ইন্টারনেট এডিকশন

  ডা. মো. হারুনুর রশীদ ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইন্টারনেট এডিকশন
ইন্টারনেট এডিকশন। ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেটের প্রতি আসক্তি অন্যান্য নেশার মতোই একটি নেশা যা ব্যক্তির সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। ইন্টারনেট ব্যতীত বর্তমান যুগে চলা অসম্ভব। আবার এর অতি আসক্তি জীবনকে ধ্বংস করছে।

কখন ইন্টারনেট এডিকশন বলব?

* মাথার মধ্যে যখন প্রধান চিন্তা থাকে ইন্টারনেট।

* সপ্তাহে ৩৮ ঘণ্টার বা তার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করা।

* ইন্টারনেট ছাড়া থাকতে না পারা, বাদ দিতে গেলে দুঃশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা অন্যান্য সমস্যা নেমে আসে।

* ইন্টারনেটই যার বিনোদনের প্রধান উৎস।

* ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহার করা লুকিয়ে রাখতে চায় অথবা মিথ্যা কথা বলে।

* বাস্তব জীবন থেকে ইন্টারনেট লাইফই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকারভেদ

* সাইবার সেক্স

* সাইবার রিলেশনাল প্রবলেম

* পর্নোগ্রাফি

* অনলাইন gamlling বা জুয়া

* ইন্টারনেট গেমিং

* ফেসবুক আসক্তি

* কমপালসিভ ডেবিড Inducins Shopping ইত্যাদি।

শারীরিক প্রতিক্রিয়া

* ঘাড়, মাজা ব্যথা

* মাথা ব্যথা

* Eye strain (চোখে অস্বাভাবিক চাপজনিত সমস্যা)

মানসিক প্রতিক্রিয়া

* অনিদ্রা

* অতিরিক্ত টেনশন বোধ

* বিষণ্ণতা

* যৌন সমস্যা

* অপরাধ প্রবণতা

* মনোযোগ কমে যাওয়া

পারিবারিক

সম্পর্কের ভয়াবহ অবনতি দাম্পত্য কলহের প্রধান কারণ এখন ফেসবুক Chating or Cyber sex.

বিশেষ করে কিশোরীরা সহজেই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এটা আসলেই ঝুঁকিপূর্ণ।

পেশাগত

অতিরিক্ত টেনশন, বিষণ্ণতা, অনিদ্রার জন্য সারা রাত নেট চালায়, সারাদিন ঘুমায়। স্বাভাবিক জীবন যাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

চিকিৎসা

* সাইকোলজিক্যাল

* ফিজিক্যাল

* সোস্যাল

সাইকোলজিক্যাল

* সাইকো এডুকেশন- ইন্টারনেটের কুফল সম্পর্কে জ্ঞান দান।

* Set a limit- বা ইন্টারনেটের সীমিত ব্যবহার।

* ইন্টারনেটে আনন্দ না খুঁজে বাস্তব জীবনে আনন্দ বের করা। যেমন- গল্প করা, আড্ডা দেয়া, বাগান করা, বেড়ানো, বই পড়া ধর্মীয় বই পুস্তক চর্চা করা ইত্যাদি।

* পরিবারকে অধিক সময় দেয়া। বিশেষ করে Spouse, Partnerকে। পারিবারিক জীবনের সব গোপন কথা এখন নেটে।

* মিডিয়ার মাধ্যমে ইন্টারনেটের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

* বাস্তব জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া।

* কাজে ব্যস্ত থাকা।

ফিজিক্যাল

সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তবে যদি কোমরবিড মেনটাল ইলনেস থাকলে TCA, SSRI, (বিষণ্ণতা নাশক ওষুধ), Benyodia yepine (৩ সপ্তাহের বেশি নয়) ব্যবহার করা যেতে পারে। ভয়াবহ ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি কাউনসিলিং ও ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।

মরালিটি improvement (নৈতিক শিক্ষাদান)

পর্নোগ্রাফি আসক্তি

ইন্টারনেটে এডিকশনের একটি ভয়াবহ রূপ। কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নয়, কিশোর-কিশোরীরা এখন এতে আসক্ত হচ্ছে এটা মস্তিষ্ককে চরমভাবে উত্তেজিত করে। ফলে অবৈধ যৌনাচার, ধর্ষণের প্রবণতা এবং ঘটনা বাড়ছে।

কখনই টিনএজাররা এই ভার তাদের মস্তিষ্কে বহন করতে পারবে না। ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে সমাজে। যদিও ১৮+ লেখা থাকে। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।

উন্নত বিশ্বে ইন্টানেট Addiction centre আছে। আমাদেরও করতে হবে সময়ের প্রয়োজনে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি নিরাময় বিশেষজ্ঞ, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মিরপুর, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×