রোজা রেখে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা

  ডা. মোহাম্মদ আলী ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোজা রেখে শরীরচর্চা ও খেলাধুলা

অনেকের ধারণা রোজা রেখে ব্যায়াম, শরীরচর্চা কিংবা খেলাধুলা করা সম্ভব নয়। অনেক ধর্মপ্রাণ খেলোয়াড় এবং স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তি রমজান মাসেও রোজা থাকার পাশাপাশি শরীরচর্চা কিংবা খেলাধুলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া গবেষকরা মনে করেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীরচর্চা কিংবা খেলাধুলার জন্য রোজা কোনো অন্তরায় নয়।

সুস্থ-স্বাভাবিক রোজাদারদের পক্ষে এ সময়ে শরীরচর্চা অব্যাহত রাখা সম্ভব এবং এটা শরীরের জন্য কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। অনেকে মনে করেন রোজা মস্তিষ্ক এবং মাংসপেশীর সক্রিয়তা এবং সজীবতা বৃদ্ধি করে থাকে। রমজানের সময় রোজার পাশাপাশি ব্যায়াম এবং শরীরচর্চা অব্যাহত রাখলে তা অতিরিক্ত মেদ এবং ওজন কমাতে সহায়তা করে।

প্রশ্ন হচ্ছে কখন শরীরচর্চা করতে হবে? এ বিষয়ে নানারকম মতামত রয়েছে।

অনেকে মনে করেন তারাবি নামাজের পরে ব্যায়াম করা উত্তম। কারণ এ সময়ে ব্যায়াম করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কমে যাওয়ার ভয় থাকে না। বিশেষত ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা ভারী ব্যায়াম করেন, তারা এই সময়ে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পানীয় গ্রহণ করতে পারেন। যারা হালকা শরীরচর্চা করেন, তারা ইফতারের একটু আগে কিংবা পরে তা করতে পারেন। যাদের হাইপোগ্লাইসিমিয়া হওয়ার আশঙ্কা কিংবা প্রবণতা রয়েছে, তাদের সেহরি থেকে ইফতারের মধ্যবর্তী সময়ে শরীরচর্চা না করা ভালো।

এ সময়ে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করা উত্তম। যেসব ভারী ব্যায়াম করলে পালস রেট অতিরিক্ত বেড়ে যায়, এই সময়ে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। দ্রুত হাঁটা, জগিং কিংবা জিমে মেশিনে হালকা ব্যায়াম করা কোনো সমস্যা নয়। শরীরচর্চার সুফল পাওয়ার জন্য অবশ্যই সেহরি এবং ইফতারিতে সুষম স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় রমজান মাসে সেহরি এবং ইফতারিতে অতিরিক্ত তেল-চর্বি এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শেষ পর্যন্ত শরীরের শুধু ওজনই বেড়ে যায় তা নয়, সার্বিকভাবে শরীরচর্চা করার ক্ষমতাও হ্রাস পায়।

অ্যাথলেট এবং খেলাধুলার পারফরমেন্সের ওপর রোজার প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অমিত বাড়ূজ্জ্যে ৭৭ জন যুবকের শারীরিক ফিটনেসের ওপর রোজার প্রভাব নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ওই যুবকরা আগে কখনও ব্যায়াম করেননি কিংবা তারা কোনো রকম খেলাধুলাও করতে অভ্যস্ত নন।

পর্যবেক্ষণের ফলাফলে দেখা যায়, রোজা থাকার পরে তাদের অ্যারোবিক ফিটনেস কমে গিয়েছে; দ্রুত এবং ভারী মাত্রার শরীরচর্চা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও রমজানের শেষে এই যুবকদের শরীরের ওজন খুব সামান্যই কমেছে; কিন্তু মুঠোর শক্তির ওপর রোজার কোনোই প্রভাব পড়েনি। কলকাতার পর্যবেক্ষণটি খুব বিজ্ঞানসম্মত হলেও দুটি বড় দুর্বলতা রয়েছে। প্রথমত গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের সেহরি এবং ইফতারের খাবারের কোনো তথ্য গ্রহণ করেননি এবং তারা শুধু শরীরচর্চায় অনভ্যস্তদের ওপরেই এই পর্যবেক্ষণ করেছেন। সুতরাং এই ফলাফল সার্বিকভাবে রোজাদার খেলোয়াড়দের জন্য প্রযোজ্য নয়।

কাতারের অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড স্পোর্টস মেডিসিন হাসপাতালের গবেষকরা রমজান মাসে যেসব রোজাদার অ্যাথলেটস খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করেন, তাদের পারফরমেন্স নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করেছেন। বিশ্লেষণে দেখা যায় শরীরের সার্বিক কার্যকলাপ, রসায়ন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রিয়ার ওপর রোজার নানামুখী প্রভাব রয়েছে।

দিন কিংবা রাতের কোনো সময়ে খেলা এবং প্রশিক্ষণ হচ্ছে তার ওপরে অনেক ফলাফল নির্ভর করে। এজন্য রোজা থাকার ফলে অ্যাথলেটিক পারফরমেন্স শ্লথ হতে পারে কিংবা ফলাফলের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তিউনিসিয়ার ইউনিভার্সিটিতে আরেকটি পর্যবেক্ষণে ৮ জন রোজাদার ক্যারাতে খেলোয়াড়ের পারফরমেন্সের ওপর রোজার কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়নি।

বলা যায় অ্যাথলেট এবং খেলোয়াড়দের ওপর রোজার প্রভাব সম্পর্কে আরও গভীর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, ফিজিওথেরাপি বিভাগ, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×