স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক

  সেলিম আল রাজ ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাখির মতো আমরাও আজ স্বাধীন। একসময় এই স্বাধীনতা আমাদের ছিল না। পরাধীনতার শৃঙ্খলের আবদ্ধ ছিল বাঙালি জাতি। পলাশি যুদ্ধ থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টি পূর্ব পর্যন্ত সইতে হয়েছে নির্যাতন, নীপিড়ন, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা। শোষক শ্রেণির অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কত মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। তবুও বীরের জাতি বাঙালিদের রুখতে পারেনি শাসকরা। একাত্তরে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পায় বহু আকাঙ্ক্ষিত মুক্তি।

আমাদের মুক্তির পেছনের ইতিহাসটা সুদীর্ঘ। কত সংগ্রাম। কত শহীদ গাজীর বীরত্বের কাহিনী, যা কখনও ভুলার নয়। তাদের ত্যাগ, আমাদের অনুপ্রাণিত করে দেশপ্রেমে। আমরা তাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখার জন্য আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, মেহেরপুরে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলা, স্বাধীনতার ডাক, ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মনুমন্টে ফোয়ারা, মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ ইতিহাস করে ধারণ করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশপ্তক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবাস বাংলাদেশ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্ত বাংলা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মারক ভাস্কর্য, গাজীপুরে জাগ্রত চৌরঙ্গী ইত্যাদি যেন প্রতিটি স্তম্ভ এক একটি স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক। সারাদেশে ছড়িয়ে আছে আরও অনেক স্থাপত্য। এমনই আরেকটি স্বাধীনতার অনন্য ভাস্কর্য ‘বিজয় ৭১’, যা গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতাকে প্রকাশ করছে আপন মহিমায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত এই চমৎকার স্মৃতিসৌধের মূল স্তম্ভে মূর্তিমান তিন বীরের প্রতীক। ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামে নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের অসাধারণ দৃশ্য। ভাস্কার্যের দেয়ালে অঙ্কিত হয়েছে ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, ভোটার্নিক্যাল গার্ডেন, শহীদ মিনার, চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনের পাশেই নির্মিত অপরূপে বিজয় ৭১। শ্যামল চৌধুরীর নিপুণ কারুকাজে এ স্থাপত্যটি স্বাধীনতার গৌরবের বহিঃপ্রকাশ। এর চতুর্দিকে রয়েছে ফুল বাগান। স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজের সূচনা হয় ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে এবং কাজের পরিসমাপ্তি ঘটে ১৬ জুন ২০০০ সালে। একই বছরের মহান বিজয় দিবসে বিজয় ৭১-এর ফলক উন্মোচন করা হয়। ১২০০ একরেরও অধিক আয়তনের এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ আগত দর্শনার্থীদের এটি শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা জোগায়। স্বাধীনতার প্রতিচ্ছবিগুলো ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা বলে। মাথা উঁচু করে আপন শক্তিতে এগিয়ে চলার কথা বলে।

গৌরীপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×