একমালাতে গাঁথা

  সায়কা বানু ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটাও রিকশা পাচ্ছি না, কিভাবে যে যাব, হাতে সময়ও বেশি নেই। কি যে করব, হাঁটতেও পারছি না পারবইবা কিভাবে, জীবনে প্রথমবারের মতো শাড়ি পরেছি। আমার দলের সবাইকে শাড়ি পরে আসতে হবে। এখন আমি বা কি করে কামিজ পরে যাব। এমনটি বৈশখী মেলা তার ওপর এত ভিড় সময় তো চলে যাচ্ছে তার মতন করে। এখন ৮টা বাজে ৯টায় আমার গান, উফ! কি যে করি? আমি কি সাহায্য করতে পারি তোমাকে চমকে পেছনে তাকাল দিনা, আপনি, হায় আমি চলুন আপনাকে পৌঁছে দেই। না লাগবে না। আরে চলুন আমি জানি আজ আপনার গান গাওয়ার কথা বৈশাখী মেলাতে। আপনি কি আমাদের সংগঠনের সদস্য। না তবে আপনাদের সব সদস্যের সঙ্গে আমার ভালো পরিচয় আছে ও আচ্ছা ঠিক আছে, ধন্যবাদ আপনাকে। আসলে রিকশা পাচ্ছি না, পেলেই চলে যাব। এখানে সহসা গাড়ি পাবেন না। এমনিতে আজ পহেলা বৈশাখ তার ওপর বৈশাখী মেলা ভিড়ের জন্য রিকশা ওদিকটায় যাবে না। আপনি আমার বাইকের পেছনে উঠুন। আপনাকে পৌঁছে দেই।

দুই.

ধন্যবাদ ভাইয়া, মনে থাকবে আপনার উপকারের কথা। আপনার সাফল্য কামনা করছি। তা ঠিক আছে, ভাইয়া আপনার নামটা ... সেটা আরেক দিন বলব... যেভাবে এসে ছিল, সেভাবে চলে গেল... অপলক দৃষ্টিতে দিনা তাকিয়ে থাকল।

তিন.

দিনা কেমন আছেন, আপনি... গান তো খুব ভালো করেন দেখি। অনেক সুন্দর আপনার কণ্ঠ। তা পারি মোটামুটি। আচ্ছা সেদিন আপনার নাম বললেন না কেন? সেটা পরেও জানা যাবে। তাছাড়া তুমি আমার নাম মনে হয় জান। এখন বল বৈশাখী মেলাতে যে গান তুমি গেয়েছ তা কোথা থেকে পেলে। কেন বলুন তো। তা পরে বলব এখন বল? সত্য কথা বলব। অবশ্যই সত্যি কথা বলবে। অনেক দিন আগে শহীদ মিনারের সামনে মুড়িওয়ালার কাছ থেকে মুড়ি কিনে খাচ্ছিলাম। মুড়ির ঠোঙ্গাতে লেখা ছিল এই গানটি। অনেক সুন্দর হাতের লেখা ছিল বলে সহজে চোখে পড়ে যায়। গানটা খুব ভালো লাগল। তখনই সিদ্ধান্ত নেই পহেলা বৈশাকে এই গানই গাইব। তাই বল। এখন আপনি বলুন হঠাৎ কেন জিজ্ঞাসা করলেন। কারণ তোমার গান একটি কবিতা ছিল। আর কবিতাটি ছিল আমার লেখা। একদিন কোথায় আমার কবিতার খাতাটি মুড়িওয়ালা ভাইয়ের ঠোঙ্গা হয়ে গেছে। সরি ভাইয়া আমি তো জানতাম না। না জেনে অন্যজনের কবিতায় আমার গানের সুর তুলে দিলাম। তাও আবার একটু ভিন্ন মাত্রায়.....। তার মানে আপনি আমাকে অনেক আগ থেকে চিনতেন, আমার সব খবরও রাখেন কেন বলুন তো। সবচেয়ে বড় কথা এখন আপনার নামটা বলুন। সব উত্তর এখন দিয়ে দিলে হবে কি? আমার নাম কবিতার মধ্যেই তো পাবে। আর সময় হলে সব কেনর উত্তর পাবে। আমি এখন যাই তাহলে। ভাইয়া শুনুন.....

চার.

ও তাহলে জনাবের নাম সোহান হায়দার চৌধুরী। ঠিকই বলেছে কবিতার মধ্যে তার নাম কি সুন্দর করে স্বাক্ষর করা। আমার মাথায় কিছু আসছে না। এই সোহান কে? থাকে কোথায়? আমাকে চেনে কিভাবে? বৈশাখে প্রথম দেখা, তার সাহায্য নেয়া, আবার অজান্তে তার কবিতায় আমার গানের সুর তোলা কেমন জানি রহস্য রহস্য মনে হচ্ছে।

‘নব বৈশাখে, নব্য পাওয়া মানুষটি কি আমার সুরকার হবে। থাকবে নাকি আমার পাশে যুগ যুগান্তর ধরে, সোহানের কবিতা আর দিনার সুর কি একমালাতে গাঁথা হবে, বাজবে অনন্ত সময় ধরে।.......

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×