হুতোম পেঁচার ভূতোম ডাক!

  মো. আনিসুর রহমান খান ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রফিক মিয়া অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির মানুষ। রাতের বেলায় একাকী চলতে ভয় পায়। রাত একটু বেশি হলেই কানে ভেসে আসে হুতোম পেঁচার ডাক। রামগঞ্জ বাজারে তার মুদি দোকানের ব্যবসা। দোকান বন্ধ করে অনেক রাতে বাড়ি ফিরতে হয়। মূল সড়ক পেরিয়ে মেঠোপথের বাঁকে পুরনো বটগাছ। তার কিছু দূরে হিন্দুদের রাম মন্দির। প্রতিদিন বাড়ি যেতে পথচারীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে তবেই বাড়ি ফেরা হয়। পুরনো টর্চ লাইটের নিয়ন আলোতেও যেন ভরসা পাচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরে অমাবস্যা চলছে সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি। পথচারী কাউকে না পেয়ে মূল সড়ক থেকে ফিরে যান দোকানে। রাতটুকু দোকানেই কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফেরেন। রফিক মিয়ার স্ত্রী রাহেলা বেগম খুবই সাহসী। তিনি এসব ভূত-পেত্নী কিছুতেই বিশ্বাস করেন না। এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। স্ত্রীর বকাঝকা শুনে দোকান একটু আগেই বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন। হুজুরের কাছে শুনেছেন দোয়া দুরুদ পড়লে কোনো ভূত-পেত্নী ধারে কাছেও আসে না। রাস্তায় কাউকে সঙ্গে না পেলে জোরে জোরে দোয়া দুরুদ আওড়াতে থাকেন। কয়েক দিন থেকে রফিক মিয়া বুঝতে পারলেন দোয়া দুরুদে বেশ কাজ হচ্ছে। এখন একাকী চলতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না।

একদিন ঘটে গেল এক মহাকাণ্ড! রাম মন্দিরের পাশে ঠাকুর বাড়ির এক মৃত ব্যক্তির লাশ চিতায় দাহ করা হচ্ছে। এ কথা রফিক মিয়া জানত না। সেদিন সে একাই বাড়ি যাচ্ছিল। মেঘলা আকাশে মাঝে মাঝে বিজলী চমকাচ্ছে। বাড়ি ফেরার পথে নজর পড়ল চিতার দিকে। ভয়ে তার বুক কেঁপে উঠছে। শরীর অসার হয়ে আসছে আর জোরে জোরে দোয়া দুরুদ জপছে। সামনের দিকে যতই যাচ্ছে মনে হচ্ছে কেউ যেন পেছন থেকে তার নাম ধরে ডাকছে। বিজলীর আলোতে সামনে কে যেন তার দিকে চোখ বড় বড় করে হাসছে। হুতুম পেঁচার অদ্ভুত ডাক বারবার তার কানে ভেসে আসছে। কোনো মতে বাড়ি ফিরে রফিক মিয়া হুশ হারিয়ে ফেলেন। পরদিন স্ত্রী রাহেলা বেগম তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন। রফিক মিয়া কিছুতেই ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র নিতে রাজি হলেন না। তার কথায় এসবের জন্য কবিরাজের কবজ ভালো ফল দেবে। ডাক্তার ছিলেন বেশ বুদ্ধিমান তিনি বুঝতে পারলেন মানসিক ভয় থেকেই এসব হচ্ছে। কিছুক্ষণ চিন্তা-ভাবনা করে বললেন আমি কবিরাজি বিদ্যাও জানি। আপনাকে একটা তাবিজ লিখে দেব দেখবেন ভূত-পেত্নী আপনার ধারে কাছেও আসবে না। ডাক্তার সাহেব কাগজে কিছু একটা লিখে মোড়ানো কাগজটি ধরিয়ে দিলেন রফিক মিয়ার হাতে। মোড়ানো কাগজ তামার খোলসে ভরে ডান হাতে পরার নির্দেশ দিলেন। তাবিজ পরার পর থেকে রফিক মিয়া মনোবল আর বিশ্বাস নিয়ে পথ চলতে শুরু করেন। এখন আর হুতোম পেঁচার ডাক শোনা যায় না! কারণ সে জানত তার সঙ্গে আছে রক্ষা কবজ! আসলে সেদিন ডাক্তারের সেই তাবিজের কাগজে লেখা ছিল-

হুতোম পেঁচার ভূতোম ডাক’

ভূত-পেত্নী নিপাত যাক!

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×