পৃথিবীর বড় গ্রাম বানিয়াচং-এর অমিত সম্ভাবনা

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তোফায়েল রেজা সোহেল, বানিয়াচং থেকে

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এখানে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার।

ঐতিহাসিক কমলারানীর দীঘি, লক্ষীবাওর জলাবন, ৬শ’ বছরের প্রাচীন বিথঙ্গলের আখড়া, প্রাচীন মসজিদসহ রয়েছে অনেক পুরাকীর্তি।

গ্রামের চারপাশ বেষ্টিত পরিখাকে চমৎকার ‘লেক’সহ পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা সত্ত্বেও গড়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্রের কোনো সুবিধা।

১৯৯৭ সালের ১৯ অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলআর স্কুল মাঠের এক জনসভায় কমলারানীর দীঘিকে ঘিরে বানিয়াচংকে পর্যটন কেন্দ্র করার ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অগ্রগতি না হয়ে হিমাগারে ঠাঁই পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, একটু যত্ন নিয়ে দর্শনীয় স্পটগুলোকে পর্যটন শিল্পের কাজে লাগালে পাল্টে যেত এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। সরকারও পেত কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

পঞ্চাশ খ্রিস্টাব্দে বানিয়াচং গ্রামের গোড়াপত্তন হয়। চারটি ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামোর বিভক্ত গ্রামটি। গ্রামের নামে বানিয়াচং উপজেলার নামকরণ হয়েছে।

সাধারণত কয়েকটি পাড়া বা মহল্লা নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম। কিন্তু এই সংজ্ঞা অচল বানিয়াচং গ্রামের ক্ষেত্রে। ১২০টি মহল্লা নিয়ে গঠিত বানিয়াচং গ্রামে সোয়া লাখ মানুষের বসবাস। ৩২ দশমিক ৪৩ বর্গমাইল আয়তনের বিশাল ভুখণ্ডটি মানুষের কাছে ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

এক সময় পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো। তখন বানিয়াচং ছিল এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গ্রাম। শিকাগো নগরে পরিণত হওয়ায় আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে পৃথিবীর বড় গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বানিয়াচং।

ড. শেখ ফজলে এলাহীর ‘বানিয়াচং বৃত্তান্ত’ বইতেও এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম উল্লেখ করেছেন। সুলতানী আমলে করদ রাজ্য ও মোগল আমলে লাউর রাজ্যের রাজধানী ছিল বানিয়াচং।

দ্বাদশ শতাব্দীতে কমলারানীর দীঘি খনন করেন রাজা পদ্মনাভ। ৬৬ একর আয়তনের কমলারানীর দীঘি বাংলাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দীঘি হিসেবে স্বীকৃত। তৎকালীন মন্ত্রী সিরাজুল হুসেন খানের প্রচেষ্টায় ১৯৯০ সালে দীঘিকে পুনঃখনন করা হয়। সাগরের মতো বিশাল হওয়ায় সাগরদীঘিও বলে থাকেন লোকজন।

মোগল আমলের প্রাচীন বিবির দরগা মসজিদ, পুরান বাগ, ২নং হাবেলি ও কালিকাপাড়ার মসজিদ, জয়কালি মন্দির, রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ কালের সাক্ষী।

বানিয়াচং গ্রামের চারপাশ ঘেরা প্রায় ২০ কিলোমিটার পরিখা। একেঁবেঁকে বয়ে যাওয়া পরিখা স্থানীয়রা চেনেন গড়খাল নামে। পরিখাটি বর্ষাকালে লেকের রূপ ধারণ করে। সুপরিকল্পনা ও কার্যকরি উদ্যোগ নিলে ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে বানিয়াচংয়ের পরিখাকে ঘিরে ‘লেক’ গড়ে তোলা সম্ভব।

পরিখাকে পুনঃখনন করে দু’পাড় পাকাবাঁধাই, দৃষ্টিনন্দন পুল ও ঘাট নির্মাণসহ শোভাবর্ধন ভৌত কাজ প্রকল্প গ্রহণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। লক্ষীবাওর জলাবনে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনও করা যেতে পারে বলে পরিবেশবিদরা বলেছেন। দৃষ্টিনন্দন সাগরদীঘি, প্রাচীন পুরাকীর্তির বাড়তি আকর্ষণের সঙ্গে পরিখা লেক যুক্ত হলে চকচক ঝলমলে গ্রামে রূপ নেবে বানিয়াচং।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খন্দকার বলেন, দেশের অনেক জায়গার তুলনায় পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে পরিচিত বানিয়াচং ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্পটে রূপান্তরিত হতে পারে।