শীত মৌসুমে সঠিক খাদ্যাভ্যাস

  সাজেদা কাশেম জ্যোতি ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীত মৌসুমে সঠিক খাদ্যাভ্যাস

শীতের হাওয়া, প্রকৃতির রুক্ষতা ও শুষ্কতা ছাপ ফেলে শরীরেও। তাই এসময় শরীর-স্বাস্থ্য, ত্বক সবকিছুরই প্রয়োজন বাড়তি যত্নের।

শীতে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ খানিকটা কমে যায়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে সর্দি, কাশি, পেটে সমস্যা, জ্বর, ঠাণ্ডাজনিত ঘা, গলা ব্যথা এ ধরনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তাই শরীরের পরিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে রোজকার মেনু ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে খানিকটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

* ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার যেমন লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, মালটা প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। উজ্জ্বল বর্ণের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল বা টক ফলগুলো থেকে ফ্ল্যাভোনয়েড এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এগুলো ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এসব ফল শীতকালে দেহের উষ্ণতা বাড়াতেও সাহায্য করে এবং ত্বক রাখে সুরক্ষিত।

* শীতকালে তুলনামূলক কম পরিমাণ পানি খাওয়া হয়। এটি একেবারেই ঠিক নয়। শীতের শুরু ও শেষের সময়ে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় পানি পানের প্রবণতা কমে যায়। এসময় বেশি করে পানি পান প্রয়োজন। ঠাণ্ডা পানি খেতে যাদের সমস্যা, তারা একটু উষ্ণ পানি খেতে পারেন। ব্রেকফাস্ট ও দুপুরের খাবারের মাঝে অর্থাৎ মধ্য সকালে স্যুপ, গরম দুধ, ফলের রস, মাঝে মধ্যে ডাবের পানি খেতে পারেন।

* শীতের সময়টায় বিভিন্ন ধরনের শাক পাওয়া যায়। বেছে নিতে পারেন বুটের শাক, ছোলার শাক, মোটর শাক, খেসারি শাক, পালংশাক, কলাইয়ের শাক, বতুয়া শাক যা ভিটামিন, মিনারেলস, আঁশ সমৃদ্ধ।

* শীতে শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। সবজিতে থাকে আঁশ ও প্রচুর পরিমাণে এন্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। তাই মৌসুমি সবজি যেমন ফুলকপি, মটরশুঁটি, শিম, মুলা, শালগম, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, মরিচ, নানা ধরনের বীজ, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, লাউ, গাজর আর ফলের মধ্যে আপেল, আঙুর, ডালিম, নাশপাতি, কমলা, আমড়া, বরই ইত্যাদি রাখুন রোজকার খাবারের তালিকায়। টাটকা ফল ও সবজিতে আছে বায়োটিন, যা ত্বক ও চুল ভালো রাখে।

* দুধ ছাড়া তিন-চার ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে চা খেতে পারেন। এটি আপনার শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করবে।

* শীতে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ। কাঠবাদামকে সাধারণত শুকনো ফলের রাজা বলা হয়ে থাকে যা ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ। শীতকালের খাবার তালিকায় এ খাবারটি থাকলে তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত ভালো কাজ করে; কারণ এটি হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়াতে এবং কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। বাদাম ও সামুদ্রিক মাছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড আছে।

* শীতের সময় দাওয়াত খাওয়ার ধুম লেগেই থাকে। ক্যালোরিও বেশি যায় শরীরে। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খান। ভাতের পরিমাণ কম রেখে লাল আটার রুটি, চিড়া, মুড়ি, কর্ণফ্লেক্স ইত্যাদি খেতে পারেন। পাশাপাশি ফল, শাক ও ডাল বেশি খান।

* অতিরিক্ত ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। বেক্ড স্টিম্ড খাবার খান। অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন। এতে হার্ট ভালো থাকবে।

* শীতকালে খাবার খুব তাড়াতাড়ি হজম হয়ে যায়। তাই খুব বেশি মশলাদার খাবার খাওয়া হয়। যার জন্য ওজন বেড়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়। শীতকালে খুব একটা ব্যায়াম করা হয় না। তার জন্যও অনেক সময় ওজন বেড়ে যায়। হজম হয়ে গেলেও স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে খাওয়া-দাওয়া করাটাই ভালো।

* শীতকালে ঘুম খুব তাড়াতাড়ি চলে আসে। বেশিক্ষণ ধরে ঘুমানোর প্রবণতাও দেখতে পাওয়া যায়। যত ঘুমানোই হোক না কেন দুপুরের দিকে একটু ঝিমুনি চলে আসে সবারই। তাই অনেক সময় শীতকালেই ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার সময়ের কোনো ঠিক থাকে না। এতেও ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই যত খারাপই লাগুক না কেন একটা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন।

শীতকালীন সবজি কীভাবে খাবেন

* ময়লা, পোকামাকড় ও কীটনাশক বা রাসায়নিকের হাত থেকে বাঁচতে প্রচুর পরিমাণে পানি দিয়ে ভালো করে ধুতে হবে সবজি। একটু লবণ পানিতে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে আরও ভালো; বিশেষ করে যদি কাঁচা খেতে চান।

* খুব বেশি সেদ্ধ করলে ভিটামিন ‘সি’ নষ্ট হয়ে যায়। তাই হালকা বা ভাপে সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো।

* ভিটামিন ‘এ’ তেল বা ফ্যাটে দ্রবণীয়। তাই এসব সবজি রান্না করার সময় খানিকটা তেল ব্যবহার করতে হবে। বিশেষত, যদি শিশুদের খাওয়াতে চান।

* মুখ বন্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগে ৫/৭ দিন পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরে রেখে খেতে পারেন। শীতকালীন সবজি তাজা অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী।

লেখক : পুষ্টিবিদ, গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টার, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ডায়েটেটিক্সস অ্যান্ড নিউট্রিশন ট্রাস্ট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×