যক্ষ্মা চিকিৎসায় চট্টগ্রামে সাফল্য

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ০২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যক্ষ্মা চিকিৎসায় চট্টগ্রামে সাফল্য

যক্ষ্মা এখন কোনো ঘাতক ব্যাধি নয়। এটি এখন নিরাময়যোগ্য রোগ। ২৪ মাসের পরিবর্তে ৯ মাসে রোগীকে সুস্থ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে। সরকারি-বেসরকারি নানা ধরনের পদক্ষেপের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।

ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অর্জনের নেপথ্যে নিবেদিত রয়েছেন অনেক চিকিৎসক। চট্টগ্রামেও এমন একজন চিকিৎসক রয়েছেন।

যিনি গত একদশক ধরে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার ১০১টি উপজেলায়। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় চুক্তিভিত্তিক প্রকল্পে গত ১০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় টিবি এক্সপার্ট ডা. বিশাখা ঘোষ। ইতিমধ্যে তিনি চট্টগ্রামের যক্ষ্মা ‘ম্যাডাম’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।

১৯৯৩ সাল থেকে ঘাতক ব্যাধি যক্ষ্মা নির্মূলে কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সমস্যায় ডটস প্রোগ্রামের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা নির্মূলে কাজ করছে সরকার। এরই মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ডটস কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রিভালেন্স সার্ভের তথ্য মতে, বর্তমানে প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে যক্ষ্মা রোগী রয়েছেন ২৬০ জন। যা পূর্বের তুলনায় ১৪৪ জন রোগী কমেছে। চিকিৎসার সাফল্যের হার শতকরা ৯৫ ভাগ।

চট্টগ্রাম বিভাগে গত একদশক ধরে চুক্তিভিত্তিক প্রকল্পে কাজ করছেন বিভাগীয় টিবি এক্সপার্ট ডা. বিশাখা ঘোষ। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অধীনে যক্ষ্মা রোগীদের সেবায় যক্ষ্মাবিষয়ক চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ, তদারকি, মূল্যায়ন, পরিকল্পনা কর্মসূচিতে সমন্বয় করছেন তিনি।

বিভাগের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ১০১টি উপজেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চল সরজমিনে পরিদর্শন করেন। যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে দুর্গম এলাকায় অবস্থিত সরকারি ও বেসরকারি কাজে সমন্বিতভাবে করছেন এ চিকিৎসক।

চট্টগ্রাম বিভাগের যক্ষ্মা জীবাণু শনাক্তকরণ পরীক্ষাগার (আরটিআরএল), ২৭টি জিন-এক্সপার্ট সাইট, ৩৫০টি মাইক্রোস্কোপি ও ডটস সেন্টার, ৩টি বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং ৮টি বক্ষব্যাধি ক্লিনিক তত্ত্বাবধানেরও কাজ করেন ডা. বিশাখা ঘোষ। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণও কাজ করছেন তিনি।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যক্ষ্মা নির্মূলে চট্টগ্রাম জেলা ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালনায় ও জাতীয় যক্ষ্মা নিমূল কর্মসূচির সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় রোগী শনাক্তের হার প্রতি লাখে ১৮৪ জন। তবে শিশু রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে।

বর্তমানে এ জেলায় যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা সাফল্যের হার ৯৭ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, ‘যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, যক্ষ্মার জীবাণু খুব দ্রুত তাদের শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় রক্ষাকারী কোষগুলোকে দ্রুত ধ্বংস করে দেয়। তবে ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এই কথার ভিত্তি নাই’ স্লোগানে গত একদশক সময় কাজ করছেন নারী চিকিৎসক ডা. বিশাখা ঘোষ। যক্ষ্মার বিশেষায়িত চিকিৎসক হিসেবে তখন থেকে চিনি। আমি তখন কুমিল্লা জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলাম।’

জানতে চাইলে ডা. বিশাখা ঘোষ বলেন, ‘অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পাওয়া, অবসাদ অনুভব করা, জ্বর, রাতে ঘাম হওয়া, কাঁপুনী ও ক্ষুধামন্দা যক্ষ্মার সাধারণ লক্ষণ। এছাড়া তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, বুকে ব্যথা অথবা শ্বাস নেয়ার সময় ও কাশির সময় ব্যথা অনুভব হতে পারে। তাই যক্ষ্মা লক্ষণ দেখা মাত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সাধারণত দুই ক্যাটাগরিতে যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ছয় হাজার যক্ষ্মারোগী মারা যাচ্ছে। সারাবিশ্বে এ সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। সরকারের নানা পদক্ষেপে ঘাতক ব্যাধি থেকে যক্ষ্মা এখন নিরাময় যোগ্য।’

এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×