হাকালুকি হাওর হতে পারে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আজিজুল ইসলাম, কুলাউড়া থেকে

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। এর অপরূপ রূপে আকৃষ্ট এখন স্থানীয় ভ্রমণ পিপাসুরা। প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন ভিড় জমান হাওরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দর্শনে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশ বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে হাকালুকি হাওর হতে পারে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। এদিকে হাকালুকি হাওরকে ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে ইতিমধ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুললেই দেখা যায় হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন স্থানের ছবি আপলোড করছেন এর সৌন্দর্য পিপাসুরা। হাকালুকির সৌন্দর্যের সঙ্গে নিজের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ার যেন একটা অঘোষিত প্রতিযোগিতা চলে। শুধু তরুণ কিংবা তরুণীরা গ্রুপ বেঁধে নয়, পরিবার পরিজন নিয়েও অনেকে বৈকালিক ভ্রমণে হাকালুকি হাওরকে বেছে নিচ্ছেন।

হাকালুকি হাওরের স্থানীয় দর্শনার্থীরা ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্ট, কুলাউড়া উপজেলার আছুরী ঘাট, ভুকশিমইল এলাকা এবং ভাটেরা ইউনিয়নের ওয়াচ টাওয়ার, জুড়ী উপজেলার কন্টিনালা দিয়ে এবং বড়লেখা উপজেলার হাল্লা বিলের ওয়াচ টাওয়ারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হাকালুকি হাওরের সৌন্দর্য দর্শনে যান। এসব এলাকায় স্থানীয় পর্যটকদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট।

জুড়ী উপজেলার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান জানান, বাড়ির পাশেই এশিয়ার এ বৃহত্তম হাওরের সৌন্দর্য্য দেখা হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে গাড়ী নিয়ে হাওরে গেলেও বর্ষার যে অপরূপ সৌন্দর্য তা সত্যি উপভোগ্য। বিশেষ করে প্রকৃতিকভাবে গড়ে হিজর করচের বাগান বা যে সোয়াম ফরেস্ট তা যে কোনো পর্যটককে আকৃষ্ট করবে। সুর্যাস্ত দেখাটাও অনেক উপভোগ্য বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। হাওরে বর্ষাকালে এক ধরনের আর শীতকালে ঠিক উল্টো চিত্র থাকে। সারাবছর এই হাওরকে কেন্দ্র করে ইকো ট্যুরিজম গড়ে উঠতে পারে। তাতে সরকারের পাশাপাশি হাওর তীরের জীবনমানেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগতে পারে। ইকো ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে অনেকের জীবিকায়নও হতে পারে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, হাকালুকি হাওরকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ইকো ট্যুরিজমের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।