তামাক ব্যবহারে ক্যান্সার

  ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৩১ মে ওয়ার্ল্ড নো টোব্যাকো ডে। বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বে মৃত্যুর কারণের দশ ভাগ দখল করে আছে তামাকজনিত জটিলতা। আমাদের দেশে এর সংখ্যা নিশ্চয় আরও বেশি। কারণ এ দেশে তামাক শুধু ধূমপানে ব্যবহৃত হয় না, সঙ্গে জর্দা, গুলের মতো ভয়াবহভাবে তামাকের ব্যবহার হয়।

তামাকের মধ্যে ৭০টি ক্যান্সার তৈরির উপাদানসহ প্রায় ৭০০০টি বিষাক্ত উপাদান রয়েছে, অথচ অবলিলায় তামাকের ব্যবহার চলছে। প্রতিদিন ধূমপানে কতটা আর্থিক ক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন আমরা হচ্ছি, সেটা ভাবতে হবে।

তামাকের ভয়াবহতা তৎক্ষণাৎ বোঝা যায় না বলে বেশিরভাগ তামাক সেবনকারী অনেকটা জেনেও তামাক ছাড়ে না, এটি নিশ্চিত যে তামাক থেকে সৃষ্ট অপূরণীয় ক্ষতিগুলো ধীরে ধীরে না বেড়ে স্বল্প সময়ে ধরা দিলে কেউ আর এটা ধরে রাখার দুঃসাহস দেখাত না। চিকিৎসা গবেষকরা স্পষ্ট তুলে ধরেছেন তামাক ব্যবহারকারী তার গড় আয়ু থেকে প্রায় ১২ বছর সময় কমিয়ে ফেলে। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ এর ধীর ধ্বংসাত্মের শিকার হয়। চুল, চোখ, মস্তিষ্ক, নাক, কান, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, লিভার, প্রজনন সিস্টেম, চর্ম, যকৃত, রক্তসহ প্রায় সবখানে ধূমপানের জটিলতা পৃথকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন চিকিৎসা গবেষকরা।

মুখ গহ্বরে জটিলতা

মুখ গহ্বরের অস্বাভাবিকতা

মুখের মধ্যকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে এসিডিক করে তোলে, ফলে ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়ি রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনেক সময় দাঁতের প্রতিরক্ষা আবরণ নষ্ট করে, তখন শিরশির অনুভূতি হয়। ১৫ বছরের এক গবেষণা বলে তামাক ব্যবহারকারীর মাড়ির রোগ সাড়ে তিন গুণ বেশি। গবেষণা স্পষ্ট করে ধূমপায়ীদের মুখে ক্যারিজ ও মাড়ি রোগ তৈরির ব্যাকটেরিয়া অধিক পাওয়া যায়।

তামাক ব্যবহারে মুখের রক্তবাহী নালির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়, ফলে সংক্রমণ সহজে ভালো হয় না, চিকিৎসার সফলতাও ধীরগতিতে অথবা কমে যায়, যেমন মাড়ি রোগের চিকিৎসা, ইমপ্ল্যান্ট প্রতিস্থাপনে, দাঁত ফেলে দিলে বা কোনো ক্ষতের চিকিৎসায়।

সৌন্দর্যহানি

পান, জর্দা ব্যবহার বা ধূমপায়ীদের দাঁত ও মাড়ির রং বিবর্ণ হয়ে যায়, এতে করে শুধু সৌন্দর্যের ব্যাঘাত ঘটে তা নয়, ব্যক্তিত্ব প্রকাশেও হীনমন্যতায় পড়তে হয়। সামাজিকভাবেও বিষয়টি বিব্রতকর। কারণ সৌন্দর্য বা দৃঢ় ব্যক্তিত্ব প্রকাশে সুন্দর হাসির ভূমিকা প্রধান, আর সুন্দর হাসির জন্য প্রয়োজন ঝকঝকে পরিপাটি দাঁত।

দুর্গন্ধ

তামাক ব্যবহারকারীর মুখে দুর্গন্ধ খুব স্বাভাবিক, আর এ পরিস্থিতি ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে হেয় করে।

প্রিক্যান্সার ও ক্যান্সার

তামাক ব্যবহারে, বিশেষ করে জর্দা থেকে মুখে বিভিন্ন ধরনের ক্ষত তৈরি হয়। ক্ষতগুলো বিভিন্ন ধরনের ও ভিন্ন উপসর্গের হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত থেকে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। মুখের ক্যান্সারকে এখন শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ক্যান্সারের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে তুলনা করলে এর অবস্থান ৩য় স্থানে, আমাদের দেশে অনুপাতে বেশিও হতে পারে। বিষয়টি সিগারেটের প্যাকেটে স্পষ্ট করলেও ধূমপয়ীরা অবহেলা করে।

বিশেষ দিবসে চাই গণসচেতনতা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা কর্তৃক দিবসটির প্রতিপাদ্যের সূত্র ধরে বলা যায়, ‘প্রতিদিন হোক তামাকমুক্ত দিবস’। প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধে আইনের প্রয়োগ কঠোর হতে হবে, কারণ নিরাপরাধ কেউ পরোক্ষভাবে ধূমপানের ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সামাজিক অপরাধের শির্ষে আনতে হবে তামাকের ব্যবহারকে। তামাক থেকে মুখ ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই। গ্রামে যেমন অবলিলায় চলে জর্দার ব্যবহার আর শহরে চলছে ধূমপান। রাজধানীর বড় বড় রেস্টুরেন্টগুলো অধিক মুনাফার জন্য স্মোকিং জোন তৈরি করে রেখেছে। দেশে এখন পুরুষের পাশাপাশি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নারী ধূমপায়ীদের সংখ্যা। শখ করে, ভুল করে, কারও প্ররোচনায় বা হতাশা থেকে জর্দা, সিগারেট বা বিড়ি ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে ইচ্ছাটাই যথেষ্ট। বিশ্বে প্রতিদিন অনেক ধূমপায়ী মারাত্মক এই স্বাস্থ্য ঝুঁকির অভ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছে। আপনার স্বাস্থ্য আপনার-ই, একে রক্ষা করার দায়িত্বও আপনার। সবার সম্মিলিত ইচ্ছা ও চেষ্টাতে তামাক ব্যবহার বন্ধ হোক, এমনটাই চাওয়া।

লেখক : ডেন্টাল সার্জন, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, সদস্য সচিব, বিএফডিএস

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×