ফুসফুসের রোগ ও ভ্রমণ

  অধ্যাপক ডা. মো. রাশিদুল হাসান ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুসফুসের রোগ ও ভ্রমণ

আপনার দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ থাকলেও আপনার ভ্রমণ, আত্মীয় বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে বেড়ানো বা নিজের আনন্দ উপভোগের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

এমনকি আপনি অক্সিজেন ব্যবহার করলেও। আপনার শুধু সঠিকভাবে তৈরি হতে হবে। উচ্চতা এবং জলবায়ুর পরিবর্তন আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষতি করতে পারে।

সে কারণে আপনার চিকিৎসারও পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হয়ে যায়, তাই আপনার ডাক্তার বা ফুসফুস পুনর্বাসন কেন্দ্রের সদস্যের কাছে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনার কথা বলুন।

যখন ভ্রমণে থাকাকালীন সময়ে ব্যায়াম করবেন, তখন ফুসফুস পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে যেসব কৌশল শিখেছেন তা অবলম্বন করবেন।

ভ্রমণের চেকলিস্ট

ভ্রমণের আগে : আপনার সম্পূর্ণ ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ নিন। আপনার প্রেসক্রিপশন করিয়ে নিন। ভ্রমণকালে অন্য কোনো ওষুধের প্রয়োজন আছে কি না তা আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ সঙ্গে নিন। চিকিৎসার প্রেসক্রিপশনের কপি কয়েক জায়গায় রাখুন।

কোনো ধরনের সংক্রমণ হলে কী করতে হবে তা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন। ইন্সুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করুন যাতে আপনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানে সাহায্য পেতে পারেন। বহনযোগ্য নেবুলাইজার সঙ্গে রাখুন।

ভ্রমণকালে : মেডিকেল আইডিসহ একটি ব্রেসলেট পরে নিতে পারেন। যাতে আপনার চিকিৎসাধীন অবস্থা এবং কোনো ওষুধে অ্যালার্জি থাকলে তা বলা থাকবে।

নিয়মিত বা বারবার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন যা জীবাণু ধ্বংস ও সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করে। ওষুধপত্র আপনার সঙ্গে বহনকৃত ব্যাগে রাখুন। এতে আপনার লাগেজ চেক হয়ে আলাদা থাকলেও আপনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার করতে পারবেন।

ইনহেলার ব্যবহার করুন : বেড়ানোর আগেই (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী) যেমন- প্লেন থেকে নামার আগেই ইনহেলার ব্যবহার করুন।

যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য বসে থাকেন তাহলে হাত এবং পা এর মাংসপেশিগুলো সংকোচন ও প্রসারন করুন যা রক্ত চলাচলে সহায়তা করে। আপনার গোড়ালি এবং পায়ের পাতা দিয়ে বর্ণমালার বিভিন্ন অক্ষর বানান করে লিখার চেষ্টা করুন।

অক্সিজেন নিয়ে ভ্রমণ : অক্সিজেন নিয়ে ভ্রমণ করতে হলে কিছু অতিরিক্ত পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। আপনার অক্সিজেন প্রেসক্রিপশনের এবং অন্যান্য কাগজপত্রের ১টি করে কপি নেয়ার জন্য ডাক্তারের অফিসে যোগাযোগ করুন। বাড়তি অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট কোম্পানিতে ফোন করে সরবরাহ করে নিন।

গাড়িতে ভ্রমণ : ধূমপান করবেন না বা কাউকে করতে দেবেন না। বাতাস চলাচলের জন্য গাড়ির জানালা খুলে দিন। একটি লিকুইড অক্সিজেন ইউনিট নিচে অথবা আপনার সিটের পাশে রেখে নিন। যতটুকু সম্ভব নিরাপদে রাখুন (সিটবেল্ট ব্যবহার করুন)। সিটের পেছনে বাড়তি অক্সিজেন ইউনিট রেখে নিন। এগুলোকে ট্রাংকে রাখবেন না কারণ এগুলো খুব গরম থাকে।

বাসে বা ট্রেনে ভ্রমণ : আগে থেকেই ক্যারিয়ারকে ডেকে জানিয়ে দিন যে আপনি অক্সিজেন সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করবেন। আপনি আপনার পছন্দমতো অক্সিজেন নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন কিন্তু এর আগে আপনাকে আপনার প্রেসক্রিপশনের ১টি কপি তাদের দেখিয়ে নিতে হবে।

বিমানে ভ্রমণ : আগে থেকেই এয়ারলাইনসে ফোন দিন। অনেক এয়ারলাইনস আপনাকে নির্দিষ্ট ফি-এর বিনিময়ে অক্সিজেন দিতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক এয়ারলাইন্স আপনাকে অক্সিজেন সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের অনুমতি দিতে পারে।

নির্দিষ্ট গন্তব্যে বা বিরতির সময় অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করে নিন। এয়ারলাইনস শুধু আপনি বিমানে থাকা অবস্থায় অক্সিজেন দিতে পারে- এয়ারপোর্টে নয়।

জাহাজে ভ্রমণ : ক্রুজলাইনে ফোন দিয়ে আগে থেকে জানিয়ে রাখুন আপনি অক্সিজেন নিয়ে ভ্রমণ করবেন। ডাক্তারের ১টি চিঠি, অক্সিজেন প্রেসক্রিপশনের ১টি কপি এবং অন্যান্য জরুরি কাগজপত্র দেখানোর জন্য প্রস্তুত থাকুন।

জাহাজে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করে নিন।

লেখক : মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ইনজিনিয়াস পালমোফিট, মোহাম্মদপুর, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×