বাবা, কত দিন দেখি না তোমায়?

  দেওয়ান সামছুর রহমান ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায় উনিশ বছর আমার বাবা আমাদের রেখে এ জগৎ সংসারের মায়া ছেড়ে পরপারের যাত্রী হয়েছেন। উনিশটি বছর ধরে আমরা বাবা ডাকা থেকে বঞ্চিত। কত দীর্ঘ সময় হল বাবাকে দেখি না। কিন্তু বাবার স্মৃতি আমার মনের মণিকোঠায় এখনও স্পষ্ট, সতেজ। আমার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক। আমাদের স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসরে গিয়েছিলেন। আমি বর্তমানে যে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি সে স্কুলেরও ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক ও পরবর্তীতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। আমার পড়াশোনা, আমার ব্যক্তিত্ব, আমার পেশা নির্বাচন সবকিছুতেই আমার বাবা ছিলেন আমার বাতিঘর। আমি আমার বাবাকে দেখে এ পেশার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি।

আমি চেষ্টা করি বাবার নীতি, আদর্শকে ধারণ করে আমার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিতে। কখনও যদি পথভ্রষ্ট হই বাবার শিক্ষা আমাকে পথ দেখায়। হতাশায় নিমজ্জিত হলে বাবার ব্যাক্তিত্ব আমাকে অণুপ্রাণিত করে। বাবার সুনাম, সম্মান, মর্যাদাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে চেষ্টা করি সর্বদা। আমি যখন দেখি আমার চেয়েও অনেক বেশি বয়সী লোকদের বাবা রয়েছে কিংবা বাবা বলে ডাকতে পারছে অথবা বাবার আদর-সোহাগ পাচ্ছে তখন অতৃপ্তি থেকে যাচ্ছে বাবাকে এত তাড়াতাড়ি হারানোর কারণে, এত তাড়াতাড়ি বাবা ডাকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে। আমি ছাত্র থাকাকালীনই আমার বাবা মারা যান। ফলে বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনে আমি ব্যর্থ হয়েছি, আমার উপার্জনের কোনো সামান্য পরিমাণ অংশও সরাসরি বাবার জন্য ব্যয় করতে পারিনি। কী বা এমন ক্ষতি হতো এ জগতের যদি আমার বাবা আর ক’টা বছর বেঁচে থাকতেন। শিক্ষক বাবার আদর্শ পেশায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবং বাপ-দাদার ভিটেমাটি রক্ষায় গ্রামের হাই স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় জড়িয়ে রয়েছি।

আমার বাবার স্নেহমাখানো শাসন, আদর, সোহাগ, ভালোবাসা কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। বাবা বোধকরি কোনোদিন মনের ভুলেও আমাদের কোনো ভাইবোনদের গায়ে হাত তোলেননি তদুপরি বাবাকে আমরা ভয় পেতাম সাংঘাতিক। যেমন ভয় পেতাম তেমনি আবার ভক্তিশ্রদ্ধা করতাম, ভালোবাসতামও। আর বাবার ভালোবাসা যে কতটুকু পেতাম সেটি ছিল অপ্রকাশযোগ্য। বাবা আমাদের ভাত মেখে তুলে খাইয়ে দিতেন, নদীতে নিয়ে গোসল করিয়ে দিতেন, পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন, সকালবেলা ঘুম থেকে জাগিয়ে মক্তবে পাঠাতেন, সন্ধ্যাবেলা পড়তে বসাতেন- এ ধরনের হাজারও স্মৃতি রয়েছে বাবাকে ঘিরে। নীতি আর আদর্শে বাবা ছিলেন অদ্বিতীয়। আজও বাবার সাবেক ছাত্ররা যখন বাবার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয় তখন গর্ব হয় বাবাকে নিয়ে, গর্ব হয় বাবার পেশা নিয়ে। আর সান্ত্বনা পাই এ ভেবে যে আজ আমি এই মহান পেশায় আসতে পেরেছি কেবলই আমার বাবার জন্য। প্রতিটি বাবা তার সন্তানদের কাছে যোগ্য মর্যাদা ও সম্মান পাক বাবা দিবসে এ প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×