কোলস্টেরল সম্পর্কে জানতে হবে
jugantor
কোলস্টেরল সম্পর্কে জানতে হবে

  ডা. মো. ফারুক হোসেন  

১৭ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোলস্টেরল একটি চর্বির মতো বা লিপিডের মতো বস্তু যা আমাদের শরীর ব্যবহার করে থাকে হরমোন, ভিটামিন ‘ডি’ এবং পাচক রস বা ডাইজেস্টিভ জুস উৎপাদন করার জন্য। এগুলো আমাদের খাবারে গ্রহণ করা ফ্যাট জাতীয় খাবার ভাঙতে সাহায্য করে।

এইচডিএল কোলস্টেরলকে ভালো কোলস্টেরল আর এলডিএল কোলস্টেরলকে খারাপ কোলস্টেরল বলা হয়। এ দুই ধরনের লাইপোপ্রোটিন শরীরের কোষ থেকে কোলস্টেরল বহন করে রক্তে পৌঁছে দেয়। স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আমাদের শরীরে সামান্য পরিমাণে কোলস্টেরল প্রয়োজন হয়; যখন কোলস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় তখন রক্তনালিতে ফ্যাট জমা হতে পারে যা রক্তনালিকে সংকীর্ণ করে থাকে।

লিপিড দ্বারা রক্তনালির এ সংকোচনের কারণে হার্টঅ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, স্ট্রোক এবং ভাসকুলার ডিজিজ হতে পারে। ট্রাইগ্লিসারাইড হল শরীরের ফ্যাটে পাওয়া উপাদান এবং যে খাবার খাওয়া হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত ফ্যাট।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে খাবার খেয়েছি ট্রাইগ্লিসারাইড তা দেখিয়ে দেয় আর কোলস্টেরল দেখায় আমরা লম্বা সময় ধরে কী ধরনের খাবার খেয়েছি। যখন আমরা চর্বি জাতীয় খাবার খাই, তখন এটি ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে শোষিত হয়। ফ্যাটি খাবার খাওয়ার কিছুদিন পর আমাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি থাকবে। তারপর লিভার এ ট্রাইগ্লিসারাইডকে ফ্যাট হিসেবে অ্যাডিপোজ টিস্যুতে জমা রাখে এবং কিছু অংশকে কোলস্টেরলে রূপান্তরিত করে।

এর ফলে ফ্যাটি খাবার কিছুদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্চ কোলস্টেরল থাকতে পারে। কোলস্টেরলের মতো আপনার কিছু ট্রাইগ্লিসারাইডও প্রয়োজন শরীর সুস্থ রাখার জন্য; কিন্তু বেশি পরিমাণে থাকলে তা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। এইচডিএল এবং এলডিএল কোলস্টেরল মিলে আমাদের টোটাল কোলস্টেরল তৈরি করে। ভালো কোলস্টেরল রক্তনালিকে সংকীর্ণ হতে বাধা প্রদান করে এবং শরীরকে রক্ষা করে।

এলডিএল বা খারাপ কোলস্টেরল রক্তনালিকে সংকুচিত করে থাকে। এছাড়া তৃতীয় ধরনের একটি কোলস্টেরল আছে যা VLDL কোলস্টেরল নামে পরিচিত। VLDL বলতে বোঝায় ভেরি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন। ভিএলডিএল আরেকটি খারাপ কোলস্টেরল যা আমাদের লিভারে তৈরি হয়। এ ধরনের কোলস্টেরলে বেশি পরিমাণে ট্রাইগ্লিসারাইড বিদ্যমান থাকে। কোলস্টেরল কমানোর ওষুধকে স্ট্যাটিন বলা হয়। স্ট্যাটিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম। স্ট্যাটিন ব্যবহৃত হয় এলডিএল কোলস্টেরল কমানোর জন্য। স্ট্যাটিন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয় এবং হার্টের রোগীদের সাহায্য করে যেন করোনারি স্টেন্ট ব্যবহার করা না লাগে। স্বল্পমাত্রায় হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে স্ট্যাটিন এ ধরনের সহায়তা করতে পারে।

স্ট্যাটিন টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সামান্য বাড়াতে পারে। সার্বিকভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের মাঝে যারা স্ট্যাটিন গ্রহণ করেছেন তাদের সামান্য পরিমাণে রক্তের সুগার বৃদ্ধি পেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ খেতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম্বিনেশন হিসেবে ওষুধ দুটি খাওয়ার কারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার ঠিক করে দেবেন আপনার জন্য কোনো ওষুধটি প্রযোজ্য। ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে ফেনোফিব্রেট গ্রুপের ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখে। ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে তাই এটিকে অবহেলা করা যাবে না। ফাস্টফুড এবং ফ্যাটি খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফ্যাটি খাবার শুধু কোলস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে না বরং ফ্যাটি লিভার তৈরিতে সাহায্য করে থাকে। এ ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস হতে পারে। সুস্থ থাকতে হলে পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

[email protected]

কোলস্টেরল সম্পর্কে জানতে হবে

 ডা. মো. ফারুক হোসেন 
১৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোলস্টেরল একটি চর্বির মতো বা লিপিডের মতো বস্তু যা আমাদের শরীর ব্যবহার করে থাকে হরমোন, ভিটামিন ‘ডি’ এবং পাচক রস বা ডাইজেস্টিভ জুস উৎপাদন করার জন্য। এগুলো আমাদের খাবারে গ্রহণ করা ফ্যাট জাতীয় খাবার ভাঙতে সাহায্য করে।

এইচডিএল কোলস্টেরলকে ভালো কোলস্টেরল আর এলডিএল কোলস্টেরলকে খারাপ কোলস্টেরল বলা হয়। এ দুই ধরনের লাইপোপ্রোটিন শরীরের কোষ থেকে কোলস্টেরল বহন করে রক্তে পৌঁছে দেয়। স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আমাদের শরীরে সামান্য পরিমাণে কোলস্টেরল প্রয়োজন হয়; যখন কোলস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে যায় তখন রক্তনালিতে ফ্যাট জমা হতে পারে যা রক্তনালিকে সংকীর্ণ করে থাকে।

লিপিড দ্বারা রক্তনালির এ সংকোচনের কারণে হার্টঅ্যাটাক, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, স্ট্রোক এবং ভাসকুলার ডিজিজ হতে পারে। ট্রাইগ্লিসারাইড হল শরীরের ফ্যাটে পাওয়া উপাদান এবং যে খাবার খাওয়া হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত ফ্যাট।

সাম্প্রতিক সময়ে আমরা যে খাবার খেয়েছি ট্রাইগ্লিসারাইড তা দেখিয়ে দেয় আর কোলস্টেরল দেখায় আমরা লম্বা সময় ধরে কী ধরনের খাবার খেয়েছি। যখন আমরা চর্বি জাতীয় খাবার খাই, তখন এটি ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে শোষিত হয়। ফ্যাটি খাবার খাওয়ার কিছুদিন পর আমাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেশি থাকবে। তারপর লিভার এ ট্রাইগ্লিসারাইডকে ফ্যাট হিসেবে অ্যাডিপোজ টিস্যুতে জমা রাখে এবং কিছু অংশকে কোলস্টেরলে রূপান্তরিত করে।

এর ফলে ফ্যাটি খাবার কিছুদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্চ কোলস্টেরল থাকতে পারে। কোলস্টেরলের মতো আপনার কিছু ট্রাইগ্লিসারাইডও প্রয়োজন শরীর সুস্থ রাখার জন্য; কিন্তু বেশি পরিমাণে থাকলে তা শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। এইচডিএল এবং এলডিএল কোলস্টেরল মিলে আমাদের টোটাল কোলস্টেরল তৈরি করে। ভালো কোলস্টেরল রক্তনালিকে সংকীর্ণ হতে বাধা প্রদান করে এবং শরীরকে রক্ষা করে।

এলডিএল বা খারাপ কোলস্টেরল রক্তনালিকে সংকুচিত করে থাকে। এছাড়া তৃতীয় ধরনের একটি কোলস্টেরল আছে যা VLDL কোলস্টেরল নামে পরিচিত। VLDL বলতে বোঝায় ভেরি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন। ভিএলডিএল আরেকটি খারাপ কোলস্টেরল যা আমাদের লিভারে তৈরি হয়। এ ধরনের কোলস্টেরলে বেশি পরিমাণে ট্রাইগ্লিসারাইড বিদ্যমান থাকে। কোলস্টেরল কমানোর ওষুধকে স্ট্যাটিন বলা হয়। স্ট্যাটিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম। স্ট্যাটিন ব্যবহৃত হয় এলডিএল কোলস্টেরল কমানোর জন্য। স্ট্যাটিন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেয় এবং হার্টের রোগীদের সাহায্য করে যেন করোনারি স্টেন্ট ব্যবহার করা না লাগে। স্বল্পমাত্রায় হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে স্ট্যাটিন এ ধরনের সহায়তা করতে পারে।

স্ট্যাটিন টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সামান্য বাড়াতে পারে। সার্বিকভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের মাঝে যারা স্ট্যাটিন গ্রহণ করেছেন তাদের সামান্য পরিমাণে রক্তের সুগার বৃদ্ধি পেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের ওষুধের সঙ্গে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ খেতে হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম্বিনেশন হিসেবে ওষুধ দুটি খাওয়ার কারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার ঠিক করে দেবেন আপনার জন্য কোনো ওষুধটি প্রযোজ্য। ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে ফেনোফিব্রেট গ্রুপের ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখে। ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে তাই এটিকে অবহেলা করা যাবে না। ফাস্টফুড এবং ফ্যাটি খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফ্যাটি খাবার শুধু কোলস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে না বরং ফ্যাটি লিভার তৈরিতে সাহায্য করে থাকে। এ ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস হতে পারে। সুস্থ থাকতে হলে পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে।

লেখক : মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

[email protected]