সোনাকাটা টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বেহাল দশা

  মো. জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোনাকাটা টেংরাগিরি
সোনাকাটা টেংরাগিরি। ফাইল ছবি

বরগুনার তালতলী উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিশানবাড়িয়া ও নিদ্রাসখিনা নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এ বনাঞ্চলে রয়েছে সোনাকাটা টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ইকোট্যুরিজম।

চরম অযত্ন-অবহেলায় এ ইকোট্যুরিজমের অধিকাংশ বেষ্টনী ভেঙে পড়েছে। ভেতরের রাস্তার বেহাল দশা। কাঠেরপুলগুলো ভাঙা। খাবার সংকটের কারণে শূকর, মেছোবাঘ ও কচ্ছপ ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী বন উপবিভাগীয় তালতলী রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ হাজার ৬৩৪ একর জমির ওপর এ উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল। বঙ্গোপসাগরে কোলঘেঁষা এ বনাঞ্চলের দক্ষিণে সাগর, পূর্বে কুয়াকাটা, পশ্চিমে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদী, উত্তরে তালতলী ও আমতলী উপজেলা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি এ বনাঞ্চল। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যান্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। তিনদিকে সাগর ও ৯টি ক্যালেন (খাল) বেষ্টিত এ বনাঞ্চল। শীত মৌসুমে নৌভ্রমণে শত শত পর্যটক এখানে আসেন।

সড়কপথে আমতলী পৌরশহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরত্বে এ বনাঞ্চল। অপরদিকে কুয়াকাটা থেকে নৌপথে দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। কিন্তু এখানে আবাসিক সুব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের দিনেই চলে যেতে হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাউন্ডারি প্রাচীর খসে যাচ্ছে। লোহার খাঁচাগুলোতে মরিচা ধরেছে। পার্কের ভেতরে সুপীয়পানির জন্য গভীর নলকূপ বসানো থাকলেও তাতে কোনো পানি উঠছে না। পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলেও শৌচাগারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

পর্যটকদের জন্য বসার জায়গা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। যে ক’টি রয়েছে তা অপরিচ্ছন্ন। বন্যপ্রাণীর জন্য নেই কোনো ছাউনি। ভেতরের রাস্তার ইট খসে পড়েছে। ৯টি কাঠেরপুল চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেষ্টনীর মধ্যে শুধু পাঁচটি হরিণ ও দুটি কুমির রয়েছে। বাকি বেষ্টনীতে কোনো প্রাণী নেই।

বেষ্টনীগুলোয় ফাটল ধরেছে। বেষ্টনীর নিচের ক্যানেলের লোহার রড ভেঙে গেছে। শুরুতে যে প্রাণী ছিল বর্তমানে ওই প্রাণীগুলোও নেই। বাঘের খাঁচায় বাঘ নেই, শূকরের খাঁচা শূন্য, পুকুরে কচ্ছপ নেই। স্পটটিতে গভীর নলকূপ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। পর্যটকদের বসার স্থান ও পয়ঃনিষ্কাশনের শৌচাগারগুলো অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন।

টেংরাগিরি (সখিনা) বিটের কর্মকর্তা জাহিদ প্রামাণিক বলেন, প্রাণীদের জন্য খাদ্য সরবরাহের অর্থ বরাদ্দ না থাকায় শূকর, মেছোবাঘ ও কচ্ছপ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পার্ক সংস্কারের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.