ত্বকে কড়া পড়ার কারণ ও চিকিৎসা

  ডা. চৌধুরী সাইফুল আলম বেগ পাপন ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মূলত হাত এবং পায়েই কড়া পড়ে।

পায়ে কড়া : পায়ের অ্যাঙ্কলে মেলিওলাস নামক হাড় উঁচু হয়ে থাকে, সেখানেও কড়া পড়ে এবং চামড়ায় মোটা কালো ছোপ পড়ে যায়। বিশেষ করে যারা মাটিতে বাবু হয়ে বসে খাবার খান বা কাজ করেন, তাদের সমস্যা বেশি হয়।

হাঁটুতে কড়া : হাঁটুতে ভর দিয়ে কাজ করলেও, সেখানের চামড়া মোটা হয়ে যেতে পারে। হাঁটুর ওপর চাপ দিয়ে ঘর মুছলে বা কাজ করলে এ সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পায়ের আঙুলে কড়া : সর্বক্ষণ চটি পরে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করলে পায়ের আঙুলে কড়া হতে পারে। ধুলাবালির মধ্যে চলাফেরা করার ফলে ক্রমাগত ঘর্ষণে আঙুলের গাঁটে কড়া পড়ে যায়। কারও কারও শক্ত জুতা পরার অভ্যাস থাকলেও আঙুলে কড়া পড়ে যেতে পারে।

অন্যান্য কড়া : শক্ত জুতার ধারে ধাক্কা লেগে পায়ের পেছন দিকে গোড়ালির একটু উপরেও কড়া পড়ে যায়। আবার ফিতা দেয়া জুতা পরার অভ্যাস থাকে অনেকের। সেই ফিতায় ঘষা লেগেও পায়ের ত্বক মোটা এবং কালো হয়ে যেতে পারে। পায়ে ভারি নূপুর পরার কারণে বারবার ত্বকে অলঙ্কারের ঘর্ষণ লেগে ত্বক কালো এবং মোটা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হাতে কড়া : যারা নিয়মিত ভারি জিনিসপত্র হাতে ধরে তোলেন, তাদের হাতের তালুতে কড়া পড়ে যায়। নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, কল-কারখানার শ্রমিকদের হাতের তালুতে এমন কড়া দেখা যায়। জিমে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ভারি ওজন তোলার মতো পরিশ্রম করলেও হাতের তালুতে কড়া পড়ে যেতে পারে। বক্সিংয়ের মতো খেলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি যারা প্র্যাকটিসের সময় গ্লাভস পরেন না, তাদের আঙুলের গাঁটে কড়া পড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসা

* প্রাথমিক কর্তব্যই হল, ত্বকের ওই অংশে ঘর্ষণ প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে ত্বকের ওই অংশে আর্দ্রতা বজায় রাখাও জরুরি। ময়েশ্চারাইজারে যেন কেরাটোলাইটিক এজেন্ট থাকে। এর কাজ হল, ত্বকের যে অংশ শক্ত হয়ে গেছে তাকে নরম করা এবং অতিরিক্ত ত্বক তৈরি হওয়া বন্ধ করা। খুব ভালো হয় স্যালিসাইলিক এসিড এবং ইউরিয়া থাকে এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারলে। সঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সঙ্গে রোগীকে সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা চলবে না। খোলা হাতে ডিটারজেন্ট পাউডার ব্যবহার করাও যাবে না।

* কিছু রোগীর অ্যাঙ্কলের মেলিওলাস হাড়ের অংশে কড়ার সঙ্গে একজিমাও হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে রোগীকে স্টেরয়েড এবং কেরাটোলাইটিক ক্রিম দিতে হয়।

* শক্ত জুতা থেকে কড়া পড়লে নরম জুতা পরতে হবে। চটি পরা থেকে কড়া পড়লে পা ঢাকা জুতা পরা বাঞ্ছনীয়। পায়ে অলঙ্কার ব্যবহার থেকেও সতর্ক হতে হবে।

* হাতের কড়া পড়া আটকাতে গ্লাভস পরে ভারি জিনিস তুলুন।

কড়া এবং কালো দাগ : অনেকে কালো দাগ এবং কড়ার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না। কড়া পড়ে মূলত হাতে আর পায়ে। শরীরের কোনো অংশে কালো দাগ নানা কারণে হতে পারে।

আঘাত থেকে কালো দাগ : শরীরের কোথাও আঘাত লাগার ক্ষত তৈরি হয়। এ ক্ষত শুকিয়ে যাওয়ার পর সেখানে ঘন কালো দাগ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থাকে বলে পোস্ট ইনফ্লেমেটরি হাইপার পিগমেন্টেশন।

লাইকেন প্ল্যানাস পিগমেনটোসাস : শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার গণ্ডগোলের কারণে এমন হয়। রোগীর মুখে, ঘাড়ে, চোখের পাশে কালো কালো ছোপ দেখা যায়।

আঁচিল : মুখে, গলায় বড়সড় আঁচিল দেখা যায়। আঁচিলের জন্য দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। কেউ কেউ ধারালো ব্লেড দিয়ে আঁচিল কাটতে শুরু করেন। সেখান থেকে রক্তপাত ও সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই মুখে কোনো রকম কালো প্যাঁচ হলে নিজে থেকে ডাক্তারি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

এক্যান্থোসিস নাইগ্রিকানস : ঘাড়ে, বগলের তলায় কালো ছোপ পড়ে ও চামড়া মোটা হয়ে যায়। এ সমস্যার নাম এক্যান্থোসিস নাইগ্রিকানস। স্থূলকায় ব্যক্তি, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে আক্রান্ত মহিলাদের এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূল সমস্যার চিকিৎসা হলে এ ধরনের উপসর্গও সেরে যায়।

লেখক : ডাবো মেডিকেল সেন্টার, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×