সর্বগ্রাসী রোগ ডায়াবেটিস

  অধ্যাপক ডা. খাজা নাজিম উদ্দীন ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

(পূর্ব প্রকাশের পর)

ইনসুলিন বিবর্তন : ইনসুলিন ক্রমবিবর্তনে এখন এনালগ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদ্দেশ্য একটাই, প্রাকৃতিকভাবে শরীরে অগ্নাশয় থেকে যে ইনসুলিন বেরোয় সে ধরনের ইনসুলিন আবিষ্কার। সেটা নাহলেও এখনকার ইনসুলিনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম, নেয়ার পদ্ধতি সহজ বিধায় ডায়াবেটিক রোগীদের জীবনযাত্রা সহজতর হয়েছে। সর্বশেষ ডেগ্লুডেগ এবং ডেগ্লুডেগ+এসপার্টেম সহমিশ্রন ইনসুলিন দুটো হাইপগ্লাইসেমিয়া বিশেষ করে রাতের হাইপগ্লাইসেমিয়া কম করে, দেয়া সহজ। এ দুটো ইনসুলিন শিডিউল বদলিয়ে নেয়া (প্রতিদিন একই সময়ে না নিলে ও চলে) সম্ভব। বাচ্চাদের ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ হল ওদের শরীরে ইনসুলিন থাকে না, তাই প্রথম দিন থেকেই ইনসুলিন নিতে হয়। বয়স্কদের প্রথমদিকে শরীরে কিছু ইনসুলিন থাকে; অনেকের ইনসুলিন থেকেও কাজ করে না তাই ট্যাবলেটে চলে। গর্ভবতী মহিলার ইনসুলিন ছাড়া চিকিৎসা হয় না।

ইনসুলিন না দিলে চলবে না

যার সুগার অনেক বেশি (১৬.৭ থেকে ২০ মিমোল;৩০০ থেকে ৩৬০ মিগ্রাম, ঐনঅ১প ১০-১২),যার ডায়াবেটিসের ইমার্জেন্সি (কিটএ্যাসিডস্স, কিটনুরিয়া, হনক), ডায়াবেটিকদের ননডায়াবেটিক ইমার্জেন্সি (স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ইনফেকশন, জণ্ডিস), অনেক বেশি ডোজে করটিকস্টেরয়েড নিতে হয় এমন রোগীর ইনসুলিন ছাড়া চিকিৎসা নেই।

কীভাবে শুরু

ইনসুলিন শুরু করতে হয় ০.১ থেকে ০.৩ ইউ/কেজি দিয়ে নতুন রোগীর ক্ষেত্রে। পুরনো রোগী হলে (আগে চিকিৎসা পাওয়া) ০.৫ থেকে ১.০ ইউ/ কেজি দিয়ে শুরু করতে হবে। ইনসুলিন নিলে ৬ বার খেতে হবে সারা দিনের ক্যালরি ঠিক রেখে। না হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হবে (হাইপো)। একবার হাইপো হলে রোগীরা ভয় পায়, ডায়াবেটিসের ওষুধ নিতে ভয় পায়; সব রোগীরই তাই হাইপো সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে।

হাইপো হলে ডাক্তার খোঁজার দরকার নেই আগে মিষ্টি খেতে হবে, যে ওষুধের জন্য হয়েছে সেটা কমাতে হবে (কমপক্ষে ২০%)

কোন ইনসুলিন/ কীভাবে

শুরু করতে হবে, তারপর অপটিমাইজ করতে হবে এবং দরকার হলে ইনটেন্সিফাই করতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বেলায় কার্ব কাউন্ট করে কারেকশন ডোজ দিতে হয়।

সিংগল ডোজ হতে পারে, মাল্টিপল ডোজে দেয়া যায়। কন্টিন্য়াস সাবকিউটেন্য়াস ইনসুলিন ইনজেকশন পদ্ধতিতে সর্বক্ষণ চামড়ার নিচে ইনসুলিন সরবরাহ করা হয়। শরীরের সঙ্গে মেশিন লাগিয়ে রাখতে যেটা সুগার পরীক্ষা করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইনসুলিন পুশ করবে। ব্যয়বহুল হলেও এ পদ্ধতিতে কন্ট্রোল করা সহজ।

বেসাল ইনসুলিন : ইন্টারমিডিয়েট অ্যাক্টিং এনপিএইচ বা লং/আল্ট্রা লংএ্যাক্টিং (লেভেমির/ গ্লারজিন/ডেগ্লুডেগ) দিয়ে শুরু করুন। নাস্তার আগের (ফাস্টিং) গ্লুকোজ পরীক্ষা করে ডোজ অ্যাডজাস্ট করতে হবে। ফাসটিং কন্ট্রোল হলেও এ১সি কন্ট্রোলে না আসলে মেজর মিল-এর আগে রেগুলার হিউম্যান (শর্ট এ্যাক্টিং) অথবা রাপিড এ্যাক্টিং এনালগ দিতে হবে। এরপর এ১সি স্বাভাবিক না হলে বেসাল-বোলাস দিতে হবে। অর্থাৎ একটা বেসালের সঙ্গে প্রতিবার খাওয়ার আগে রাপিড অ্যাক্টিং দিতে হবে; দরকার অনুযায়ী ডোজ এডজাস্ট করে। প্রিমিক্সিড ইনসুলিন দিয়ে ডোজ টাইট্রেশন করা যায় না। রেগুলার হিউম্যান ইনসুলিনের বেলায় রাতে এনপিএইচ দিয়ে শুরু করতে হবে। দিনে ৩০ ইউনিটের বেশি লাগলে ভাগ করতে হবে সকালে ২/৩ অংশ ও রাতে ১/৩ অংশ দিয়ে; শর্ট অ্যাক্টিং রেগুলার ইনসুলিন যোগ করতে হবে। এনপিএইচ ২/৩ ও শর্ট অ্যাক্টিং ১/৩ দিতে হবে। যে বেলায় সুগার কম-বেশি হবে তার আগের ডোজ কম-বেশি করতে হবে। যদি ফাস্টিং গ্লুকোজ কমে তবে আগের ডোজ অর্থাৎ রাতে গিয়ে ইনসুলিন কমাতে হবে।

টার্গেট

এ১সি-সার্বিকভাবে< ৭% তবে যারা ওষুধ ছাড়া কন্ট্রোলে আছেন, যারা শুধু মেটফরমিনে কন্ট্রোলে আছেন, অল্পদিনের অসুখ, কোনো জটিলতা নেই তারা টার্গেট ৬.৫ করতে পারেন। বয়স্ক লোক, পুরনো ডায়াবেটিক রোগী, একবার মারাÍক হাইপগ্লাইসেমিয়া হয়ে গেছে, ডায়াবেটিসের জটিলতা আছে, ডায়াবেটিসের সঙ্গে অন্য বড় রোগ আছে ৮ টার্গেট তাদের জন্য যৌক্তিক।

ফাসটিং গ্লুকোজ : ৬ মিমোল/লি

খাওয়ার আগে (প্রিপ্রান্ডিয়াল) : ৪.৭-৭.২ মিমোল/লি

খাওয়ার পর (১-২ ঘণ্টা) : ৮-১০ মিমোল/লি.

ব্লাডপ্রেশার (রক্তচাপ) : ১৩০/৮০

এলডিএল <১০০

টিজি <১৫০

এইচডিএল <৪০

টোটাল কোলেস্টরেল <২০০.

বিএমআই ২৩

(বাকি অংশ পরবর্তী সংখ্যা)

লেখক : মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, বারডেম ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter