মাল্টিড্রাগ রেসিসটেন্স যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ

  অধ্যাপক ডা. মো. রাশিদুল হাসান ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাবেক পরিচালক

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল

বাংলাদেশে এখনও যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা এত বেশি কেন?

** বেশি হওয়ার কারণ মূলত তিনটি। প্রথমত রোগীদের সচেতনতার অভাব বা অজ্ঞানতা এবং যথোপযুক্ত কাউনসেলিংয়ের অভাবে মাল্টিড্রাগ রেসিসটেন্স (গউজ) যক্ষ্মা রোগী বাড়ছে। এ রোগীরা পূর্ণ ডোজে ওষুধ খান না বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন বা আন্ডার ডোজে ওষুধ খান, সর্বোপরি নিয়মিত ওষুধ খান না। এ রোগীদের চিকিৎসা করা এবং আরোগ্য লাভ করানো সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। দ্বিতীয়ত এ দেশে জনসংখ্যার বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে যক্ষ্মা রোগও পালাক্রমে বাড়ছে। যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, হাঁচি কাশির মাধ্যমে ছড়ায় তাই হাঁচি কাশি হলে এটিকেট মেনে না চলার কারণে অর্থাৎ রুমাল ব্যবহার না করা বা কাশি দেয়ার সময় সুস্থ মানুষের থেকে মুখ ঘুরিয়ে না নেয়ার কারণে একজন রোগী থেকে অন্য সুস্থ দেহে যক্ষ্মা রোগ সংক্রমিত হচ্ছে। তৃতীয়ত স্পুটাম পজিটিভ রোগীর সংখ্যা কমে এলেও ডায়াগনস্টিক ফ্যাসিলিটিজ আধুনিক ও কার্যকরী হওয়ার কারণে যক্ষ্মা রোগ যথাসময়ে শনাক্ত হচ্ছে। অর্থাৎ রোগ নির্ণয় দ্রুত হচ্ছে বলে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বলাই বাহুল্য যক্ষ্মা নির্ণয়ে জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা এখন বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র সহজলভ্য।

শহর ও গ্রামাঞ্চলে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা কেমন?

** ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে ডটস (DOTS) বা Direct Observational thrapy চালু হওয়ার পর থেকে যক্ষ্মা রোগের কার্যকরী চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখানে প্রত্যেক যক্ষ্মা রোগীকে প্রতিদিন যক্ষ্মা রোগের ওষুধ খাইয়ে দেয়া হয়। শহরাঞ্চলের মানুষের ব্যস্ততার জন্য লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না চাওয়ার কারণে তারা প্রতিদিন DOTS সেন্টারে যায় না। এক থেকে দেড় মাসের ওষুধ বাসায় নিয়ে এসে অনিয়মিতভাবে গ্রহণ করেন। ফলে যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে এবং রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ঘনবসতিপূর্ণ স্থান, স্যাঁতসেঁতে ঘর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম সম্পন্ন ব্যক্তিদের রোগীর হাঁচি কাশির মাধ্যমে তাদের দেহে রোগ ছড়াচ্ছে। এ হাঁচি কাশিতে যদি রুমাল ব্যবহার করা যায় তাহলে কিন্তু যক্ষ্মা রোগের সংখ্যা অনেক কমে আসবে। পুকুরের পানি খাওয়া বন্ধ করে এবং টিউবওয়েলের পানি গ্রহণ করার মাধ্যমে যেমন ডায়রিয়া রোগ কমানো গেছে তেমনিভাবে হাঁচি কাশি দেয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখলে যক্ষ্মা রোগের সংক্রমণও অনেক কমানো সম্ভব।

ডায়াবেটিস ও টিবি রোগের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি?

** ডায়াবেটিসে যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তাই ডায়াবেটিক রোগীদের অবশ্যই টিবির পরীক্ষা করানো উচিত। অন্যদিকে তরুণ বয়সে টিবি ধরা পড়লে তাদের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে নিতে হবে। এ দুটি রোগ একজন অপরজনের যেন সঙ্গী।

যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী?

** ওষুধ সহজপ্রাপ্য নয়- এটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে এখন 4FDC ছাড়া অন্য কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। আইসোনিয়াজিড, রিফামফিসিনে জন্ডিস বা অন্য কোনো সমস্যা হলে আমাদের হাতে আর অন্য কোনো ওষুধ নেই। এ কারণেও ড্রাগ রেসিসট্যান্স টিবি পাওয়া যাচ্ছে। সর্বোপরি টিবি রোগীদের পুষ্টি আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য পূরণ না হওয়ার জন্য ও সচেতনতার অভাবে যক্ষ্মা রোগ বাড়ছে। যে এলাকায় যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব বেশি সেখানে ওষুধ অবশ্যই সহজপ্রাপ্য করতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×