পুরুষদের বন্ধ্যত্ব

  ডা. শাহজাদা সেলিম ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরুষদের বন্ধ্যত্ব

প্রথাগতভাবে সন্তান না হওয়ার জন্য নারীকেই দায়ী করা হলেও এতে পুরুষ সঙ্গীর ভূমিকাও অনেক সময় প্রধান নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়।

প্রায় ৪০-৫০% ক্ষেত্রে পুরুষদের সমস্যার কারণে বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়, যা মোট পুরুষ জনসংখ্যার ৭% এর মতো দাঁড়ায়। যে কারণে পুরুষদের সন্তান না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় তা এখানে আলোচনা করা হল-

পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ হল পর্যাপ্ত মান সম্পন্ন শুক্রাণু তৈরিতে ব্যর্থতা। এর কারণগুলো নিুরূপ হতে পারে :

* ৩০-৪০% ক্ষেত্রে শুক্রাশয়ের ত্রুটি থাকে।

* ১০-২০% ক্ষেত্রে শুক্রাণু বেরোনোর পথে প্রতিবন্ধকতা থাকে।

* ১-৫% ক্ষেত্রে পিটুইটারী বা হাইপোথ্যালামাসে সমস্যা থাকে।

* ৪০-৫০% ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে না।

পুরুষদের বন্ধ্যত্ব শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল রোগীর পরিপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা। এক্ষেত্রে অন্য অনেকগুলো শারীরিক সমস্যা সংযুক্ত থাকতে পারে। পরিবেশের নানাবিধ বিষাক্ত পদার্থও এর পেছনে থাকতে পারে। ধূমপান সব সময়ই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

শুক্রাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া (ভ্যারিকোসিন, টরশন, ইনফেকশন)।

জেনেটিক বা ক্রোমোজমাল সমস্যা-ক্লিনেফেলটার সিন্ড্রোম।

যাদের ডায়াবেটিস আছে, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ভালো নয় তাদেরও এ সমস্যা হতে পারে। যাদের কোনো সন্তান নেই তাদের ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি যারা এক বা একাধিক বার বাবা হওয়ার পরেও এখন সন্তান নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের জন্যও এ পরীক্ষাটি করা প্রয়োজন হবে। Semen Analysis হতে শুক্রাণুর সংখ্যা, আকৃতি, চলতো ক্ষমতা ইত্যাদিরও ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

কিছুকিছু ক্ষেত্রে অন্য রোগের পরীক্ষাও পুরুষদের বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা এর কারণের ওপর নির্ভর করে। আবার স্ত্রীর বন্ধ্যত্বের কোনো কারণ আছে কিনা, তাও বিবেচনায় নিতে হবে।

সে জন্য সব সময়ই উভয় পার্টনারকে একই সঙ্গে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়। অনেক রোগীর শুক্রাণু চলাচলের নালিটি বন্ধ থাকে এবং বন্ধ্যত্ব হয়।

আগের কোনো ইনফেকশন বা আঘাতের কারণে এমনটি হতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রেই জন্মগতভাবে এ নালিটি অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত থাকতে পারে। এ সমস্যাগুলোতে অপারেশন করে নালির শুক্রাণু প্রবাহমানতা অনেকটাই স্বাভাবিক করা যেতে পারে।

কারও কারও ক্ষেত্রে আগে ভ্যাসেকটমি করাছিল, তা আবার পুনঃসংযুক্ত করে পুরুষটিকে প্রজননক্ষম করা যেতে পারে।

মস্তিষ্কের নিচের দিকে অবস্থিত পিটুইটারী ও হাইপোথ্যালামাস শুক্রাশয় থেকে টেস্টোস্টেরণ নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। যদি কোনো কারণে ওই গ্রন্থি দুটির কার্যকারিতা কম থাকে তবে হরমোন ইনজেকশন দিয়ে এটির কার্যকারিতা বাড়ানো যাবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×