কিডনি রোগ ও করোনাভাইরাস

  ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ৩০ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর ফুসফুসে প্রদাহ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন- কিডনি, হার্টের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে দেখা দিতে পারে কিডনি নষ্ট হওয়ার উপসর্গ যাদের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস পর্যন্ত দরকার হতে পারে। কিডনি নষ্ট হওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখযোগ্য-

কিডনি টিস্যুর ওপর সরাসরি ভাইরাসটির প্রভাব, কিডনিতে অক্সিজেনের সাপ্লাই কমে গেলে (Hypoxia), বডির ইমুন সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেললে অথবা কোভিড-১৯ এর কারণে রক্তনালিতে অস্বাভাবিকভাবে রক্ত জমাট বাঁধলে।

উচ্চরক্তচাপ কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম হ্রাসের একটি অন্যতম কারণ যা পরবর্তীতে কিডনিকে অকার্যকর করে। উচ্চরক্তচাপের রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হলে কী ওষুধ সেবন করবেন তা নিয়ে আছে বিভিন্ন যুক্তি। করোনায় আক্রান্ত রোগী যারা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই ACE inhibitors, Angiotensin Receptor Blockers (ARBS) গ্রুপের ওষুধ নিয়মিত সেবন করছেন তাদের ক্ষেত্রে দু’ধরনের মতামত আছে। কারও মতে, এ ওষুধ সেবনে করোনা ইনফেকশনের প্রভাব আরও তীব্রতর হতে পারে এবং অন্যরা বলছেন বরং এ গ্রুপের ওষুধ সেবনে করোনার প্রভাবে ফুসফুসের প্রদাহ কিংবা নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া প্রতিহত হয়। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতামত হল, উচ্চরক্তচাপের রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হলে তারা পূর্ব নির্ধারিত ওষুধই সেবন করবেন কিন্তু ব্যথার ওষুধ NSAIDS যেমন নেপরোক্সেন, ইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলবেন কারণ এ ধরনের ব্যথার ওষুধ কিডনির কার্যকারিতা আরও নষ্ট করতে পারে।

যেসব রোগী ইউরোলজিক্যাল কারণে প্রস্রাবের নানাবিধ সমস্যা, কিডনির জায়গায় ব্যথা, কিডনি বা কিডনির নালি বা প্রস্রাবের রাস্তায় পাথর বা অন্য কোনো সমস্যার জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ডাক্তারের কাছে যেতে পারছেন না তারা আগের দেয়া স্বাস্থ্য বাতায়ন মেনে চলবেন। প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে টেলি হেলথ পরামর্শ নিতে পারেন। জরুরি প্রয়োজন যেমন প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

টিউমারের রোগী অথবা অপারেশন পরবর্তী নিয়মিত ফলোআপের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ইউরোলজিস্টের সঙ্গে অথবা ইউরোলজি বিভাগ আছে এমন হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। কিডনি সংক্রান্ত ব্যথার জন্য কোনো ধরনের ওষুধ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।

যারা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছেন অতি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে যাবেন না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। ডায়েবেটিস, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। খাবারের তালিকা মেনে চলুন, ফলমূল পরিহার করুন, আমিষ জাতীয় খাবার কম খাবেন। দৈনিক ১.২-১.৫ লিটার পানি পান করুন। যারা সপ্তাহে তিনটি ডায়ালাইসিস পান উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নেফরোলজিস্টের পরামর্শে কমিয়ে এনে দুটি করা যেতে পারে, পানি কম খেতে হবে এবং যাদের এখন পর্যন্ত কিছু প্রস্রাব হয় রক্ত চাপ ঠিক থাকলে তাদের ক্ষেত্রে ডায়ুরেটিকস প্রয়োগ করা যেতে পারে।

যেসব রোগীর জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা করোনার রোগীর সংস্পর্শে আসার ইতিহাস রয়েছে প্রথমে তাদের ফিভার ক্লিনিকে যোগাযোগ করতে হবে। কোভিড-১৯ পরীক্ষা পজিটিভ হলে চিকিৎসার জন্য কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে যোগাযোগ করবেন। পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলে রিপোর্টসহকারে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পূর্বনির্ধারিত তারিখ নিশ্চিত করে ডায়ালাইসিস সেন্টারে যাবেন।

লেখক : কনসালটেন্ট ইউরোলজিস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, পপুলার ডায়াগনস্টিক, শান্তিনগর

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত