স্বাস্থ্য কণিকা

  ডা. মো. ফারুক হোসেন ০৪ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অতিরিক্ত চা-কফি ক্ষতিকর

করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য এখন সবাই কম-বেশি গরম গরম চা এবং কফি পান করছেন। অনেক সময় অতিরিক্ত গরম চা এবং কফি পান করার কারণে জিহ্বা এবং গালের অভ্যন্তরে অথবা গলায় আলসার বা ঘায়ের সৃষ্টি হয়ে থাকে। অতএব সহনীয় মাত্রায় গরম চা এবং কফি পান করতে হবে। কফি এবং চা বার বার পান করার কারণে আপনার ব্লাড সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ এতে ক্যাফেইন রয়েছে। ক্যাফেইন ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমিয়ে দিতে পারে। ক্যাফেইন গ্লুকোজ কনসানট্রেশন বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত চা এবং কফি পান করলে বার বার ওয়াশ রুমে যেতে হবে, যা অত্যন্ত বিড়ম্বনাকর। আবার অনেকের কনস্টিপেশন দেখা দিতে পারে। অনেকে আবার অনলাইনে বিভিন্ন ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার অর্ডার করে থাকেন। যেসব খাবারে ফ্যাট রয়েছে তা ব্লাড সুগারকে লম্বা সময় ধরে বৃদ্ধি করে রাখে। ডিহাইড্রেশন আপনার ব্লাড সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণকালীন সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে আপনি নিরাপদ থাকবেন। করোনাভাইরাসের কারণে কোনো ধরনের মানসিক চাপে থাকবেন না। মানসিক চাপ বা স্ট্রেস রক্তে সুগারের পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে। অল্প বয়সীদের মাঝে যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে সাত গুণ বেশি আশংকা রয়েছে কিডনি রোগ হওয়ার। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে আপনার রক্তের সুগার বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই মুখের আলসারের চিকিৎসায় স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ডায়েট সোডা পান করলে মারাত্মক ধরনের ডায়াবেটিক চক্ষু রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ডায়াবেটিস রোগী অন্ধ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। ৪০ বছর বয়সের আগে যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তাদের দ্বিগুণ আশংকা থাকে মানসিক অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার। ঠাণ্ডার ওষুধে প্রায়ই সিউডোএফিড্রিন থাকে। এ ওষুধে সুগার বা এলকোহল থাকতে পারে। উপাদানগুলো সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে। বিষণ্নতানাশক ওষুধ সুগারের মাত্রা বাড়াতে বা কমাতে পারে। তাই এ ধরনের ওষুধ সেবনের সময় ব্লাড সুগার মনিটর করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণকালীন সময়ে অতিরিক্ত চা এবং কফি পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের কোমল পানীয় গ্রহণ করবেন না।

ডিম কেন খাবেন

ভাবছেন, ডিম খাবেন কিনা? সকালের নাশতায় পরোটা ভাজা, ডিমের সানি সাইড আপ অথবা ডিম পাউরুটির স্যান্ডউইচের সঙ্গে কফি হলে মন্দ হয় না। অন্য খাবারের চেয়ে ডিমে পুষ্টি উপাদান হিসেবে ভিটামিন, মিনারেলস এবং এমাইনো এসিড তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। করোনা রোগপ্রতিরোধে ভিটামিন ডি ক্যাপসুল না কিনে সেই টাকায় ডিম খেলে বরং আরও উন্নত ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে। ডিম খেলে এইচডিএল কোলেস্টেরল বা ভালো কোলেস্টেরল যেমন বৃদ্ধি পায় একইভাবে ডিম খাওয়ার কারণে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কোলেস্টেরলও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। ডিম খাওয়ার কারণে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় না। ডিম খাওয়ার কারণে শতকরা ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে টোটাল কোলেস্টেরল বা এলডিএল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায় না। ডিম স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। যারা দিনে অন্তত একটি ডিম খায় তাদের হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণজনিত ব্রেন স্ট্রোক থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ৩০ ভাগ কম থাকে। ডিমে রয়েছে ভিটামিন ডি, যা আপনার ব্রেনের গ্রে ম্যাটারের জন্য উপকারী। এ ছাড়া এটি আপনার সন্তানের নিউরনকে সজীব রাখে। করোনার এ জটিল পরিস্থিতিতে আপনার সন্তানকে একটি করে ডিম খেতে দিন। ভিটামিন ডি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খেয়াল রাখতে হবে- ডিম খেতে হবে রয়ে সয়ে। কিডনি এবং হার্টের রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শানুযায়ী ডিম খেতে হবে। ডিম খাওয়া অসুস্থ রোগীদের একেবারেই নিষেধ নয়। করোনা মহামারীর জন্য জিঙ্ক এবং ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার জন্য যারা উঠে পড়ে লেগেছেন তারা শুধু ডিম খান। কারণ ডিমে জিঙ্ক এবং ভিটামিন ডি- দুটি উপাদানই রয়েছে। করোনাভাইরাস চলাকালীন ডিমের পাশাপাশি আপনার শিশুকে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন। স্বাস্থ্যবান মানুষ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম রাখতে ভুল করবেন না। কারণ ডিম আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণকালীন ডিমের সানি সাইড আপ না খাওয়াই ভালো। কারণ এ ভাইরাস চলাকালীন ডিম ভালোভাবে রান্না করে খেতে হবে। মুখের কিছু কিছু আলসার এবং রোগে নিয়মিত ডিম খেলেই আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। ওষুধ খেতে হবে না। তাই মুখের আলসার বা মুখের রোগে সব সময় ওষুধ ব্যবহার করবেন না। যারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন মুখের রোগে ভুগছেন তাদের লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করতে হবে এবং খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

[email protected]

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত