দক্ষ চিকিৎসক ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে ব্যাংকক হাসপাতাল

  যুগান্তর ডেস্ক ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হাসপাতালের বাংলাদেশী ডা. শক্তি রঞ্জন পাল
থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হাসপাতালের বাংলাদেশী ডা. শক্তি রঞ্জন পাল

রোগীদের উন্নত চিকিৎসার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হাসপাতালের বাংলাদেশী ডা. শক্তি রঞ্জন পাল

প্রশ্ন: কী বৈশিষ্ট্য থাকলে একটি হসপিটালকে বিশ্বমানের বলা যায়?

ডা. শক্তি রঞ্জন পাল: বড় হসপিটাল তিনটি জিনিস দিয়ে আরম্ভ হয়, প্রথমেই জানতে হবে টেকনোলজি আছে কিনা। টেকনোলজি না থেকে যদি শুধু বড় বড় ডাক্তার থাকলে সেটা টপ লেভেল হসপিটাল হতে পারে না। চিকিৎসকও আধুনিক হতে হবে কারণ টেকনোলজি ব্যবহার করবেন চিকিৎসক। এ জন্য দরকার হবে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার, টেকনিশিয়ান ও নার্স। যারা হসপিটালে ভর্তি হবেন তাদের জন্য প্রয়োজন নার্সিং কেয়ার।

প্রশ্ন: ব্যাংকক হসপিটালে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় কী সুবিধা আছে?

ডা. শক্তি রঞ্জন পাল: এখানে বাংলাদেশ মেডিকেল সার্ভিস আছে। এ হসপিটালে একটি আলাদা এরিয়া এবং কাউন্টার আছে যেখানে বাংলাভাষী ডাক্তার এবং স্টাফ আছেন। যেমন ডা. শারমীন আছেন উনি সেখানে বসেন, যাতে বাংলাদেশি রোগীরা নিজ ভাষায় তার সমস্যার কথা খুলে বলতে পারে।

প্রশ্ন: প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার নিরূপণ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি এখানে কী আছে?

ডা. শক্তি রঞ্জন পাল: ক্যান্সার হচ্ছে প্রত্যেক অরগান স্পেসিফিক, যেমন মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সার পুরুষের ফুসফুস ক্যান্সার বা পুরুষ-মহিলা সবারই পাকস্থলী ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, পিত্তথলি, থায়রয়েড অনেক সময় ব্রেইন ক্যান্সারও হয়। প্রত্যেক অরগানের জন্য কিছু ব্লাড টেস্ট আছে কিছু ইমেজিং স্ক্যানিং করা হয় যেমন ব্রেস্টের জন্য মেমোগ্রাম করা হয়, চেস্টের জন্য চেস্ট এক্স-রে করা হয়, না হলে সিটি স্ক্যান করা হয়, পেটের জন্য সিটি বা এমআরআই করা হয়।

এগুলোতে বিশ্বাসযোগ্য উত্তর না পেলে তখন করা হয় পেট সিটি। এটি এ হাসপাতালের ৪র্থ জেনারেশনের মেশিন, থাইল্যান্ডে অন্য কোথাও নেই। এছাড়া স্প্যাক্ট্রা বা অন্য ইমেজিংও আছে। ক্যান্সার নির্ণয়ে ইমেজিংয়ের পাশাপাশি যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে টিস্যু নেয়া।

যে স্থানে ক্যান্সার সে স্থান থেকে নিডেলের মাধ্যমে বা অপারেশন করেও নেয়া যায় যা পরীক্ষা করার মাধ্যমে বোঝা যায় এটা কোন টাইপের ক্যান্সার। যে কোনো অঙ্গের ক্যান্সার আবার কয়েক ধরনের হতে পারে। তাই পেট সিটির মাধ্যমে কোথায় এবং টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমে ধরন নির্ণয় করে চিকিৎসা করা হয়।

প্রশ্ন: হৃদরোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি, এ রোগ প্রতিরোধে করণীয় কী?

ডা. শক্তি রঞ্জন পাল: প্রথম করণীয় হল প্রিভেন্টিং, এটা হল যেসব কারণে হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা আছে তা জানা। যেমন গরুর গোশত, খাসির গোশত, পোলাও, বিরিয়ানি, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি যেসব তৈলাক্ত খাবার খেলে হার্ট ডিজিজ হয় তা থেকে বিরত থাকা। ইটিটি হল প্রাইমারি টেস্ট। এর দ্বারা ইমিডিয়েট রিস্ক আছে কিনা বোঝা যায়। যারা ভালো করে জানতে চান তারা এনজিওগ্রাম করতে পারেন। ক্যাথেটার না ঢুকিয়ে সিটি স্ক্যান করে অ্যানজিওগ্রামে দেখা যায় কোনো ধমনীতে ব্লক হচ্ছে কিনা।

প্রশ্ন: অর্থপেডিক্স ও নিউরো সার্জারি সংক্রান্ত কী কী উন্নত চিকিৎসা এখানে রয়েছে?

ডা. শক্তি রঞ্জন পাল: এ ক্ষেত্রে আমাদের স্পেশালিটি হচ্ছে যত কম কেটে অপারেশন করা যায়। আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে যদি কোনো জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট প্রয়োজন হয় যেমন হাঁটু, তাহলে সেখানে আমরা ব্যবহার করি সুইজার ল্যান্ডের জিমার, আমেরিকার জনসন, ইউরোপ, জার্মানি বা ফ্রান্স মেইড পার্টস। যা ২৫-৩০ বছরেও কিছু হয় না।

প্রশ্ন: কোনো রোগী যদি ব্যাংককে চিকিৎসার জন্য যেতে চায় তাহলে তার করণীয় কী?

ডা. শক্তি রঞ্জন পাল: তাকে শুধু আমাদের কোনো একজন স্টাফকে কল দিলেই হবে। সেই তাকে অনলাইনে ফরমগুলো পাঠিয়ে দেবে। তখন মেডিকেল ডকুমেন্টসহ সব কিছু অনলাইনে পাঠিয়ে দিতে পারবেন। আমাদের ডাক্তার এটা দেখে যাবতীয় পরামর্শ এবং কস্ট স্টিমেট পাঠিয়ে দেবেন। এটি উনি অফিসে এসেও করতে পারেন। এগুলো ব্যাংককে পাঠালে সেখান থেকে উত্তর আসবে কী ট্রিটমেন্ট করতে হবে, কত দিন থাকতে হবে এবং কত খরচ লাগবে।

এ উত্তর পেয়ে রোগী যদি যেতে চান তাহলে দ্বিতীয় স্টেপ হচ্ছে ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য যেসব ডকুমেন্ট দরকার তা নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে সেখানে ডাক্তারের অ্যাপয়েনমেন্ট নেয়া হবে। তৃতীয় স্টেপ হচ্ছে এখান থেকেই ডাক্তারের অ্যাপয়েনমেন্ট লেটার, বাংলাদেশ মেডিকেল সার্ভিসের স্টাফদের কন্টাক্ট নাম্বারসহ প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট রোগীকে দেয়া হয়। চতুর্থ স্টেপ হচ্ছে এখান থেকে ট্রাভেল করে ব্যাংককে পৌঁছার পর আমাদের হসপিটালের ব্যানারসহ লোক অপেক্ষা করবে তারা চাহিদা মতো হসপিটালে বা কোন অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে দেবে। পঞ্চম স্টেপ হচ্ছে নির্দিষ্ট তারিখ অনুযায়ী সেখানে যেদিন ডাক্তার দেখাতে যাবেন বাংলাদেশ বুথে গেলে সেখান থেকে সব সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×