স্বপ্নরাঙা প্রহরে...

  মবরুর আহমদ সাজু ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রাম থেকে পরিবারের সঙ্গে শহরে এসেছে রাইছা। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে রাইছা। মায়ের সঙ্গে থাকে সে। তার বাবা থাকেন বিদেশে। সবে মাত্র জিএসসি পাস করে শহরের নামকরা আভিজাত স্কুলে ভর্তি হয়েছে। ইদানীং ক্লাসের ফাঁকে আনমনা প্রতিক্ষণ ভাবনারাশি। বন্ধুরা রুটিন অনুযায়ী স্কুলে শিক্ষকদের হোমওয়ার্ক প্রেজেন্টেশন করলেও রাইশা ভিন্ন জগতে বসবাস করছে সারাক্ষণ কৌতূহলী। রীতিমতো ভাবনা ছায়াপথ-মায়ের সঙ্গে বাবার সম্পর্কের অবনতি। বাবা থাকেন অনেক দিন যাবৎ বিদেশে মায়ের সঙ্গে ফোনে বাকযুদ্ধ। সময়ের চাহিদায় বাবার সঙ্গে রাইশার মা এর সম্পর্ক বিচ্ছেদ হল মাত্র গেল বছর। পরিবারের উপার্জনের কেউ নেই। সেই একমাত্র কন্যা যার জন্য মা-বাবা জীবন দিতে প্রস্তুত? একদিকে বাবা টাকা পাঠালে রাইশার মা সহ্য করতে পারে না। অন্যদিকে রাইশার মায়ের বাড়ি থেকে টাকা পয়সা আসে তার লেখাপড়ার জন্য। সব মিলিয়ে রাইশা চিন্তা জগতে মশগুল। অল্প বয়স ছাপ অনেক। জীবনের জয়গানে ছন্নছাড়া, কিন্তু রাইশা কৌতূহলী মনে অসাধারণ কিছু করতে চায়। কিন্তু কিছু করা সহজ হচ্ছে না। হতাশ হয়ে পড়ে সে। বর্তমানে তার কিছুই ভালো লাগছে না।

মধ্যবিত্তের আড়ালে তরুণ সমাজ। তার ধারণা সে অভিজাত গল্পের প্রধান চরিত্র। সে নিজের জীবন উপভোগ করছে ঠিকই কিন্তু খামখেয়ালিপনায় জীবন ছন্নছাড়া।

তার কিছুই ভালো লাগে না। সে এখন অভিজাত পরিবারের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে চলাফেরা করে। নৈমিত্তিক প্রেরণায় স্বপ্ন অসুখী। সে জানে না কীভাবে একটি মানুষের প্রাপ্তি তার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হলে মানুষটি সুখী হয়। উল্টো হলে অসুখী হয়। এদিকে রাইশার বাবা-মাকে রেখে ভিনদেশীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন। অন্যদিকে তার মা নতুন হৃদয়জন রসায়নে হাবুডুবু খাচ্ছেন। রাইশার স্বপ্নের প্রাপ্তি যেন প্রত্যাশার চেয়ে মিলছে না। সেটা জানার জন্য দায়বদ্ধতা কার? সমাজ, পরিবার নাকি রাষ্ট্রের। রাইশার জন্ম ৯০ দশকে। তাকে বড় করেছেন কখনও দাদু কখনও নানু। অনেক স্বপ্নের মেয়ে রাইশার ভাবনা মন্দ ছিল না। মা-বাবার মান অভিমান খামখেয়ালিপনায় রাইশা এখন ভিন্ন জেনারেশনের অংশীভূত। তারা চেয়েছিলেন কি তাদের মেয়েটির লাইফ স্টাইল উন্নত হোক? প্রথম অধ্যায়ের লেখাপড়ার পর ২য় অধ্যায়ে জীবনে তার কেউ পাশে ছিলই না। স্কুল কলেজে যাওয়া-আসা অথচ কোনো এক ভাবনা পথের আশীর্বাদে বাবা-মা তার ক্যারিয়ারের দিকে আস্ফালনের তীর নিক্ষেপ করলেন। তারা জানবে না?

রাইশা বেখেয়ালি মনে খাতা বই কলমের জায়গা ছেড়ে আভিজাত জেনারেশনের সেরা পল্লীর মধ্যমণি। মা-বাবাকে সময় দেয় না নিজেকে আজকাল অসাধারণ মনে করে। তার ধারণা- যদি তোর ডাক না শোনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে। একা চলতে গিয়ে আজ রাইশার সৌন্দর্য পিয়াসী অবয়বে জাদু কাটে সমাজে উচ্চশ্রেণী লোকদের। সে মনে করে সৌন্দর্যই তার ক্যারিয়ারে সেরা অর্জন। লেখাপড়া কম জানলে হবে। এ জেনারেশন অল্পবয়সী সুন্দরীদের আকৃষ্ট হয়। কেন হবে না? মাকে বাবা ছেড়েছেন মা বাবাকে ...... ।

কিন্তু এ জেনারেশন সবই সৌন্দর্যকে অসাধারণ মনে করে এদিকে ফেসবুকে অসাধারণ খেতাব অর্জন করেছে রাইশা। সারাক্ষণ চ্যাটিং ফোন মেইল এদিকে যাওয়া সেদিকে আড্ডা। এমন চলাফেরা রাত বেরাত আড্ডায় মত্ত্ব দেখে নিজেদেরকে অপরাধী মনে করছে। তাদের জন্য আজ মেয়েটি এ অস্বাভাবিক....। তার এমন ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তারাই সেই পুরাতন যুগে ফিরে যায় কথায় কথায়। এদিকে মা-বাবার আলাদা থাকা কেউ জানে না। নিজেকে নিজের ক্যারিয়ার গঠনে ভিন্নমুখী হতে চেয়েছে। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে হয় কীভাবে সে জানে না। সময় বলে প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার না মিললে এ স্বপ্নে ছোঁয়া কিশোরী হতাশ হয়ে পড়ে। যোগ্যতার চেয়ে বেশি সম্মান ও অভিজাত্য আশা করে সে। অথচ কঠোর পরিশ্রম করার কোনো ইচ্ছা নেই তার। তাই উদ্ভুত এ উচ্চভিলাষী রাইশা প্রত্যাশা প্রাপ্তি কখনোই তার মা-বাবার স্বপ্নের বাস্তবতার সঙ্গে মিলে না। কারণ রাইশার প্রতি মুহূর্ত ইগো আহত করছে। একাকী জীবনে ফেসবুক ইন্টারনেটে এর রঙিন দুনিয়ায়। আর এখানেই গড়ে উঠেছে তার উদ্ভুত দুনিয়ার রঙিন ফানুস। তবে সময়ের সংক্ষেপ বুঝে রাইশাই শেষ নিঃশেষে বলে গেল। নিজেকে সব সময় রঙিন দুনিয়ায় চিত্তোবিনোধনের বাহ বাহ’য় অসাধারণ মনে করেছে। নিজেকে ছাড়া সবাইকে আগ্রহ করেছে। তবে গল্পের প্রধান চরিত্র একটি গল্পের বাস্তবতার আড়ালে জীবন কাহিনীর সমাবেশ ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×