ডায়াবেটিস নিয়ে ভুল ধারণা

  ডা. চৌধুরী সাইফুল আলম বেগ পাপন ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিষ্টি বেশি খেলে কি ডায়াবেটিস হয়

মিষ্টি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। মিষ্টি বেশি না খেলেও ডায়াবেটিস হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস, ওজন বৃদ্ধি, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ইত্যাদি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মিষ্টি বেশি খেলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে (কেননা মিষ্টি দ্রব্যে ক্যালরি বেশি) আর এ কারণে পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে।

ডায়াবেটিস হলে কি মিষ্টি ফল খাওয়া যাবে

ডায়াবেটিস হলে কী খাওয়া যাবে বা যাবে না, তা নির্ভর করে ওই খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের ওপর। কোনো একটি খাবার রক্তে কত দ্রুত শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে- তার পরিমাপই হল গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। বেশিরভাগ ফলমূলে প্রচুর আঁশ থাকায় রক্তে ধীরে ধীরে শোষিত হয় এবং এদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অত বেশি নয়। কোনো কোনো ফলে শর্করার মাত্রা একটু বেশি, সেগুলো নির্দিষ্ট মাত্রায় খাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কি ব্লাড দিতে পারবেন

১৯৮০ সাল পর্যন্ত ইনসুলিন তৈরি হতো গরু থেকে, এটা নিয়ে অনেক কমপ্লিকেশন তৈরি হয়েছিল তাই ইনসুলিন নেয়া ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্ত দান করা নিষেধ ছিল। বভাইন বা গরুর থেকে ইনসুলিন তৈরি হয় না তাই সেই সমস্যা মুক্ত হয়েছে। পৃথিবী যে লক্ষে এগিয়েছে তা হল প্রথমে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন এবং দ্বিতীয়ত স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা। রক্তদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে গেলে রক্তদাতা বাতিলের তালিকা ছোট করতে হবে। ফলাফল হল এমন কোনো গাইডলাইন দেখানো সম্ভব হবে না যেখানে বলা আছে ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা রক্ত দিতে পারবে না যদি অন্য সমস্যায় না ভুগেন সেই মুহূর্তে (রক্তদান কালে)।

ইনসুলিন ব্যবহার করলে সারা জীবনই কি নিতে হবে

বিষয়টি আসলে তা নয়। নানা কারণে ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। পরে তা পরিবর্তন করে ওষুধ খাওয়াও যেতে পারে। যেমন সন্তান প্রসবের পর বা অস্ত্রোপচারের ঘা শুকিয়ে যাওয়ার পর ইনসুলিন বন্ধ করে আবার ওষুধ খাওয়া যায়। তবে টাইপ ১ ডায়াবেটিস, কিডনি ও যকৃতের গুরুতর সমস্যা এবং সর্বোচ্চ মাত্রায় ওষুধ ব্যবহার করেও যদি শর্করা নিয়ন্ত্রিত না হয়, এসব ক্ষেত্রে সব সময়ের জন্য ইনসুলিন ব্যবহার করতে হয়।

গর্ভবতীর ডায়াবেটিস থাকলে শিশুরও কি ডায়াবেটিস হবে

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে সেই মায়ের অনাগত শিশু নানা রকম ঝুঁকিতে ভোগে। যেমন : গর্ভপাত, সময়ের আগে শিশু জন্ম নেয়া, গর্ভে হঠাৎ মৃত্যু, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জন্ম হওয়া, জন্মগত নানা জটিলতা ইত্যাদি। জন্মের পরপর হঠাৎ শিশুর রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে, খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সেই শিশু ডায়াবেটিস নিয়ে জন্ম নেবে, তা যথার্থ নয়। পরবর্তী সময়ে বড় হওয়ার পর অন্যদের তুলনায় তার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি একটু বেশি।

লেখক : জেনারেল প্র্যাকটিশনার, ডাবো মেডিকেল সেন্টার, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×