ঈদে চাই সুন্দর হাসি

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

কিছুদিন পর ঈদ। আনন্দের এই দিনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য চলছে প্রস্তুতি। আমরা ক’জন জানি বা বিশ্বাস করি যে সৌন্দর্য প্রকাশে হাসি কতটা ভূমিকা রাখে?

২০০৮ সালে আমেরিকার এক জরিপে বলা হয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক যখন অন্য কাউকে প্রথম দেখে তখন প্রথমে নজর যায় তার হাসির দিকে, শতাংশের দিক দিয়ে এর অবস্থান ৪৭ শতাংশ, এর পর যথাক্রমে চোখ ৩১ শতাংশ, সুগন্ধী ১১ শতাংশ, পোশাক ৭ শতাংশ আর চুল ৪ শতাংশ। হ্যারিস ইন্টারেক্টিভ, ইউএসএ ২০১৩-এর সূত্র মতে হাসির অবস্থান ৮২ শতাংশ, এমন অনেক গবেষণা স্পষ্ট বলে সৌন্দর্য প্রকাশে সুন্দর হাসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের পরিবর্তন আসছে, কসমেটিক ডেন্টাল চিকিৎসার প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই বিবর্ণ দাঁত, আঁকাবাঁকা উঁচুনিচু দাঁত, ফাঁকা দাঁত, ভাঙা দাঁত, মাড়িতে প্রদাহ নিয়ে মন কষ্টে থাকে, হাসি হাসতে সংকোচ বোধ করে, ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে থাকে কসমেটিক চিকিৎসা থেকে হয়তো দাঁতের ক্ষতি হতে পারে।

উন্নত বিশ্ব সমমানের নিরাপদ ও বিজ্ঞানভিত্তিক কসমেটিক ডেন্টাল চিকিৎসা এখন সফলভাবে আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত হচ্ছে। আঁকাবাঁকা বা উঁচুনিচু দাঁতের চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ হলেও বিবর্ণ দাঁত, ভাঙা দাঁত, কৃত্রিম দাঁত, ফাঁকা দাঁত বা কৃত্রিম দাঁত সংযোজন কিন্তু খুব অল্প সময়েই সম্ভব। যার জন্য প্রয়োজন ডেন্টাল চিকিৎসা পদ্ধতি বিষয়ে সময়পোযোগী সঠিক জ্ঞান ও সঠিক চিকিৎসা কেন্দ্র নির্বাচন। দুঃখজনক হলেও সত্যি দেশে এখন আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বেশকিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের চিকিৎসক পরিচয়ে ডেন্টাল চিকিৎসা প্রদানের দুঃসাহস দেখিয়ে যাচ্ছে।

অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত দাঁত কখনই কারও কাম্য নয়, সামাজিকভাবেও নিজেকে ছোট করে। বিবর্ণ দাঁত যেমন পানের দাগ, ধূমপানের দাগ, কফি বা চায়ের দাগ, পাথর, আয়রনের দাগ বা মাড়ি ফুলে যাওয়া, দুর্গন্ধকে এক অ্যাপয়েন্টমেন্টেই স্কেলিং ও পলিশিং করিয়ে সুন্দর ও ঝকঝকে করা সম্ভব, দাঁতের নিজস্ব রং পরিবর্তন হলে হোয়াইটেনিং করানো যায়, একদিনেই দাঁতের ফাঁকা বন্ধে বা ভাঙা দাঁতকে অত্যাধুনিক বন্ডিং কম্পোজিট ফিলিং করানো সহজ, শুধু সঠিক কারণ বা রোগ নির্ণয় করে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিতে হবে যেটা শুধু একজন অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শেই হতে পারে। সুন্দর ও সুসজ্জিত দাঁত শুধু হাসিকেই সুন্দর করে না, ব্যক্তিত্বকে সুদৃঢ় করে, মুখের আকৃতিকে সুন্দর রাখে, প্রাণচঞ্চল রাখে, কাজে উৎসাহ জোগায়, স্পস্ট উচ্চারণে ভূমিকা রাখে, খাবারকে হজমোপযোগী চর্বণ ও স্বাদ গ্রহণে সাহায্য করে, ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, স্মৃতিশক্তিকে প্রখর রাখে, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে এমন অনেক জরুরি বিষয়ের সঙ্গে সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসির প্রতক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নিয়ে তথ্য দিচ্ছেন গবেষকরা।

লেখক : ডেন্টাল সার্জন, রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান