রোজায় সুস্থ থাকতে যা জানবেন

  অধ্যাপক ডা. তৌফিকুর রহমান ফারুক ০৯ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হৃদরোগীরা কি রমজান মাসে রোজা রাখতে পারে?

হ্যাঁ হৃদরোগীরা রমজান মাসে রোজা রাখতে পারে, তবে ওষুধের মাত্রা কিছুটা পরিবর্তন করা লাগতে পারে।

রোজায় শরীরে স্বাভাবিক কী কী পরিবর্তন হয়?

রোজায় যেহেতু শরীরে সঞ্চিত চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপাদন হয়, তাই শরীরের বাহুল্য চর্বি কমে যায়, ফলে রোগীর দুর্বলতা কমে, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ হয়, ওষুধের মাত্রা কম লাগে।

রোজায় কি সমস্যা হতে পারে?

রোজায় বুক জ্বালাপোড়া, বুকব্যথা, পানি শূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস রোগীর রক্ত সুগার কমে যাওয়া, উচ্চরক্তচাপ, রোগীর রক্তচাপ কমে যাওয়াসহ অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রোজায় বুকব্যথা বা জ্বালাপোড়া করলে করণীয়

রোজায় কখনও কখনও হঠাৎ করে বুক জ্বালাপোড়া, বুকব্যথা হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খেলে অথবা ভাজা খাবার বেশি খেলে এসিডিটি বাড়ে, বুকজ্বালা বা বুকব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অ্যান্টাসিড বা ওমিপ্রাজল গ্রুপের ওষুধ খেলে তা ভালো হয়ে যায়। কিন্তু বুকব্যথা তীব্র হলে ও ওমিপ্রাজল ওষুধে না কমলে, প্রচুর ঘাম হলে বা বমি হলে অতিসত্বর হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে হবে অথবা যে কোনো কার্ডিয়াক হাসপাতালে ইমার্জেন্সি বিভাগে যোগাযোগ করে ইসিজি বা অন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সাপেক্ষে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে।

রোজায় কি ওজন বেড়ে যেতে পারে?

হ্যাঁ, রোজায় ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি কেউ সাহরি ও ইফতারে অধিক পরিমাণে ও ক্যালরিযুক্ত খাবার বেশি খায়। অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগের একটি অন্যতম কারণ। তাই অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাদ্য, মিষ্টি কোমল পানীয় পরিহার করে অধিক পরিমাণে শাকসবজি, ফলের রস খেতে হবে।

রোজায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয়

রোজায় যেহেতু পানি ও তরল খাবার কম খাওয়া হয় বা খাবারের সুযোগ কম, গ্রীষ্মকালে রোজা হলে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। হৃদরোগীর ক্ষেত্রে অনেক ওষুধ খেতে হয় বলে কোনো কোনো ওষুধের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। প্রচুর পরিমাণ পানি ও তরল খাবার এবং আঁশযুক্ত খাবার যেমন- শাকসবজি, ইসুবগুলের ভুসি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানো সম্ভব।

রোজায় যকৃৎ বা লিভারের কি কি উপকার হয়?

রোজায় যেহেতু উপবাস থাকতে হয় তাই লিভারে সঞ্চিত চর্বি ও গ্লুকোজ ভেঙে শরীরে শক্তি জোগানোর জন্য যকৃৎ অতিরিক্ত চর্বিমুক্ত হয়, ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

রোজাবস্থায় হৃদরোগীর শ্বাসকষ্ট বাড়লে অক্সিজেন, ইনহেলার ব্যবহারে কোনো ক্ষতি আছে কি?

রোজাবস্থায় হৃদরোগীদের শ্বাসকষ্ট বাড়লে প্রয়োজনে অক্সিজেন ও ইনহেলার লাগাতে পারে। সেক্ষেত্রে রোজায় কোনো ক্ষতি হবে না। ইনহেলারের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করে এমন ইনহেলার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়।

রোজাবস্থায় হৃদরোগীদের বুকে ব্যথা হলে স্প্রে ব্যবহারে করণীয়

রোজাবস্থায় হৃদরোগীদের বুকেব্যথা হলে এবং প্রয়োজনে নাইট্রেট জাতীয় স্প্রে ব্যবহারের প্রয়োজন হলে তা নেয়া যেতে পারে, এতে রোজার কোনো ক্ষতি হওয়ার অবকাশ নেই।

রোজাবস্থায় হৃদরোগীদের ডায়াবেটিস থাকলে ইনসুলিন নেয়ার নিয়ম

ডায়াবেটিক রোগী ইনসুলিন নির্ভর হলে সাহরির আগে ও প্রয়োজনে ইফতারের আগে ইনসুলিন নিতে পারে।

রোজা অবস্থায় হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য ইকো, ইটিটি, ইসিজি পরীক্ষা করা যায় কি?

রোজা অবস্থায় হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য ইসিজি, ইকো করতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ইটিটি যেহেতু শ্রমসাধ্য ও প্রচুর ঘাম হতে পারে তাই রোজা রাখা অবস্থায় হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য ইসিজি, ইকো করতে কোনো অসুবিধা নেই। সেক্ষেত্রে রোজা ভাঙার পর সন্ধ্যার পরে ইটিটি করা যেতে পারে।

রোজা অবস্থায় রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা করালে রোজা নষ্ট হয় কি?

না, সেক্ষেত্রে রোজা নষ্ট হওয়ার কোনো আশংকা নেই, এমনকি রক্তদান করলেও রোজা ভঙ্গ হবে না।

রোজা অবস্থায় হৃদরোগীরা দুপুরের ইকোস্প্রিন বা ক্লপিডগ্রেল ওষুধ কখন খাবেন?

দুপুরের ইকোস্প্রিন বা ক্লপিডগ্রেল ওষুধ ইফতারের পর বা রাতে খাবারের পর খাওয়া যেতে পারে।

রোজার অবস্থায় হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম বা এনজিওপ্ল্যাস্টি অথবা কার্ডিয়াক ব্যথা সারাতে কোনো অসুবিধা আছে কি?

রোজা অবস্থায় হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি বা কার্ডিয়াক ক্যাথেটার করাতে কোনো অসুবিধা নেই। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে দুর্বল হওয়ার আশংকা থাকলে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা সন্ধ্যায় ইফতারের পর করা যেতে পারে।

লেখক : মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস, মালিবাগ, ঢাকা

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত