১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের কৌশল

  অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছর আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের জন্য থিম নির্ধারণ করেছিল- ‘পরিবার এবং ডায়াবেটিস’। এ বছরও তারা একই থিম রেখে দিয়েছে। এ থেকেই অনুমান করা যায় পরিবার এ রোগের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জ্ঞানার্জন জরুরি বিষয় বলে বিবেচিত হচ্ছে।

ডায়াবেটিস বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস (১৪ নভেম্বর) বহাল থাকতেও বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে তিন বছর আগে বেছে নেয়া হয়েছিল ডায়াবেটিসকেই। এ থেকে সহজেই বুঝে ওঠা যায় যে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগকে কতটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের ফোকাস হিসেবে ডায়াবেটিসকে বেছে নেয়ার পেছনে কাজ করেছিল তিনটি বিষয়।

* নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় ডায়াবেটিস রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং মানবজীবনে রোগটির বড় বোঝা হয়ে ওঠা ও তার পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।

* ডায়াবেটিসকে মোকাবেলার জন্য সুনির্দিষ্ট, কার্যকর ও সাশ্রয়ী উপায় নির্ধারণ করা। যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও যত্নে কাজে আসবে।

* ডায়াবেটিসের ওপরে প্রথম গ্লোবাল রিপোর্ট উপস্থাপন যা মানবজীবনে রোগটির বড় বোঝা হয়ে ওঠা ও তার পরিণতি সম্পর্কে জানাবে। স্বাস্থ্যরীতি উন্নয়নে নজরদারি নিশ্চিত করবে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাবে এবং ডায়াবেটিসের কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলবে।

বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৪২৫ মিলিয়ন, অর্থাৎ ৪২ কোটিরও বেশি। শঙ্কার বিষয় হল প্রতি দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে একজন এখনও জানতে পারছেন না যে তার ডায়াবেটিস রয়েছে। রোগ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। অশনাক্ত থাকলে ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে প্রায় এক কোটি, বছরে বাড়ছে আরও ১ লাখ রোগী। সব বয়সের মানুষই আজ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতি বছরই দ্বিগুণহারে বাড়ছে নতুন নতুন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। সচেতনতার অভাবে অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম স্থানে।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, নিয়মিত কায়িক পবিশ্রম এবং প্রয়োজনে ওষুধের ব্যবহার। শুধু ওষুধের সাহায্যে কখনই এ অসুখ সারানো সম্ভব নয়। অন্য দুটি নিয়ম পালন করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফিজিক্যাল এক্সারসাইজের ব্যাপারটা বিশেষ করে মাথায় রাখা বিশেষ প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস ডেকে আনতে বাড়তি স্ট্রেসের একটা প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে। ডায়াবেটিসের একটা মেজর রিস্ক ফ্যাক্টর হল স্ট্রেস। পাশাপাশি ধূমপান, মদ্যপান করে বিপদ ডেকে আনবেন না। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ব্যায়াম করুন, পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটুন। ঘরে অফিসের কাজ নিয়ে আসবেন না। রাত জেগে টিভি দেখবেন না। মোবাইল অফ করে ঘুমাবেন। বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুস্থ জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সুস্থ জীবনযাপন মানে হচ্ছে- স্বাস্থ্যকর খ্যাদ্যাভ্যাস, ব্যয়াম এবং মন সুস্থ রাখা। মন সুস্থ রাখতে হলে মনের ওপর চাপ নেয়া যাবে না।

৭২ ঘণ্টায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য হলিস্টিক পদ্ধতি এখন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। হলিস্টিক পদ্ধতি হল আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাচীন প্রাকৃতিক পদ্ধতির আশ্চর্য সমন্বয়। এ চিকিৎসার মূল চাবিকাঠি দুটি। স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম। বিগত প্রায় এক দশক ধরে পান্থপথে হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার হলিস্টিক চিকিৎসায় দেশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে হাজার হাজার ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে সুবাতাস বয়ে এনেছে। এর ফলে একদিকে যেমন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসছে। অন্যদিকে তেমনি দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগীদের জীবনে স্বস্তি নেমে এসেছে। বহু রোগী ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে চমৎকার জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য হলিস্টিক চিকিৎসা উপকারী বন্ধুর মতো কাজ করছে। অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডায়াবেটিস পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কৌশল সংক্রান্ত সফল কর্মশালা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে চলেছে। এ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বহু রোগী ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ণরূপে ইনসুলিন ত্যাগের মাধ্যমে ডায়াবেটিস মোকাবেলার এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

লেখক : হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার, পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা, ০১৭২১৮৬৮৬০৬

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×