ডেঙ্গুর ভ্যাক্সিন

  ডা. আইরিন রহমান ১০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্টেশন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেঙ্গু ভ্যাক্সিনের অনুমোদন দিয়েছে। এর ডোজ ৩টা। প্রতিটি ৬ মাস বিরতিতে দিতে হবে, ০-৬ মাস এবং ১২ মাস। ৯ বছর-৪৫ বছর বয়সীদের জন্য প্রযোজ্য।

মনে রাখতে হবে

* এই ভ্যাক্সিনটি শুধুমাত্র পূর্বে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদেরই দেয়া যাবে।

* এক্ষেত্রে তার previous infection-এর কোনো documents থাকবে অথবা screening test করে IgG, antibody detect করে patient-এর past infection হয়েছিল কিনা নিশ্চিত হতে হবে।

* যাদের কখনও ডেঙ্গু হয়নি তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এমনকি আগে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে কনফিউশন থাকলেও দেয়া যাবে না।

কারণ এদের ভ্যাক্সিন দেয়া হলে পরবর্তীতে তাদের আরও সিভিয়ার ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আমরা জানি, ফার্স্ট টাইম/ প্রাইমারি ডেঙ্গু ইনফেকশনের চেয়ে সেকেন্ডারি ডেঙ্গু সিভিয়ার হয় এবং হেমোরেজিক অথবা শক সিন্ড্রোমও সেখানে বেশি কমন। কারণ antibody dependent enhancement (কারো কারো ক্ষেত্রে আবার tertiary or quaternary infection-এ গিয়েও হয়) হলে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম হয়।

প্রথমবার ভ্যাক্সিন দেয়ার পরে হয়তো কেউ একটা সেরোটাইপের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি ডেভেলপ করে। এ সময় যদি তার ন্যাচারালি অন্য আরেকটি সেরোটাইপ দিয়ে ইনফেকশন হয়, তাহলে সেটা হবে সেকেন্ডারি ইনফেকশন। যার ফলে সে ক্ষেত্রে সিভিয়ারিটি বেশি হয়।

তবে যাদের আগে ডেঙ্গু হয়েছে তাদের ভ্যাক্সিন দেয়া যাবে কারণ তারা এমনিতেই সেকেন্ডারি ইনফেকশনের সিভিয়ারিটির ঝুঁকিতে আছে। ভ্যাক্সিন নিয়ে যদি সে আগেই অন্য সেরোটাইপের বিরুদ্ধে immunity develop করে, সেটা তার জন্য beneficial হবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, ভ্যাক্সিন দেয়া হলে এদের ক্ষেত্রে সিভিয়ার ডেঙ্গু বা হসপিটালাইজেশনের রেট অনেক কমে যাচ্ছে। ভ্যাক্সিনের এফিকেসি রেট প্রায় ৭৬ শতাংশ।

ফিলিপাইনে ২০১৭ সালে যে মাস ইমিউনাইজেশন করা হয়েছিল, সেখানে recipient-এর দের serostatus দেখে নেয়া হয়নি, যার কারণে পরবর্তী সময়ে সিভিয়ার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গিয়েছিল অনেক এবং ভ্যাক্সিনেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

যেসব দেশে ডেঙ্গুর sero prevalence >70%, WHO সেসব দেশে vaccination recommend করছে। আর যেসব দেশে sero prevalence <50% সেসব দেশের জন্য recommend করা হয়নি। কারণ এতো মানুষের স্ক্রিনিং টেস্ট করে ভ্যাক্সিনেশন হয়তো কস্ট ইফেক্টিভ নয়।

বর্তমানে এই ভ্যাক্সিন ২০টি দেশে কমার্শিয়ালি এভেইলেবল। যেহেতু আমাদের দেশে এখনও সেরোপ্রিভিলেন্স এতো বেশি নয়, সেহেতু সরকারিভাবে এখনও সেটা রিকমেন্ডেড নয়।

বর্তমানে এই dengavarix ছাড়াও ডেঙ্গুর আরও কিছু ভ্যাক্সিন ফেজ-১, ফেজ-২ trial-এ আছে। হয়তো অচিরেই আরও ভালো কিছু বাজারজাত হবে।

লেখক : ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×