হজের প্রস্তুতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

  ডা. এম এ মুমিত আজাদ ০৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হজের প্রস্তুতি ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

হজ পরিকল্পনা শুরু করবেন যেভাবে।

মেডিকেল চেকআপ রিপোর্ট

বৈরী আবহাওয়ায়ও হাজীদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মেনিনজাইটিস-ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধক টিকা। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকার পর মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে ভুলবেন না। জেলা শহরেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। মেডিকেল সার্টিফিকেট ছাড়া কেউ হজে যেতে পারবেন না।

হজের সফর

ব্যাগে যা রাখা যাবে না : বিমানে যাওয়ার সময় ব্যাগে ছুরি, কাঁচি, দড়ি নেয়া যাবে না। বিমান কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা অনুযায়ী বিমানে কোনো হজযাত্রী সর্বোচ্চ ৩০ কেজির বেশি মালামাল বহন করতে পারবেন না। নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ওষুধ নিতে পারবেন না।

সঙ্গে যা কিছু রাখতে পারবেন : হজের সফরে ব্যক্তিগত মালামাল কী কী লাগতে পারে অভিজ্ঞজনদের কাছ থেকে জেনে নিন। মালামাল নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন। আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন- পাসপোর্ট, ভিসা, টাকা রাখার জন্য গলায় ঝোলানো ছোট ব্যাগ ব্যবহার করুন, বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করুন, ইহরামের কাপড় কমপক্ষে দুই সেট। আরামদায়ক পোশাক লুঙ্গি, গেঞ্জি, পায়জামা, পাঞ্জাবি সঙ্গে নিতে পারেন। ওষুধপত্র, চশমা ব্যবহার করলে অতিরিক্ত এক সেট চশমা, এর বাইরে আরও কিছু প্রয়োজনীয় মনে হলে তা নিয়ম মেনে সঙ্গে নিতে হবে।

ঢাকা বিমানবন্দরে : বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই চেক করুন পাসপোর্ট ও টিকিট নিয়েছেন কিনা। বিমানবন্দরে পৌঁছান সঠিক সময়ে। লাগেজে যেসব মালপত্র নেবেন তা ঠিকমতো বাঁধা হয়েছে কিনা, অবশ্যই দেখে নিন। বিমানে মালপত্র রাখার টোকেন দিলে যত্ন করে রাখুন। বাংলাদেশি সরকারি পরিচয়পত্র, বিমানের টিকিট, টিকা দেয়ার কার্ড, যাবতীয় কাগজপত্র এবং টাকা সাবধানে রাখুন। নির্ধারিত আসনে বসে জিকির-ফিকিরে নিয়োজিত থাকুন।

যখন মক্কা পৌঁছে যাবেন : মালপত্র রেখে একটু বিশ্রাম করুন, নামাজের ওয়াক্ত হলে নামাজ আদায় করে নিন। ওমরাহর নিয়ত করে থাকলে ওমরাহ পালন করে নিন। সৌদি আরবে অবশ্যই ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন। সিগন্যাল পড়লে রাস্তা পার হতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার সময় অবশ্যই ডানে-বাঁয়ে দেখে-শুনে সাবধানে পার হবেন।

হজে স্বাস্থ্য সতর্কতা

তাপমাত্রার পার্থক্য : আমাদের দেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মরু অঞ্চলে তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। সৌদি আরবের তাপমাত্রা সাধারণত ৪০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে, সেই সঙ্গে বাতাসে জলীয়বাষ্পের আর্দ্রতাও কম থাকে। অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক হতে পারে। সঙ্গে ডায়রিয়া, বমি ও মাত্রাতিরিক্ত ঘামে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। ফলে শরীর থেকে লবণ বের হয়ে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক থাকে না; ফলে শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, স্ট্রেস ও ঝিমুনি ও বমি বমি ভাব হতে পারে।

স্কিনের সমস্যা : সরাসরি সূর্যের আলো গায়ে লাগায় এর ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মুখমণ্ডল, বাহু ও বুকের চামড়ায় সানবার্ন হতে পারে।

সংক্রমণ ব্যাধি : পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লোকজন একত্রে ঘন পরিবেশে বসবাস, বাতাসে হাঁচি-কাশি এবং হাতের স্পর্শে বিভিন্ন ফ্লুর সংক্রমণ ঘটতে পারে।

ম্যানিনগোকক্কাল ম্যানিনজাইটিস : হজযাত্রীতের জন্য এ রোগটি আতঙ্কের কারণ। একটি সমীক্ষায় জানা যায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে অতি জনবহুল অবস্থায় ম্যানিনগোকক্কাল জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই সৌদি সরকার এ রোগের জন্য বাধ্যতামূলক ভ্যাকসিন গ্রহণের নিয়ম চালু করেছে। ভিসা অনুমোদনের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকসিনেশন বোর্ডের দেয়া ছাড়পত্র মোতাবেক ভিসা মঞ্জুর করে থাকে।

টনসিলাইটিস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ : অতিরিক্ত গরমে ডিপ ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি পানে গলা বসে যাওয়া, গলাব্যথা ও টনসিলাইটিস এমনকি ঊর্ধ্ব শ্বাসনালিতে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ যেমন- একুইট ও ক্রোনিক ডিসঅর্ডার দেখা দিতে পারে। স্থান ও পরিবেশগত পার্থক্যের জন্য ঠাণ্ডা জ্বর ও ইনফুয়েঞ্জাও আক্রমণ করতে পারে।

ট্রমা বা আঘাত : হজের অষ্টম দিবসে বিশেষ করে আরাফার ময়দানের উদ্দেশে যাত্রাকালে অতিরিক্ত গরম, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ ও ভিড়ের মধ্যে আঘাত, মাথাব্যথা, বমি ভাব বিশেষ করে বয়স্ক ও বাতের রোগীদের অতিরিক্ত হাঁটাচলার কারণে বাতব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

হজের সফরে সুস্থতার জন্য করণীয়

হজের সফরের শুরুতে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সাধারণ রোগের ওষুধগুলো ভ্রমণকালে সঙ্গে রাখতে হবে।

ভ্যাকসিনেশন : ম্যানিনগোকক্কাল ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য এসিওয়াইডব্লিও-১৩৫ এবং ফ্লুভ্যাকসিন নিতে হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে টিটেনাস, ডিপথেরিয়া, পার্টোসিস ও পলিও ভাইরাসের জন্যও ভ্যাকসিন নিতে হবে।

ফার্স্টএইড চিকিৎসা : ড্রেসিং করার জন্য সব উপাদান এবং বিষাক্ত পোকামাকড়ের জন্য অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম সঙ্গে রাখা। আরও রাখতে পারেন চোখের ড্রপ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারণের জন্য ইসবগুলযুক্ত ফাইবোসিনা এবং ইসবগুল প্লাস সঙ্গে রাখতে পারেন।

পানি ও লবণের সাম্যতা : অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানি ও মিনারেল ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন ও মক্কা-মদিনায় প্রাপ্ত মাঠা খাওয়া যেতে পারে।

জ্বর ও মাথাব্যথা : জ্বর ও সাধারণ ব্যথাজনিত কারণে প্যারাসিটামল ও ক্যাফেইনযুক্ত অ্যান্টিপাইরেটিক ও এনালজেসিক ওষুধ সঙ্গে রাখা।

টনসিলের ব্যথায় : ঠাণ্ডাজনিত গলাব্যথা ও টনসিলের ব্যাথার জন্য জিঞ্জার বা শুকনো আদার চা অথবা গরম পানির গড়গড়ায় উপকারী ফল পাওয়া যায়।

ট্রমা : আঘাতজনিত ব্যথায় ডাইক্লোফেন বা এসিক্লোফেনযুক্ত ওষুধ এবং আক্রান্ত স্থানে লাগানোর জন্য ব্যথানাশক জেল রাখা।

পেটের পীড়ায় : পাতলা পায়খানা ও আমাশয় হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওরাল রিহাইড্রেশন স্যালাইন বা খাওয়ার স্যালাইন এবং সঙ্গে মেট্রোনিডাজলযুক্ত ওষুধ আর পেটের অতিরিক্ত অম্লতার জন্য ডমপেরিডন সংগ্রহে রাখা।

শ্বাসকষ্টে : হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগীদের জন্য সালবিউটামল সালফেটযুক্ত ব্রংকোডায়ালেটর ওষুধ ট্যাবলেট উপকারী।

অতিরিক্ত অম্লতায় : হাইপার অ্যাসিডিটি বা অম্লাধিক্যের জন্য অ্যালুমিনিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফেটযুক্ত চুয়েবল এন্টাসিড ট্যাবলেট সঙ্গে রাখা ভালো। আর অবিরত অ্যাসিডিটির সমস্যায় চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে রেনিটিডিন, ওমিপ্রাজল অথবা প্যান্টোপ্রাজলযুক্ত ওষুধ সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় : ধুলোবালি, ডাস্ট দ্বারা আক্রান্ত হলে সেটিরিজিনযুক্ত অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ট্যাবলেট উপকারী।

ভ্রমণকালীন অস্বস্তি : মাথাধরা ও বমি বমি ভাব দূর করতে অ্যান্টিবমিটিং ড্রপ সঙ্গে রাখা ভালো।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×