লাল কাঁকড়ার রঙে রাঙা ‘রাঙ্গাবালী’

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

লাল কাকড়া। ফাইল ছবি

সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় অপার সম্ভাবনার স্থান ‘সোনারচর’ ও ‘জাহাজমারা’। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে যোগাযোগ সমস্যা। কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলেই পর্যটনের ব্যাপক বিকাশ ঘটবে। অর্থনৈতিক অবস্থারও অমূল পরিবর্তন হবে।

সোনারচর : বঙ্গোপসাগরের কোলজুড়ে বেড়ে ওঠা সৌন্দর্যের লীলাভূমি সোনারচর। উত্তর-দক্ষিণ লম্বালম্বি এ দ্বীপটি দূর থেকে দেখতে ডিমের মতো। রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে পাঁচ হাজার একরের বিশাল বনভূমি এটি। দূর থেকে সমুদ্র সৈকতের বিচে তাকালেই লাল কাঁকড়ার চোখে পড়বে। দেখলে মনে হবে যেন লাল চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। অসংখ্য হরিণ আর বানর রয়েছে সোনারচরে। এছাড়া বনাঞ্চলের কাছাকাছি গেলে হয়তো সহজেই চোখ পড়বে বুনো মোষ, শুকর, বানর, মেছো বাঘসহ আরও সব বন্য প্রাণী। চোখে পড়বে দেশি-বিদেশি দুর্লভ প্রজাতির নানা রঙের পাখি।

জাহাজমারা : প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে জেগে আছে নয়নাভিরাম ‘জাহাজমারা’ সমুদ্র সৈকত। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে এ দ্বীপের অবস্থান। আর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে এটির দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে পর্যটকেরা এসব স্থানে আসেন কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে। অথচ এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হতে পারে, আর সরকারও আয় করতে পারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

যোগাযোগই প্রধান সমস্যা : ঢাকা থেকে রাঙ্গাবালী যাওয়ার সরাসরি লঞ্চ আছে। কিন্তু রাঙ্গাবালীর কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট থেকে সোনারচর কিংবা জাহাজমারা যাওয়ার পথ খুবই দুর্গম। নদী পথে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ পেড়িয়ে দেখা মিলবে সোনারচরের। আর জাহাজমারা যেতে হলেও প্রায় ১০ কিলোমিটার নদী পথ পেড়িয়ে যেতে হবে। তবে সড়ক পথে জাহাজমারা যাওয়া গেলেও তা খুব দুর্ভোগের।

রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা দিতে পারলে, সোনারচর আর জাহাজমারা হবে পর্যটনের আকর্ষণীয় জায়গা। এ দুইটি স্থান হবে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। তবে যোগাযোগটাই প্রধান সমস্যা। এ জন্য পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হোটেল-মোটেলসহ রেস্ট হাউস তৈরি করলে পর্যটকদের এসব দ্বীপে আসার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসতে পারে।’