স্বরূপকাঠির পেয়ারা বাগান

দর্শনার্থীর জন্য গড়ে ওঠেনি পর্যটন কেন্দ্র

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

স্বরূপকাঠির পেয়ারা বাগান। ফাইল ছবি

স্বরূপকাঠির আটঘর কুড়িয়ানা ও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির সদর উপজেলার ভীমরুলি এলাকার পেয়ারা বাগানসমৃদ্ধ ৪২টি গ্রাম শুধু পেয়ারার চাষ আর ব্যবসার জন্য বিখ্যাত নয়। এখানকার পেয়ারা বাগানকে কেন্দ্র করে এই এলাকা দিন দিন পর্যটকদের আকর্ষণীয় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।

আষাঢ়, শ্রাবণ মাসে পেয়ারা মৌসুম শুরু হতেই বাগানে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভিড় রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পর্যটকদের আগমনে আর্থিকভাবে স্বচ্ছলও হচ্ছেন এলাকাবাসী। আটঘর গ্রামের ইউপি সদস্য বাবুল মণ্ডল জানান, এবারের পেয়ারা মৌসুমে পর্যটকদের বহন করে এই এলাকার ট্রলার চালকসহ অটো টেম্পু, ভ্যান চালকরা অন্তত কোটি টাকা আয় করেছে।

পাশাপাশি পেয়ারা বাগানসমৃদ্ধ ৪২টি গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চা-নাশতার দোকান বসিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করছেন অন্তত তিন শতাধিক পরিবার। তবে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় চাষীরা যথাসময় তাদের পেয়ারা বাজারজাত করতে না পেরে বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

সরেজমিন কুড়িয়ানার পার্শ্ববর্তী গ্রাম আদমকাঠি গিয়ে জানা যায়, আদমকাঠি এলাকার শিক্ষিত যুবক চিন্ময় হালদার, সঞ্জয় সরকার, সবুজ রায়, অতনু হালদার ও চিন্ময় হালদার এ পাঁচ বন্ধু মিলে আদমকাঠি এলাকার প্রয়াত হরাকান্ত মণ্ডলের ৩ একর পেয়ারা বাগান ভাড়া নিয়ে একটি মিনি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। নাম দিয়েছেন পেয়ারা পার্ক।

কেন্দ্রটির পরিচালক চিন্ময় হালদার বলেন, সামান্য নির্ধারিত ফিয়ের মাধ্যমে পেয়ারা বাগানে ঘুরে দেখা, পেয়ারা পেড়ে খাওয়া, বাগানে বসে আড্ডা দেয়ার জন্য ছাতার নিচে টেবিল চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওইখানে পাওয়া যাবে পেয়ারা পাতার সুগন্ধি চা। পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য ট্রলার/নৌকা ভাড়া করে দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেই কোন পর্যটন কেন্দ্র। পেয়ারা চাষী সমিতির সভাপতি জহর লাল মল্লিক জানান, এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার প্রতিষ্ঠার দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের।

আটঘর কুড়িয়ানা ইউপি চেয়ারম্যান জানান, গত বছর বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কুড়িয়ানায় এসে মত বিনিময় করেন এবং এই এলাকায় একটি বিশ্রামাগার ও হোটেল নির্মাণের জন্য আশ্বাস দিয়ে গেছেন। কিন্তু চাহিদামতো জমি দিতে না পারায় আটকে গেছে সব। পর্যটন কর্পোরেশন চাচ্ছে ৫০ শতক ভূমি কিন্তু ব্যবস্থা হয়েছে ৩০ শতক ভূমির। এত জমি এখানে দান করার মতো মানুষ নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সাঈদ জানান, যেখানে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখানে চাহিদামতো জমি নেই বিধায় অন্যত্র জমি খোঁজা হচ্ছে। অচিরেই জমির ব্যবস্থা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তিনি।