দুই দশকে যুগান্তর : স্বজন সমাবেশ ও স্থানীয় সাময়িকী খবরিকার আয়োজন

মীরসরাইয়ে আন্তর্জাতিক কবি সমাবেশ

আনোয়ারা সৈয়দ হক ও দাদুভাইকে সাদা মনের মানুষ সম্মাননা

  মাহবুব পলাশ ১০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, বাংলাদেশের অনেক উঁচুমানের লেখকের কবিতা ও সাহিত্যকর্ম বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত না হওয়ার কারণে বিদেশের পাঠকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সৈয়দ হক এমন একটি প্রতিভা যার সাহিত্যকর্মের দর্শন ও শৈল্পিক উচ্চতা যে কোনো পাঠকের মনকে নাড়া দেয়। তার সাহিত্যকর্ম ব্যাপকভাবে অনূদিত হলে বাংলা সাহিত্যের মান সম্পর্কে ভিন দেশের পাঠকরা সম্যক অবহিত হতে পারতেন।

দৈনিক যুগান্তর, স্বজন সমাবেশ ও স্থানীয় পাক্ষিক পত্রিকা খবরিকা’র দুই দশকে পদার্পণ উপলক্ষে শুক্রবার ৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে উপজেলা মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কবি সমাবেশের বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনোয়ারা সৈয়দ হক মূল পর্বের উদ্বোধনী বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামরুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের প্রধান অতিথি ছিলেন কিংবদন্তি ছড়াকার, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক ও যুগান্তরের ফিচার সম্পাদক রফিকুল হক দাদুভাই। এ পর্বটি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের কবি শেলিনা শেলী। সভাপতিত্ব করেন মহাকবি কাইয়ুম নিজামী।

অনুষ্ঠানে দাদুভাই বলেন, আবহমান বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক। তিনি বলেন, প্রতিবেশী বন্ধুদেশ ভারতসহ বহির্বিশ্বে বসবাসকারী প্রতিটি বাঙালির সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের শীর্ষ আসনে প্রতিষ্ঠিত করব। স্বজন সমাবেশের এ ধারাবাহিক আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে দাদুভাই বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জনপ্রিয় দৈনিক যুগান্তরের সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষ, অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গায়িকা প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী জীনাত রেহানা, যুগান্তর স্বজন সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক হিমেল চৌধুরী, কবি রাশেদা আক্তার মুন্নি, এনায়েত হোসেন নয়ন, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য শেখ আতাউর রহমান, দৈনিক আজাদীর ফিচার সম্পাদক প্রদীপ দেওয়ানজী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের দুটি পর্বই সঞ্চালনা করেন স্থানীয় স্বজন সমাবেশের উপদেষ্টা, যুগান্তর প্রতিনিধি ও খবরিকা সম্পাদক কবি মাহবুব পলাশ।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় রবীন্দ্র গবেষক, ঝাড়খণ্ডের সিধুকানু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ড. ছায়া গুহ বলেন, ভারত বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্যে মৈত্রী বৃদ্ধির মাধ্যমে আমাদের সাহিত্যকর্মেও সমৃদ্ধতা বাড়াতে পারি। এ ধরনের লেখক মৈত্রী সম্মেলন আমাদের উভয় দেশের সৃজনশীলতাকে বিকাশ করবেই।

কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. সন্দীপকুমার মণ্ডল প্রত্যাশা করেন, এ প্রজন্মের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সম্মিলিতভাবে বাঙালি সংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন করবে। তিনি বাংলা ভাষাভাষী প্রাদেশিক অঞ্চলের রাষ্ট্রীয় সীমানার বাধাবন্ধকতার বেড়ি ভেঙে ফেলার কথাও বলেন।

ভারতের বেনারস আরজু মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপিকা ড. ঝুমুর সেন গুপ্ত বাংলা ভাষার বেশি বেশি অনুবাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগের জোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে ‘সাদা মনের মানুষ’ হিসেবে সংবর্ধিত হন আনোয়ারা সৈয়দ হক ও রফিকুল হক দাদুভাই। এছাড়া বিশেষভাবে সংবর্ধিত হন যুগান্তরের চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান ও ছড়াকার শহিদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রামের নাট্যজন শেখ শওকত ইকবাল চৌধুরী, বাংলাদেশ কবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম কনক, কবি ফাতেমা হক, কবি আরিফ চৌধুরী, কবি নীলিমা শামীম, কবি মাহমুদ নজরুল, ফখরুল ইসলাম সিআইপি, কবি সাথী বেগম, কবি পারভিন আহমেদ, সাংবাদিক ফোরকান আবু, আনোয়ারুল হক নিজামী, মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আবুল হাশেম প্রমুখ।

জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’ ও ভারতীয় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে, ভারত ভাগ্য বিধাতা’ গেয়ে ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় কবি লেখকদের মধ্য থেকে বক্তব্য দেন রবীন্দ্র গবেষক ড. মৌ ভট্টাচার্য, মুম্বাই থেকে আগত কবি, গল্পকার সুমনা রায়, কলকাতার নজরুল সঙ্গীতশিল্পী শীলা পাল, ভারতের সাঁওতালি সঙ্গীতশিল্পী জয়ন্তি সৌরেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র গবেষক কবি সুমিতা ভট্টাচার্য্য, মুরারী সেনগুপ্ত ও যৌগেশ বর্মন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের কিংবদন্তি কণ্ঠযোদ্ধা কল্যাণী ঘোষের কণ্ঠে ‘ওরে সাম্পানওয়ালা’, ‘যদি সুন্দর একখান মন পাইতাম’সহ কয়েকটি গান সবাইকে মাতিয়ে তোলে। অন্যদিকে ‘সাগরের তীর থেকে’ সেই বিখ্যাত গানের বরেণ্য শিল্পী জীনাত রেহানা একটি ফুল আর একটি পাখিসহ আরও কয়েকটি গান গেয়ে বিমোহিত করেন সবাইকে। মোড়ক উন্মোচন হয় কবিতা প্রকাশনা এপার ওপার এবং ছড়াকার সোনা মিয়ার ‘সাগর কন্যা’ বইয়ের।

অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন পার্বত্য জেলা থেকে আসা বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত প্রভাংশু ত্রিপুরা, একুশে পদকপ্রাপ্ত মংছেনচীং মংছীন ও শোভা রাণী ত্রিপুরা। চাকমা ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করেন আলোময় চাকমা, জ্ঞানপ্রিয় চাকমা ও মায়া চাকমা। উর্দুভাষায় স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন মাজহারুল হক ও আশরাফুল ইসলাম, আরবি ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করেন মো. সাইফুল ইসলাম । অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মীরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন, সাবেক মেয়র এম শাহজাহান, জয়নাল হোসাইন, হাফেজ শহিদুল্লাহ মিয়াজী, কবি দেবাশিষ ভট্টাচার্য্য, বাবু সুবাস সরকার, নারায়ন সরকার, কবি ও সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কবি শাহাদাত হোসেন লিটন, কবি ফিরোজ উদ্দিন বাদল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা. উপজেলা, ও পার্বত্য অঞ্চলের কবিদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সহযোগী সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে কবি ও সাংবাদিক রাজীব মজুমদার, কবি পুশকীন চৌধুরী ও তাছনিম মাহবুব তানহা। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান শোনায় শিশু শিল্পী ইতি বড়–য়া। উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেয় মিরসরাই শিল্পকলা একাডেমির শিশু শিল্পীরা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×