মেহেরপুরে স্বজনের নয়া কমিটির অভিষেক

যুগান্তরের মতো নিরপেক্ষ থেকে ভূমিকা রাখতে হবে : মেয়র রিটন

  তোজাম্মেল আযম ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অনুষ্ঠান শুরুর আগেই মেহেরপুর পৌর কালাচাঁদ মেমোরিয়াল হল কানায় কানায় ভরে ওঠে। অনেককে হলের বাইরে অবস্থান নিতে হয়। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতি কর্মীদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল গঠিত যুগান্তর স্বজন সমাবেশ মেহেরপুর শাখার কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান। কমিটির সভাপতি মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লা আল আমিন ধুমকেতুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন যুগান্তরের ফিচার এডিটর, কবি ও ছড়াকার রফিকুল হক দাদুভাই। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কবিদের সংগঠন রূপশালী সম্পাদক কবি রিনা গিরি, বাচিক শিল্পী সুদীপা রায় ও অরণি থিয়েটারের সম্পাদক আতিক স্বপনের উপস্থিতি ছিল অনুষ্ঠানের প্রাণ।

অনুষ্ঠানে কলকাতার রিনা গিরি ও সুদিপা রায়কে দেয়া মানপত্র পাঠ করেন যুগান্তর প্রতিনিধি ও স্বজন সমাবেশের প্রধান উপদেষ্টা তোজাম্মেল আযম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্বজন আফসানা বিশ্বাস তিথি, রেশমা খাতুন ও আফরিনা তাবাসসুম তৃষা। অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সংবাদপত্র মেহেরপুর প্রতিদিন ও অনলাইনভিত্তিক সংবাদপত্র মেহেরপুর নিউজ সরাসরি সম্প্রচার করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, যুগান্তর প্রকাশনার শুরু থেকেই নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করে পাঠকপ্রিয় হয়েছে। স্বজন সমাবেশের সবাইকে যুগান্তরের মতো নিরপেক্ষ থেকে সমাজ গড়তে ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য মেহেরপুর পৌরসভা সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

রফিকুল হক দাদুভাই বলেন, মেহেরপুর স্বাধীনতার সুতিকাগার। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়কালে মেহেরপুরের মুজিবনগরের মাটিতে দেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ পুণ্যভূমিতে আসতে পেরে আমরা ধন্য। তিনি মেহেরপুর ও মুজিবনগরের প্রতিটি পরিবারে যুগান্তর পৌঁছে দিতে স্বজন সমাবেশের প্রতি আহ্বান জানান।

রূপশালী সম্পাদক কবি রিনা গিরি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, রাজনীতির কারণে বাংলা দু’ভাগ হলেও আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভক্ত হয়নি। আমরা চাই দুই বাংলার মধ্যে সংস্কৃতির আদান প্রদান অব্যাহত থাকুক।

বাচিক শিল্পী সুদীপা রায় বক্তব্যের শুরুতেই শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে’ কবিতাটি আবৃত্তি করে সবাইকে অভিভূতি করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের রক্তস্নাত মেহেরপুরে আসতে পেরে ধন্য হয়েছেন বলে স্বজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে আল আমীন বলেন, সৃজনশীল উদ্যোগ ও সংস্কৃতি কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও দীপিত করার লক্ষে স্বজন সমাবেশ কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এমন একটা সমাজ চাই যেখানে সবাই আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে পরস্পর স্বজন হয়ে উঠবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. মাহবুবুল হক মন্টুর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পৌর প্যানেল মেয়র শাহীনুর রহমান রিটন, আন নুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মো. আল আমীন বকুল, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, স্বজন সমাবেশ মেহেরপুরের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ওয়াদুদ, ক্রীড়াবিদ ইমদাদুল হক ও সঙ্গীত শিক্ষক শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টু, তৌহিদুল ইসলাম কনক, ইত্তেফাক প্রতিনিধি মাহাবুব চান্দু, বাসস প্রতিনিধি দিলরুবা খাতুন, কবি সুখি ইসলাম প্রমুখ।

যুগান্তর স্বজন সমাবেশের অগ্রগতির জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রথমপর্ব শেষ হয়। বিকেলে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর অতিথিরা সেখানে মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরভিত্তিক বাংলাদেশ মানচিত্র ঘুরে দেখেন। মানচিত্রে ও মানচিত্রের বাইরে ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা মুক্তিযুদ্ধে পাকসেনাদের নির্যাতনের দৃশ্য দেখে অতিথিরা হানাদারদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×