিড কমে যায়। কিন্তু তখন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। গ্যাস্ট্রিকের কিছু ওষুধ আছে যা ক্যালসিয়ামের ক্ষতি করে। তখন হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে হাড় ভেঙে যায়। লিভার ও কিডনির ক্ষতি করে।

অ্যাসিডি সমস্যা থেকে বাঁচতে এবং সমস্যা সারানোর বিষয়ে এ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘সময়মতো খেতে হবে, ঝাল, টক, ফাস্টফুড ও বাইরের খাবার পরিহার করতে হবে। ধূমপান ও অ্যালেকোহল সেবন চিরতরে বাদে দিতে হবে। ব্যথানাশক ওষুধ ইচ্ছেমতো খাওয়া যাবে না। কোনো রকম মাথাব্যথা হলেই খাওয়া উচিত নয়। খাওয়ার প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে। অতিরিক্ত চা, কফি খাওয়া যাবে না। দু-এক কাপ খেতে পারেন। তবে খালি পেটে একদমই খাওয়া যাবে না। যারা এরই মধ্যে সমস্যায় ভুগছেন তারা ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাবেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : এম এস আই খান