এড়াতে হবে পানিশূন্যতা

  আখতারুন নাহার আলো ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুরো একমাস রমজানে দিনের বেলা যেহেতু পানি পান করার কোনো সুযোগ নেই, সেজন্য অনেকের ডিহাইড্রেশন এবং প্রস্রাবে সংক্রমণ হতে দেখা যায়। এই গরমে মানুষ যত না ক্ষুধায় কষ্ট পান তার চেয়ে বেশি হয় পিপাসার্ত হয়ে। এখন প্রায় পনেরো ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়, এই কারণে দেহে পানির অভাব হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেহে ৫০-৭০ ভাগ পানি থাকে। পানি গ্রহণ ও বর্জন এই দুই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানির সমতা নির্ভর করে। পানি দেহের স্থিতিস্থাপকতার জন্য প্রয়োজন হয়। দেহে পানি আছে বলেই লালাগ্রন্থির জন্য আমরা খাবার গিলে ফেলতে পারি। এছাড়া শ্লেষ্মাক্ষরণের জন্য অন্ত্রনালি, শ্বাস-প্রশ্বাস, বিপাক ক্রিয়া এসবের জন্যও পানি প্রয়োজন হয়। একজন পূর্ণ বয়স্কের দুই থেকে তিন লিটার পানি প্রয়োজন হয়। ঘাম, মূত্র এবং মলের মাধ্যমে কিছু পানি ব্যয়িত হয়। বাকিটা ব্যয় হয় শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে। গরমের সময় অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানি ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। পানীয় জল গ্রহণের ফলে এটায় ভারসাম্য ঠিক থাকে। একে দেহের জলীয় সাম্য বলে। রোজা রাখার ফলে এই সাম্য অনেকটা নষ্ট হয় বলে অনেকে আশঙ্কা করে থাকেন। যদি ব্যাপারটা এমন হয় যে, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত দেহের পুরো পানির চাহিদা মেটানো যায়, তাহলে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। পানি শূন্যতা রোধে বোধ করি এ কারণে যুগ যুগ ধরে ইফতারের প্রথম খাবার হিসেবে শরবতকে বেছে নেয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে শরবত তৈরি করা যায়। যেমন- ইসবগুলের ভুসি, লেবু, তোকমা, স্কোয়াস, তেঁতুল, বেল, কাঁচা আম, বাঙ্গি, বিভিন্ন ফলের রস, দুধ দুই, চিড়া ইত্যাদি। এছাড়া ডাবের পানিও ভালো একটি পানীয়। ডাবের পানি ডিটফ্রিফিকেশনে সাহায্য করে। এটি প্রস্রাব সংক্রমণরোধ করে। এতে ক্যালরি কম থাকে বলে প্রায় সবাই খেতে পারেন। এটি ইলেকট্রোলাইট ও রক্তচাপ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। শরবত ছাড়াও ইফতারের উপাদান হিসেবে থাকতে পারে ভেজানো চিড়া, দইবড়া, হালিম, শসার রায়তা, ফালুদা, কাস্টার্ড, ফলের সালাদ, নরম খিঁচুড়ি, কাঁচা ছোলা, যে কোনো ধরনের ফল, এতেও পানি পাওয়া যাবে। চা ও কফি খাওয়া যাবে, তবে পরিমিত পরিমাণে। কাঁচা আমের শরবত হিটস্ট্রোকে বেশ উপকারি।

সন্ধ্যারাতে ও সেহরিতে পাতলা ডাল, মাছের ঝোল, সালাদ, সুক্তো ও দুধ থাকতে পারে। ভুনা-মসলাবহুল তরকারির চেয়ে হালকা মসলার ঝোলসহ তরকারিই ভালো। চেষ্টা করতে হবে রমজানের সময় প্রতিটি খাবারে যেন পানি বিদ্যমান থাকে। পানি সহজে খাবার হজম করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এছাড়া রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখে এবং শরীর থেকে রাসায়নিক ও ট্রক্সিন বের করে দেয়।

সুতরাং রমজানে যদি এভাবে খাবার ঠিক রাখা যায়, তাহলে পানি শূন্যতা নিয়ে কোনো ভয় থাকার কথা নয়।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান, পুষ্টি বিভাগ (অব.), বারডেম হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×