শ্বাসকাশের কারণ নির্ণয়ের পরীক্ষা স্পাইরোমেট্রি

  ডা. এস এম লুৎফর রহমান ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্বাসকাশের কারণ নির্ণয়ের পরীক্ষা স্পাইরোমেট্রি

আপনি কি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন? সিঁড়িতে উঠলে বা হাঁটলে আপনার শ্বাস ছোট হয়ে আসে? আপনার কি কাশি আছে? আপনার বুকের মধ্যে কি পিন পিন বা শোঁ শোঁ শব্দ বা আওয়াজ হয়? বুকটা ভারী বা টাইট বোধ হয়?

শ্বাসকষ্ট ও কাশির জন্য আপনি মন খুলে হাসতেও পারেন না? এ সমস্যাগুলোর মধ্যে যদি একাধিক আপনার বা আপনার সন্তান ও পরিবারের কারোর মধ্যে থেকে থাকে তবে হয়তোবা আপনাদের ‘অ্যাজমা’ বা ‘সিওপিডি’ জাতীয় রোগ থাকতে পারে।

অ্যাজমা সব বয়সেই হতে পারে। তবে ২ বছরের নিচের বয়সের বাচ্চাদের হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম। ৬ বছরের কাছাকাছি বয়স থেকেই বাচ্চাদের এটা সাধারণত শুরু হয়, তবে যে কোনো বয়সেই শুরু হতে পারে।

অনেক সময় মধ্য বয়সে কম হয়ে আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে পারে। অ্যাজমা একটি অ্যালার্জি জাতীয় শ্বাসনালি প্রদাহজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ।

প্রদাহের ফলে শ্বাসনালিগুলো চিকন হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুসে বাতাস ঢুকতে বা বের হতে বাধা পায়, যে কারণে বুকের মধ্যে শব্দ হয় ও বায়ু তথা অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্ট হয়।

অন্যদিকে সিওপিডিও শ্বাসনালির প্রদাহজনিত ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি সম্পূর্ণ আলাদা একটি রোগ। ধূমপান, ধোঁয়াযুক্ত রান্না ও বায়ুদূষণ এ রোগের প্রধান কারণ। চল্লিশোর্ধ্ব বয়স্ক পুরুষদের সাধারণত এ রোগ হয়ে থাকে।

শ্বাসই জীবন। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বায়ু থেকে জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য অক্সিজেন শরীর পেয়ে থাকে। শরীরে অক্সিজেনের অভাব হলে শ্বাসকষ্ট বোধ হয়, আর শ্বাসনালির প্রদাহের কারণে কাশি হয়। সে কারণে অ্যাজমা ও সিওপিডি উভয় রোগে শ্বাসকষ্ট ও কাশি হয়।

অ্যাজমার প্রদাহ অস্থায়ী, চিকিৎসায় বা কোনো কোনো সময় এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে ভবিষ্যতে যে কোনো সময় আবার আক্রান্ত হতে পারে।

অপরদিকে সিওপিডির প্রদাহ চলমান থাকে ও দিন দিন বাড়তে থাকে। একবার আক্রান্ত হলে আর ভালো হয় না এমনকি চিকিৎসা নিলেও।

অনেক সময় অ্যাজমার রোগীদের ধূমপান, ধোঁয়াযুক্ত রান্না ও বায়ুদূষণের ফলে উভয় সমস্যা একত্রে হতে পারে যার নাম ‘অ্যাজমা-সিওপিডি ওভারল্যাপ’। এ রোগের পরিণতি ‘অ্যাজমা’ বা ‘সিওপিডি’র থেকে খারাপ।

‘অ্যাজমা’, ‘সিওপিডি’ ও ‘অ্যাজমা-সিওপিডি ওভারল্যাপ’, রোগ তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা। এর চিকিৎসা ও পরিণতিও আলাদা। সে জন্য চিকিৎসা নেয়ার আগে অবশ্যই রোগটি কোনটা তা নিশ্চিত হতে হবে।

শুধু রোগের ইতিহাস জেনে এবং রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করে রোগ তিনটিকে পৃথক করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরীক্ষা। আর সেই উল্লেখযোগ্য পরীক্ষাটিই হল ‘স্পাইরোমেট্রি’।

এটি একটি কম্পিউটারাইজড শ্বাসনালির তথা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা নিরুপণের অত্যন্ত কার্যকরী টেস্ট। একটিমাত্র টেস্টের মাধ্যমে সিওপিডি নিশ্চিত করা যায় এবং ‘অ্যাজমা’, ‘সিওপিডি’ ও ‘অ্যাজমা-সিওপিডি ওভারল্যাপ’, রোগ তিনটি নিশ্চিতভাবে আলাদা করে সঠিক চিকিৎসা করা যায়।

কিন্তু সমস্যা হল এ টেস্টটি বাংলাদেশের সব ডায়াগনস্টিক ল্যাবে হয় না আর কিছু কিছু ল্যাবে হলেও তা মানসম্মত না হওয়ায় সেটা দিয়ে চিকিৎসকরা রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারছেন না।

ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলোর সঠিক প্রশিক্ষিত লোকবল ও তদারকি না থাকার কারণেই আজ এ সমস্যা। তবে রাজধানী ঢাকায় হাতেগোনা দু-একটি ল্যাবে আন্তর্জাতিকমানের এ টেস্টটি হচ্ছে ও অনেক চিকিৎসক তাদের এ টেস্টটি করিয়ে সঠিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। আপনি চিকিৎসক বা রোগী যেই হন এ টেস্টটি সঠিকভাবে না করিয়ে শ্বাসকাশের অর্থাৎ ‘অ্যাজমা’, ‘সিওপিডি’ ও ‘অ্যাজমা-সিওপিডি ওভারল্যাপ’ রোগ তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা না করে চিকিৎসা দেয়া উচিত নয়।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, রেসপিরেটরি মেডিসিন, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×