আটদিনে ৭১ হাজার মামলা

জরিমানা আদায় ৪ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাইফুল ইসলাম খান

শিক্ষার্থীরা প্রথমে নেমেছিল সহপাঠীকে হত্যার বিচারের দাবিতে। ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে নয় দফা দাবি উত্থাপন করে কার্যত গোটা রাজধানী অবরুদ্ধ করে রেখেছিল স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা। টানা অবরোধের মুখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখে তারা সিদ্ধান্ত নেন যেসব গাড়ির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে সেগুলো তারা আটকাবে না। আর সেই চিন্তা অনুযায়ী শুরু হয়ে যায় ‘মামা লাইসেন্স চাই’ অভিযান। যুগের পর যুগ ধরে পুলিশ যেই যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, সেই অবাধ্য যানবাহনকে বশে এনে নির্দিষ্ট লেনে চলতে বাধ্য করেছেন তারা। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য ‘বিচ্ছু বাহিনীরা’ তৈরি করে দেখিয়েছেন ‘ইমার্জেন্সি লেন’। এলোমেলো রিকশাকে সোজা পথ ধরিয়ে মন্ত্রীকে ফিরে দিয়েছেন উল্টো পথ থেকে। পুলিশ, সাংবাদিক, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের গাড়ির লাইসেন্স আছে কিনা তা-ও পরখ করে ছেড়েছে এ দামাল কিশোররা। দুর্বার ১৮ বছর বয়সের এ শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা প্রখর রোদে পুড়ে সড়কপথে শৃঙ্খলা এনেছেন। অসুস্থ রিকশাচালকে যাত্রীর আসনে বসিয়ে নিজেরাই প্যাডেল মেরে পৌঁছে দিয়েছেন গন্তব্যে। ঝাড়ু হাতে তারা রাস্তায় ভাঙা কাচ সরিয়েছেন সমাজের জঞ্জাল সরানোর মতো করেই।

তবে শিক্ষার্থীদের টানা রাজপথে অবস্থান নেয়ার কারণে রাজধানীতে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা। অন্যদিকে নিরাপত্তার অজুহাতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দূরপাল্লার বাস চলাচলও বন্ধ করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ৫ আগস্ট সারা দেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার অনুরোধ জানায় পুলিশ। ঘোষণা অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যাত্রী সচেতনতা ও সড়কপথে শৃঙ্খলা আনতে রাস্তায় নেমেছিল স্কাউট সদস্যরাও। শনিবার ট্রাফিক সপ্তাহের সপ্তম দিনে ঘোষণা আসে অভিযান চলবে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত। ট্রাফিক সপ্তাহের কারণে ব্যাপকহারে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিএমপি নিউজের তথ্যানুযায়ী, ৫ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১২ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাফিক সপ্তাহের আট দিনে ৭১ হাজার ২৯০টি মামলা হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে তিন কোটি ৯৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৭ টাকা। ট্রাফিক সপ্তাহ শুরুর পর থেকে চলমান অভিযানে যানবাহনের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের ঘটনায় এসব মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া একই সময়ের মধ্যে ১৫ হাজার ১৭০ চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও ৭ হাজার ৭৯০টি যানবাহন ডাম্পিং ও রেকার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে ট্রাফিক সপ্তাহ তিন দিন বাড়ানোর পর অষ্টম দিনে (১২ আগস্ট) সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ দিন ৬০ লাখ ১৭ হাজার ৩৯০ টাকা জরিমানা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।