শিশু কিশোরের আচরণগত সমস্যা
jugantor
শিশু কিশোরের আচরণগত সমস্যা

  ডা. মো. হারুনুর রশিদ  

২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আচরণ

কনডাক্ট ডিসঅর্ডার কৈশোরের একটি মানসিক রোগ। সাধারণত ১৫ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের কিশোর-কিশোরীরা এতে আক্রান্ত হয়।

মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা প্রায় ১ ভাগ এই মানসিক রোগে আক্রান্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিতা-মাতা, অভিভাবকরা একে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না, পারলেও স্বীকার করতে চান না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হয় না বা বিলম্বিত হয়। সাধারণত এটা ছেলেদের হয়, মেয়েদেরও হতে পারে।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের কারণ

আসল কারণ এখনও অজানা।

জেনেটিক : বংশগত মানসিক রোগের প্রভাব কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘটে।

পরিবেশগত : অস্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ, দাম্পত্য কলহ, শিশু-কিশোরের ওপর বাবা-মার বা অন্য অভিভাবকের শারীরিক, মানসিক নির্যাতন। মেয়েশিশু কিশোরীদের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী বা অন্য কারও দ্বারা যৌন নির্যাতন। যা পরবর্তীতে মানসিক রোগের কারণ হয়। নেশাগ্রস্ত পিতার অস্বাভাবিক আচরণ কিশোরদের মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

উগ্র আচরণ প্রত্যাক্ষণ : শিশু যা দেখে তা শেখে। এটাকে বলে Observation Learning। পারিবারিক পরিবেশ অস্বাভাবিক হলে এর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার : টিভি বা Net-এ, Cartoon-এ আক্রমণাত্মক দৃশ্য বারবার দেখা।

আর্থসামাজিক মূল্যবোধ : ভালোবাসার অভাব, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত অংশের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়।

অন্যান্য সমস্যা : অবৈধ যৌনাচারে জড়িয়ে পড়া, Pornographs এ আসক্তি।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের লক্ষণ

* অপরাধ প্রবণতা : অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া, অবাধ্যতা, মাতা-পিতা, শিক্ষকসহ অভিভাবকের কোনো কথা না শোনা, কোনো কারণ ছাড়াই মারামারি করা।

* হিংস আচরণ : মানুষ এমনকি পশু-পাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, কোনো অপরাধবোধ কাজ না করা, সবসময় মিথ্যা কথা বলা, চুরি করা (বয়স ৭ এর বেশি হতে পারে), রাতে বাড়ির বাহিরে অবস্থান (অভিভাবককে না জানিয়ে), জিনিসপত্র-সম্পদ ধ্বংস করা, কথার মাধ্যমে অন্যদেরও উত্ত্যক্ত করা, অন্য কৌশলেও হতে পারে।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা : দীর্ঘমেয়াদি

সাইকোথেরাপি : এটিই মূল চিকিৎসা (পিতা-মাতাকে লালন-পালনের guideline দেয়া), বাচ্চা কথা শুনলে তাকে পুরস্কৃত করুন, কথা না শুনলে তাকে বঞ্চিত করুন, সুবিধা কমিয়ে দিন, শারীরিক নির্যাতন না করে মানসিক চাপ অব্যাহত রাখুন।

Anger management : রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য Counseling.

Residential Care

আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিতে হতে পারে। যেখানে পড়াশোনায় কড়াকড়ি বা চাপ বেশি থাকবে। কিশোর-কিশোরীদের একটা সুশৃঙ্খল জীবনের মধ্যে ঢুকানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ফিজিক্যাল (ওষুধ) : উগ্র আচরণ/অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ন্ত্রণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধ লাগে। সাইকিয়াট্রিস্ট্রের তত্ত্বাবধানে ওষুধ খাওয়াতে হবে। আনাড়ি দিয়ে বা নিজে নিজে ডাক্তারি করতে যাবেন না, বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ফলোআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের পরিণতি : চিকিৎসা না করালে অস্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব (Anti-Social Personalities Disorder) হতে পারে। নেশায় জড়িয়ে পড়তে পারে। বিষণ্ণতা বা অন্য কোনো মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে। মানসিক সমস্যাকে অবহেলা করবেন না, অবহেলার কারণে আপনার সন্তানের জীবন বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ ও মাদকাসক্তি নিরাময় বিশেষজ্ঞ, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মিরপুর-১, ঢাকা

শিশু কিশোরের আচরণগত সমস্যা

 ডা. মো. হারুনুর রশিদ 
২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
আচরণ
প্রতীকী ছবি

কনডাক্ট ডিসঅর্ডার কৈশোরের একটি মানসিক রোগ। সাধারণত ১৫ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সের কিশোর-কিশোরীরা এতে আক্রান্ত হয়।

মোট জনগোষ্ঠীর শতকরা প্রায় ১ ভাগ এই মানসিক রোগে আক্রান্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পিতা-মাতা, অভিভাবকরা একে মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না, পারলেও স্বীকার করতে চান না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা হয় না বা বিলম্বিত হয়। সাধারণত এটা ছেলেদের হয়, মেয়েদেরও হতে পারে।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের কারণ

আসল কারণ এখনও অজানা।

জেনেটিক : বংশগত মানসিক রোগের প্রভাব কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘটে।

পরিবেশগত : অস্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ, দাম্পত্য কলহ, শিশু-কিশোরের ওপর বাবা-মার বা অন্য অভিভাবকের শারীরিক, মানসিক নির্যাতন। মেয়েশিশু কিশোরীদের ক্ষেত্রে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী বা অন্য কারও দ্বারা যৌন নির্যাতন। যা পরবর্তীতে মানসিক রোগের কারণ হয়। নেশাগ্রস্ত পিতার অস্বাভাবিক আচরণ কিশোরদের মনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

উগ্র আচরণ প্রত্যাক্ষণ : শিশু যা দেখে তা শেখে। এটাকে বলে Observation Learning। পারিবারিক পরিবেশ অস্বাভাবিক হলে এর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্রভাব ফেলে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার : টিভি বা Net-এ, Cartoon-এ আক্রমণাত্মক দৃশ্য বারবার দেখা।

আর্থসামাজিক মূল্যবোধ : ভালোবাসার অভাব, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত অংশের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়।

অন্যান্য সমস্যা : অবৈধ যৌনাচারে জড়িয়ে পড়া, Pornographs এ আসক্তি।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের লক্ষণ

* অপরাধ প্রবণতা : অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া, অবাধ্যতা, মাতা-পিতা, শিক্ষকসহ অভিভাবকের কোনো কথা না শোনা, কোনো কারণ ছাড়াই মারামারি করা।

* হিংস আচরণ : মানুষ এমনকি পশু-পাখির প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, কোনো অপরাধবোধ কাজ না করা, সবসময় মিথ্যা কথা বলা, চুরি করা (বয়স ৭ এর বেশি হতে পারে), রাতে বাড়ির বাহিরে অবস্থান (অভিভাবককে না জানিয়ে), জিনিসপত্র-সম্পদ ধ্বংস করা, কথার মাধ্যমে অন্যদেরও উত্ত্যক্ত করা, অন্য কৌশলেও হতে পারে।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা : দীর্ঘমেয়াদি

সাইকোথেরাপি : এটিই মূল চিকিৎসা (পিতা-মাতাকে লালন-পালনের guideline দেয়া), বাচ্চা কথা শুনলে তাকে পুরস্কৃত করুন, কথা না শুনলে তাকে বঞ্চিত করুন, সুবিধা কমিয়ে দিন, শারীরিক নির্যাতন না করে মানসিক চাপ অব্যাহত রাখুন।

Anger management : রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য Counseling.

Residential Care

আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিতে হতে পারে। যেখানে পড়াশোনায় কড়াকড়ি বা চাপ বেশি থাকবে। কিশোর-কিশোরীদের একটা সুশৃঙ্খল জীবনের মধ্যে ঢুকানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ফিজিক্যাল (ওষুধ) : উগ্র আচরণ/অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ন্ত্রণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধ লাগে। সাইকিয়াট্রিস্ট্রের তত্ত্বাবধানে ওষুধ খাওয়াতে হবে। আনাড়ি দিয়ে বা নিজে নিজে ডাক্তারি করতে যাবেন না, বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। ফলোআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডারের পরিণতি : চিকিৎসা না করালে অস্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব (Anti-Social Personalities Disorder) হতে পারে। নেশায় জড়িয়ে পড়তে পারে। বিষণ্ণতা বা অন্য কোনো মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে। মানসিক সমস্যাকে অবহেলা করবেন না, অবহেলার কারণে আপনার সন্তানের জীবন বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, মনোরোগ ও মাদকাসক্তি নিরাময় বিশেষজ্ঞ, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মিরপুর-১, ঢাকা