এ সময়ের ঈদে খাবারের প্রস্তুতি

  ছাঈদা লিয়াকত ১৬ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সারা বিশ্বের মুসলমান ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে থাকেন। কিন্তু এবারের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। বিশ্ব আজ কোভিড-১৯ মহামারীর ভয়াল থাবায় পর্যুদস্ত। আমাদের দেশেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের হার। কাজেই ঈদের খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে আমাদের যাতে ঘন ঘন বাজারমুখী হতে না হয় সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। একেবারে রান্নাবান্না ও খাওয়া-দাওয়া হবে না তা তো নয়, তবে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে ঈদে আমরা খাবার তৈরি করতে পারি। মিষ্টি জাতীয় খাবার সংক্রমণের হার বাড়িয়ে দেয়। তবে ঈদে আমরা এক দিনের জন্য মিষ্টি জাতীয় খাবারের ২-১টি আইটেম রাখতে পারি। সাদা চিনির পরিবর্তে লাল চিনি বা গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ ঈদে আমরা চাল ডাল মিশিয়ে খিচুড়ির সঙ্গে মুরগির একটি আইটেম করতে পারি অথবা রুটি, মুরগি সবজিও হতে পারে সকালের খাবার, সঙ্গে ফলের সালাদও থাকতে পারে যা ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। দুপুরে সাদা পোলাও সঙ্গে মাংসের একটি ডিশ সঙ্গে লেবু, সালাদ রাখা যেতে পারে। দুপুরের খাবারের পর এক কাপ টক দই হজমে সহায়তা করে। রাতের খাবারে রুটি অথবা ভাত সঙ্গে সবজি, মাছ উপযোগী একটি খাবার। এ সময়ে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে দুই চা চামচ ইসপগুল পানিতে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। রাতে বা দুপুরে ঈদের দিনের এ সময়টাতে সবজির একটি প্রিপারেশন রাখলে উপকার পাওয়া যাবে। আর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। যাদের ইউরিক এসিড বেশি কিডনির জটিলতা রয়েছে তারা মাছ মাংস পরিমিত পরিমাণে খাবেন। এছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছেন তারা খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিমিতবোধ রক্ষা করবেন। এ সময়ে যাতে অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণ করে অসুস্থ হয়ে যেতে না হয়। মাংসের বেকড রান্না অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত। অনেকে যদি কাবাব খেতে চান তবে কাবাবের সঙ্গে সবজি খাওয়ার চেষ্টা করবেন; নানরুটি পরটা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। যারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন তারা ওষুধের ব্যাপারটা ভুলে যাবেন না। একসঙ্গে বেশি খাবার বা তৈলাক্ত খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভালো কেননা এতে পেট ফাঁপে, জ্বালাপোড়া করে, ব্যথা করে, বারবার পায়খানা হয়। দইবড়া, চটপটি ছেলেমেয়েদের একটি পছন্দনীয় খাবার, তবে অতিরিক্ত মসলা ঝাল এড়িয়ে চলতে হবে। যাদের বয়স কম কোনো সমস্যা নেই তারা সব খাবারই খেতে পারবেন, তবে পরিমাণের দিকটা খেয়াল করতে হবে। তবে একমাসের অনভ্যাসের কারণে হঠাৎ খুব বেশি ঝাল বা তৈলাক্ত ভাজাপোড়া খেলে অসুস্থবোধ করতে পারেন। এ সময়ে সব ধরনের খাবারই ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। সারাদিন খাবারের মাঝে ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ইসপগুলের শরবত পান করতে পারেন। দই, বোরহানিও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। মোট কথা সাধ্যের মধ্যে থেকে যে যার চাহিদা অনুযায়ী কোভিড-১৯ মহামারীর সময় ঘরে বসেই ঈদ উদযাপনে সচেষ্ট হবেন।

লেখক : পুষ্টিবিদ, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত