হাত পা ফোলা রোগ
jugantor
লিম্ফ ইডিমা
হাত পা ফোলা রোগ

  ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার  

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোকেয়াকে যখন তার ডান পা দেখাতে বলা হল, সে বেশ ইতস্তত করছিল। শাড়ি পরে এসেছে সে। পা দেখানো খুব কঠিন নয়। পায়ের চিকিৎসার জন্য এসেছে, লজ্জা করলে চলবে না। সঙ্গের নার্স তাকে বুঝাল। অনেকক্ষণ পর শাড়ির নিচ থেকে পা বের হলে বুঝা গেল কেন এতক্ষণ সে ওটা দেখাতে চাইছিল না।

অস্বাভাবিক রকমের ফোলা শুধু নয়, হাঁটুর ওপর থেকে মোটা চামড়া ভাঁজ হয়ে ঝুলে পড়েছে। পা-টা দেখে আমার প্রথমেই মনে হল এই পা নিয়ে হাঁটাচলা করে কী করে মেয়েটা! ঘর সংসারই বা করছে কীভাবে। আমরা ডুপ্লেক্স পরীক্ষার মাধ্যমে রোকেয়ার রক্তনালি পরীক্ষা করলাম। সেখানে সমস্যা নেই। রোকেয়া লিম্ফ ইডিমা নামের এক জটিল সমস্যায় ভুগছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করলাম। কিন্তু চিকিৎসা?

ডিভিটি নামক রোগে রক্ত হাত বা পা থেকে হৃৎপিণ্ডে ফিরে যাওয়ার পথ অর্থাৎ শিরায় ব্লক হলে হাত বা পা ফুলে যেতে পারে। ফোলা এক দিকে হলে ডিভিটিকে সবার আগে বিবেচনায় নেয়া হয়। তবে ডিভিটিই পা ফোলার একমাত্র কারণ নয়। হাত পা ফোলার গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে একটা হল লিম্ফ ইডিমা।

লিম্ফ ইডিমা কী

‘লিম্ফ’ (Lymph) বা লসিকা হল এক ধরনের রস বা জলীয় পদার্থ যা রক্তনালির বাইরে শরীরের টিস্যুর মধ্যে অবস্থান করে। এ রস পরিবহনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা বা সংবহনতন্ত্র আছে যাকে বলা হয় লসিকাতন্ত্র। এ রসও রক্তের মতো শেষ পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে যায়। লসিকাতন্ত্র ধমনি ও শিরাতন্ত্রের পাশাপাশি অবস্থান করে ও শিরার মতোই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হৃৎপিণ্ডের দিকে লসিকাকে পরিবহন করে নিয়ে যায়।

লসিকা পরিবহনতন্ত্রের পথগুলোকে বলা হয় লসিকানালি বা লিম্ফেটিক (Lymphatic)। এরা খুবই সূক্ষ্ম ও সাদা রঙের হওয়াতে শিরা ও ধমনির মতো সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না। লসিকাতন্ত্রের পথে নির্দিষ্ট স্থানে লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফ নোড (Lymph Node) থাকে।

এরা অনেকটা স্টেশনের মতো। লসিকানালি লসিকাগ্রন্থিতে গিয়ে শেষ হয় ও আবার সেখান থেকেই নতুন লসিকানালি শুরু হয়ে পরবর্তী অংশে পৌঁছায়। লসিকা বা লিম্ফ শরীরের টিস্যুর মধ্যে সব সময় তৈরি হয় ও পরিবাহিত হয়ে হৃৎপিণ্ডে গিয়ে পৌঁছায়। কোনো কারণে যদি এমন হয় যে লসিকা তৈরি হচ্ছে কিন্তু পরিবহনতন্ত্রের সমস্যার কারণে পরিবাহিত হতে পারছে না। তাহলে শরীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে পায়ে বা হাতে তা জমা হতে থাকবে। আর এর অবশ্যম্ভাবী ফল হল রসের কারণে

হাত পা ফুলে যাওয়া। লসিকা জমা হয়ে পা বা হাত ফোলার ঘটনাকে ‘লিম্ফ ইডিমা’ বলা হয়।

কেন হয়

লসিকা সংবহনতন্ত্রের সমস্যাই মূলত লিম্ফ ইডিমার জন্য দায়ী। লসিকানালি বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন-

* ইনফেকশন বা জীবাণু সংক্রমণ

* রেডিয়েশন

* অপারেশন

আমাদের দেশে লিম্ফ ইডিমার সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত ‘ফাইলারিয়া’ (Filaria) বা ‘গোদ রোগ’। কৃমিজাতীয় এক ধরনের জীবাণু দিয়ে এ রোগ হয় যা মূলত পায়ের লসিকা পরিবহনতন্ত্রকে নষ্ট করে। ফলে পা নিচের দিক থেকে ফুলতে শুরু করে। অনেক সময় এ ফোলা মারাত্মক আকার ধারণ করে। মারাত্মকভাবে ফুলে বিকৃত আকার ধারণ করার কারণে এ রোগকে ইংরেজিতে Elephantiasis নামে অভিহিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু হাত পা নয়, অনেক সময় তলপেট বা জননেন্দ্রীয়ও আক্রান্ত হয়।

ক্যান্সার রোগীদের যারা রেডিয়েশন চিকিৎসা নেন, তাদের ক্ষেত্রেও লসিকাতন্ত্র নষ্ট হয়ে লিম্ফ ইডিমার ঘটনা ঘটে। অপারেশনের পরও এটা দেখা যায়। বিশেষ করে মেয়েদের স্তন অপারেশনের পর বাহুর ওপরের দিকের লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি নষ্ট হয়ে হাত ফুলে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে হাত বা পায়ের ফোলা সাধারণত গোদ রোগের মতো মারাত্মক হয় না।

ডিভিটি নাকি লিম্ফ ইডিমা

পা বা হাত ফোলা ডিভিটি নাকি লিম্ফ ইডিমার কারণে তা বোঝার অনেক উপায় আছে, যদিও তা শুধু একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব। রোগীকে শারীরিকভাবে পরীক্ষা করে ও কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষার সাহায্য নিয়ে সহজেই ফোলার কারণ নির্ণয় সম্ভব। রোগী নিজেও কিছু ধারণা নিতে পারেন। লিম্ফ ইডিমার ফোলা চাপ দিলে দেবে বা বসে যায় না। রক্তনালির ডুপ্লেক্স পরীক্ষায় ডিভিটির অনুপস্থিতি একটা পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

লিম্ফ্যানজিওগ্রাম ও লিম্ফসিনটিগ্রাম

ধমনি বা শিরা ব্লক হলে অ্যানজিওগ্রাম করে ব্লকের অবস্থান ও তীব্রতা নির্ণয় করা হয়। লসিকানালিতে বাঁধা অনুমান করলে তা নির্ণয়ের জন্য লিম্ফ্যানজিওগ্রাম বা লিম্ফসিনটিগ্রামের সাহায্য নেয়া যায়। এ পরীক্ষাটি বাংলাদেশে এখনও সহজলভ্য নয়।

চিকিৎসা

ধমনি বা শিরার ব্লকের মতো লিম্ফ ইডিমার চিকিৎসা ততটা সন্তোষজনক নয়। বিশেষ ধরনের মোজা ব্যবহার করা যায় যা পায়ের ভারী ভাবটাকে কিছুটা কমিয়ে রাখে ও লসিকাকে ওপরের দিকে পরিবহনে সাহায্য করে। এক বিশেষ ধরনের মাসাজেও কিছু উপকার পাওয়া যায়। লিম্ফ ইডিমা যদি ফাইলারিয়ার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে ফাইলারিয়া রোগের চিকিৎসায় উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া এ রোগের জন্য আলাদা করে বিশেষ কোনো ওষুধ নেই, খুব কার্যকর কোনো অপারেশনও নেই। আক্রান্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অত্যাধিক ফুলে বিশাল আকার ধারণ করলে ওজন কমানোর জন্য অনেক সময় অপারেশনের মাধ্যমে বাড়তি টিস্যু কেটে বাদ দেয়া হয়। এতে চলাফেরায় কিছু সুবিধা হয়। লসিকানালিকে শিরার সঙ্গে সংযুক্ত করার একটা অপারেশন আছে বটে, তবে ফলাফল খুব আশাপ্রদ নয়। লিম্ফ ইডিমার রোগীদের তাই ধৈর্যসহকারে কিছু নিয়মকানুন মেনে এসব অপ্রতুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, শ্যামলী, ঢাকা

লিম্ফ ইডিমা

হাত পা ফোলা রোগ

 ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোকেয়াকে যখন তার ডান পা দেখাতে বলা হল, সে বেশ ইতস্তত করছিল। শাড়ি পরে এসেছে সে। পা দেখানো খুব কঠিন নয়। পায়ের চিকিৎসার জন্য এসেছে, লজ্জা করলে চলবে না। সঙ্গের নার্স তাকে বুঝাল। অনেকক্ষণ পর শাড়ির নিচ থেকে পা বের হলে বুঝা গেল কেন এতক্ষণ সে ওটা দেখাতে চাইছিল না।

অস্বাভাবিক রকমের ফোলা শুধু নয়, হাঁটুর ওপর থেকে মোটা চামড়া ভাঁজ হয়ে ঝুলে পড়েছে। পা-টা দেখে আমার প্রথমেই মনে হল এই পা নিয়ে হাঁটাচলা করে কী করে মেয়েটা! ঘর সংসারই বা করছে কীভাবে। আমরা ডুপ্লেক্স পরীক্ষার মাধ্যমে রোকেয়ার রক্তনালি পরীক্ষা করলাম। সেখানে সমস্যা নেই। রোকেয়া লিম্ফ ইডিমা নামের এক জটিল সমস্যায় ভুগছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করলাম। কিন্তু চিকিৎসা?

ডিভিটি নামক রোগে রক্ত হাত বা পা থেকে হৃৎপিণ্ডে ফিরে যাওয়ার পথ অর্থাৎ শিরায় ব্লক হলে হাত বা পা ফুলে যেতে পারে। ফোলা এক দিকে হলে ডিভিটিকে সবার আগে বিবেচনায় নেয়া হয়। তবে ডিভিটিই পা ফোলার একমাত্র কারণ নয়। হাত পা ফোলার গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে একটা হল লিম্ফ ইডিমা।

লিম্ফ ইডিমা কী

‘লিম্ফ’ (Lymph) বা লসিকা হল এক ধরনের রস বা জলীয় পদার্থ যা রক্তনালির বাইরে শরীরের টিস্যুর মধ্যে অবস্থান করে। এ রস পরিবহনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা বা সংবহনতন্ত্র আছে যাকে বলা হয় লসিকাতন্ত্র। এ রসও রক্তের মতো শেষ পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে যায়। লসিকাতন্ত্র ধমনি ও শিরাতন্ত্রের পাশাপাশি অবস্থান করে ও শিরার মতোই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হৃৎপিণ্ডের দিকে লসিকাকে পরিবহন করে নিয়ে যায়।

লসিকা পরিবহনতন্ত্রের পথগুলোকে বলা হয় লসিকানালি বা লিম্ফেটিক (Lymphatic)। এরা খুবই সূক্ষ্ম ও সাদা রঙের হওয়াতে শিরা ও ধমনির মতো সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না। লসিকাতন্ত্রের পথে নির্দিষ্ট স্থানে লসিকাগ্রন্থি বা লিম্ফ নোড (Lymph Node) থাকে।

এরা অনেকটা স্টেশনের মতো। লসিকানালি লসিকাগ্রন্থিতে গিয়ে শেষ হয় ও আবার সেখান থেকেই নতুন লসিকানালি শুরু হয়ে পরবর্তী অংশে পৌঁছায়। লসিকা বা লিম্ফ শরীরের টিস্যুর মধ্যে সব সময় তৈরি হয় ও পরিবাহিত হয়ে হৃৎপিণ্ডে গিয়ে পৌঁছায়। কোনো কারণে যদি এমন হয় যে লসিকা তৈরি হচ্ছে কিন্তু পরিবহনতন্ত্রের সমস্যার কারণে পরিবাহিত হতে পারছে না। তাহলে শরীরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে পায়ে বা হাতে তা জমা হতে থাকবে। আর এর অবশ্যম্ভাবী ফল হল রসের কারণে

হাত পা ফুলে যাওয়া। লসিকা জমা হয়ে পা বা হাত ফোলার ঘটনাকে ‘লিম্ফ ইডিমা’ বলা হয়।

কেন হয়

লসিকা সংবহনতন্ত্রের সমস্যাই মূলত লিম্ফ ইডিমার জন্য দায়ী। লসিকানালি বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন-

* ইনফেকশন বা জীবাণু সংক্রমণ

* রেডিয়েশন

* অপারেশন

আমাদের দেশে লিম্ফ ইডিমার সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত ‘ফাইলারিয়া’ (Filaria) বা ‘গোদ রোগ’। কৃমিজাতীয় এক ধরনের জীবাণু দিয়ে এ রোগ হয় যা মূলত পায়ের লসিকা পরিবহনতন্ত্রকে নষ্ট করে। ফলে পা নিচের দিক থেকে ফুলতে শুরু করে। অনেক সময় এ ফোলা মারাত্মক আকার ধারণ করে। মারাত্মকভাবে ফুলে বিকৃত আকার ধারণ করার কারণে এ রোগকে ইংরেজিতে Elephantiasis নামে অভিহিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু হাত পা নয়, অনেক সময় তলপেট বা জননেন্দ্রীয়ও আক্রান্ত হয়।

ক্যান্সার রোগীদের যারা রেডিয়েশন চিকিৎসা নেন, তাদের ক্ষেত্রেও লসিকাতন্ত্র নষ্ট হয়ে লিম্ফ ইডিমার ঘটনা ঘটে। অপারেশনের পরও এটা দেখা যায়। বিশেষ করে মেয়েদের স্তন অপারেশনের পর বাহুর ওপরের দিকের লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি নষ্ট হয়ে হাত ফুলে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে হাত বা পায়ের ফোলা সাধারণত গোদ রোগের মতো মারাত্মক হয় না।

ডিভিটি নাকি লিম্ফ ইডিমা

পা বা হাত ফোলা ডিভিটি নাকি লিম্ফ ইডিমার কারণে তা বোঝার অনেক উপায় আছে, যদিও তা শুধু একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব। রোগীকে শারীরিকভাবে পরীক্ষা করে ও কিছু পরীক্ষা-নীরিক্ষার সাহায্য নিয়ে সহজেই ফোলার কারণ নির্ণয় সম্ভব। রোগী নিজেও কিছু ধারণা নিতে পারেন। লিম্ফ ইডিমার ফোলা চাপ দিলে দেবে বা বসে যায় না। রক্তনালির ডুপ্লেক্স পরীক্ষায় ডিভিটির অনুপস্থিতি একটা পরোক্ষ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

লিম্ফ্যানজিওগ্রাম ও লিম্ফসিনটিগ্রাম

ধমনি বা শিরা ব্লক হলে অ্যানজিওগ্রাম করে ব্লকের অবস্থান ও তীব্রতা নির্ণয় করা হয়। লসিকানালিতে বাঁধা অনুমান করলে তা নির্ণয়ের জন্য লিম্ফ্যানজিওগ্রাম বা লিম্ফসিনটিগ্রামের সাহায্য নেয়া যায়। এ পরীক্ষাটি বাংলাদেশে এখনও সহজলভ্য নয়।

চিকিৎসা

ধমনি বা শিরার ব্লকের মতো লিম্ফ ইডিমার চিকিৎসা ততটা সন্তোষজনক নয়। বিশেষ ধরনের মোজা ব্যবহার করা যায় যা পায়ের ভারী ভাবটাকে কিছুটা কমিয়ে রাখে ও লসিকাকে ওপরের দিকে পরিবহনে সাহায্য করে। এক বিশেষ ধরনের মাসাজেও কিছু উপকার পাওয়া যায়। লিম্ফ ইডিমা যদি ফাইলারিয়ার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে ফাইলারিয়া রোগের চিকিৎসায় উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া এ রোগের জন্য আলাদা করে বিশেষ কোনো ওষুধ নেই, খুব কার্যকর কোনো অপারেশনও নেই। আক্রান্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অত্যাধিক ফুলে বিশাল আকার ধারণ করলে ওজন কমানোর জন্য অনেক সময় অপারেশনের মাধ্যমে বাড়তি টিস্যু কেটে বাদ দেয়া হয়। এতে চলাফেরায় কিছু সুবিধা হয়। লসিকানালিকে শিরার সঙ্গে সংযুক্ত করার একটা অপারেশন আছে বটে, তবে ফলাফল খুব আশাপ্রদ নয়। লিম্ফ ইডিমার রোগীদের তাই ধৈর্যসহকারে কিছু নিয়মকানুন মেনে এসব অপ্রতুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, শ্যামলী, ঢাকা