মুখের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন

  ডা. মো. ফারুক হোসেন ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বছর ২০ মার্চ ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ সারা বিশ্বে পালিত হয়ে থাকে। এটি একটি আন্তর্জাতিক দিবস যার মাধ্যমে সবাইকে জানানো হয় স্বাস্থ্যবান মুখের লাভ ও প্রাপ্তি সম্পর্কে।

২০১৮ সালে ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ কার্যক্রমের বিষয় ছিল ‘Say Ahh : Think Mouth Think Health’ একই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ‘ওয়ার্ল্ড ওরাল হেলথ ডে’ ক্যাম্পেইন বা কার্যক্রমের থিম বা বিষয় হল ‘Say Ahh : Act on Mouth Health’ আপনার মুখের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন আপনার মুখ ও শরীরের সুরক্ষার জন্য। এ আহ্বান প্রত্যেক মানুষকে উদ্দীপনা দেয় সবাই যেন মুখের স্বাস্থ্যের যত্ন নেয় এবং এটি সার্বিক স্বাস্থ্যের সেইফ গার্ড। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় মুখের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অধিকাংশ মুখের রোগের ক্ষেত্রেই অন্যান্য শরীরের রোগের সঙ্গে একই ধরনের রিস্ক ফ্যাক্টর বিদ্যমান থাকে। হৃদরোগ ইতিমধ্যেই শীর্ষ ঘাতক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যা মাড়ি রোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাড়ি রোগের মাধ্যমে যদি ‘ভিরিড্যানস স্ট্রেপটোকক্কাই’ ব্যাকটেরিয়া রক্ত প্রবাহে সংক্রমিত হয় তাহলে হার্টের ভাল্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই মাড়ি রোগের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা করবেন না। পেরিওডন্টাল রোগে যে ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায় বা দেখা যায় তার মধ্যে স্টেপটোকক্কাস স্যানগুইস বা স্যানগুইনিস হার্টে সংক্রমিত হয়ে থাকে এবং এর মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াল অ্যান্ডোকার্ডাইটিস দেখা দিতে পারে। স্টেপটোকক্কাস স্যানগুইনিস সুস্থ মানুষের মুখে বিদ্যমান বিশেষ করে ডেন্টাল প্ল্যাকে বিদ্যমান থাকতে পারে। সাধারণত পেরিওডন্টাইটিসের ক্ষেত্রে দাঁত নড়ে যায়। দাঁত বেশি নড়ে গেলেই সেটি পেরিওডন্টাইটিসের কারণে হয়েছে- এমনটি ভাবা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে পেরিওডন্টাইটিস ভেবে দাঁত তোলাও ঠিক নয়। রোগীদেরও দাঁত নড়ার ক্ষেত্রে ডাক্তারকে এসে বলা উচিত নয়, দাঁত ফেলে দেয়ার জন্য। কারণ পেরিওডন্টাইটিস ছাড়াও মাড়ির ক্যান্সারের কারণে দাঁত নড়ে যেতে পারে। রক্তনালীর টিউমার হেমানজিওমা হলেও দাঁত নড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দাঁত ফেলে দিলে বড় ধরনের সমস্যা যেমন- অঝোর ধারায় রক্তপাত হতে পারে। টিউমার, সিস্ট এবং অন্য কারণেও দাঁত নড়ে যেতে পারে। মাড়ি রোগ বা মাড়ির পাশে আলসার বা ঘাঁ দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এসব বিষয়ে রোগীদের সচেতন করে তোলাই হবে ওরাল হেলথ ডে-এর লক্ষ্য। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো লিভারের রোগের সঙ্গে পেরিওডন্টাল রোগের যোগসূত্র রয়েছে। লিভারের রোগে অনেক সময় মুখে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ হয়। পেরিওডন্টাইটিসের সঙ্গে লিভারের রোগ যেমন- নন এলকোহলিক লিভার ডিজিজ, লিভার সিরোসিস এবং হেপাটোসেলুলার কারসিনোমার যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। মুখের অভ্যন্তরে কোনো সার্জারির পর রক্তপাত বেশি হতে পারে লিভারের রোগে। কোয়াগুলোপ্যাথির জন্য সামান্য আঘাতে মাড়ি থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রনিক লিভার ডিজিজে দাঁত ও মাড়িতে সবুজ দাগ এবং এনামেল হাইপোপ্লাসিয়া দেখা যেতে পারে। হিউম্যান প্যাপিওলোমা ভাইরাসের কারণে মুখের ও সারভাইক্যাল ক্যান্সার হতে পারে। হিউম্যান প্যাপিওলোমা ভাইরাস টাইপ-১৬ কে মুখের ক্যান্সারের রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য করা হয়। মুখকে নিয়ে ভাবুন, মুখ আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যকে নিয়ে ভাববে। মুখগহ্বরকে অবহেলা করে কখনই আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব নয়।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×