কিডনি রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধের জন্য টেস্ট

  অধ্যাপক ডা. মো. তাহমিনুর রহমান ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যাদের উচ্চরক্তচাপ আছে, ডায়াবেটিস আছে, যারা বেশি পরিমাণ ব্যথানাশক ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল, এনএসএআইডি, সাইটোটক্সিক ড্রাগ নেন, যাদের কিডনি পাথর আছে, ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানাজনিত পানিশূন্যতা, বারবার গলার, চামড়ার, প্রস্রাবের ইনফেকশন হয় তাদের কিডনি রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি হয়।

কিডনি রোগ প্রতিরোধ নিুোক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা জরুরি।

* পূর্বে থেকে যাদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস আছে তাদের এই রোগ দুটি নিয়ন্ত্রণে রাখা। ওষুধসহযোগে শারীরিক পরিশ্রম করে, খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

* বেশি পরিমাণ ব্যথানাশক ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল, এনএসএআইডি গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।

* যখনই ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা হলে সঙ্গে সঙ্গে ওরাল স্যালাইন বা পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা গ্রহণ, গলায় চামড়া, প্রস্রাব প্রদাহ বা ইনফেকশন হলে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

* প্রস্রাবের কোনো ভৌত রাসায়নিক পরিবর্তন যেমন প্রস্রাব কম হওয়া, বন্ধ হয়ে যাওয়া, বেশি বেশি প্রস্রাব- এগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন, সুগার গেলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ।

* চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এন্টিবায়োটিক ও তীব্র ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়া।

* কেমিক্যালযুক্ত ফলমূল চর্বি জাতীয় খাবার ও লবণ কম খাওয়া এবং পরিমিত পানি পান করা। সবুজ শাকসব্জি বেশি খাওয়া।

* কিডনিতে পাথর হলে তার অপসারণ ও চিকিৎসা গ্রহণ।

* কিডনি জন্মগতত্রুটি থাকলে যেমন একটি কিডনি, ছোট কিডনি, দুটো কিডনি, সিস্টিক কিডনি ইত্যাদি পরামর্শ অনুযায়ী অপসারণ ও চিকিৎসা গ্রহণ।

* একুইট বা ক্রনিক কিডনি ফেইলর বিশেষত : অ্যান্ড স্টোজ কিডনি ফেইলর হলে ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ।

* কিডনি একেবারে অকেজো হলে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা প্রতিস্থাপন এর ব্যবস্থা করা। কিডনির কার্যকারিতা দেখার জন্য বাৎসরিকভাবে নিচের টেস্টগুলো বা ল্যাব পরীক্ষা করা যেতে পারে। কিডনির খুব সাধারণ অথচ কার্যকরী পরীক্ষা হলে তিনটি- ক. প্রস্রাবের রুটিন ও মাইক্রোসকপিক্যাল পরীক্ষা, খ. রক্তে ইউরিয়া এবং সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা, গ. গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশান রেট পরীক্ষা (GFR)

কিডনি রোগ নির্ণয়ের জন্য সাধারণ পরীক্ষা

প্রস্রাবে প্রদাহ থাকলে কালচার ও সেন্সিটিভিটি করে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক খেতে হবে। রক্তে ইউরিয়া ও সিরাম ক্রিয়েটিন বিশেষত: সিরাম ক্রিয়েটিন একটি নির্দিষ্ট কিডনি ফাংশন টেস্ট। ইউরিয়ার স্বাভাবিক মান ২০-৪০ গ্রাম/ডিএল এবং সিরাম ক্রিয়েটিনিন এর স্বাভাবিক মান ০.৫-১.২ মিলিগ্রাম/ডিএল, GFR স্বাভাবিক ১২৫ মিলিলিটার/প্রতিমিনিট।

প্রস্রাবে পুঁজকোষ বা পাস সেল, আরবিসি বা কাস্টের উপস্থিতি থাকলে, প্রস্রাবে প্রোটিন ইউরিয়া বা হেমাচুরিয়া দেখা গেলে, রক্তে ইউরিয়ার বা ক্রিয়েটিনিন মান স্বাভাবিক এর তুলনায় বেশি হলে এবং GFR স্বাভাবিক এর তুলনায় কমে গেলে কিডনি রোগ আছে বলে সন্দেহ করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো আরও অন্যান্য টেস্ট যেমন সিরাম ইলেকট্রোলাইট, ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাবে প্রোটিন আলট্রাসনোগ্রাম, আইভিইউ ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।

লেখক : ভিজিটিং অধ্যাপক, প্যাথলজি বিভাগ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×